Sabuj Bangla News বীরগঞ্জে পরিবেশ দিবসে জলবায়ু মোকাবিলায় লেবু গাছ বিতরণ - Sabuj Bangla News

বীরগঞ্জে পরিবেশ দিবসে জলবায়ু মোকাবিলায় লেবু গাছ বিতরণ


নিউজ ডেস্ক জুন ৬, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ন
বীরগঞ্জে পরিবেশ দিবসে জলবায়ু মোকাবিলায় লেবু গাছ বিতরণ

বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র তাপদাহ, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী সবুজ উদ্যোগ। “আসুন বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে নিজেরাই নিজেদের অক্সিজেনের ভাণ্ডার গড়ে তুলি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৫০টি পরিবারের মাঝে লেবু গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যেইে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে বীরগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুজালপুর এলাকায় শিশু, যুব ফোরাম এবং ইম্প্যাক্ট প্লাস এল.এস.বি.ই দলের যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ৫০টি পরিবারের হাতে লেবু গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীরগঞ্জ এপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ম্যানেজার রবার্ট কমল সরকার বলেন, প্রকৃতি আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি বাড়িতে অন্তত একটি করে ফলজ ও ঔষধি গাছ থাকলে তা যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, তেমনি পারিবারিক পুষ্টির ঘাটতি পূরণেও সহায়ক হবে। বিশেষ করে লেবু ভিটামিন ‘সি’ এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর ভ‚মিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, আজকের পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই কেবল সরকারের উদ্যোগ নয়, ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায় থেকেও বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আজ আমরা একটি গাছ লাগালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী পাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বীরগঞ্জ যুব ফোরামের সভাপতি মো. নুরনবী ইসলাম। তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট এখন শুধু প্রকৃতির সংকট নয়, এটি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের বড় সংকট। তীব্র তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও দূষণের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশুদের ওপর। পরিবেশে সিসা দূষণ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি হতে হবে। তাই সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।
আয়োজকরা জানান, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যেইে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারগুলোকে গাছের নিয়মিত পরিচর্যা, সংরক্ষণ এবং ফলজ গাছ রোপণে উৎসাহিত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ সচেতন মহলের অভিমত, বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণ, তীব্র তাপদাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তাদের মতে, একটি গাছ শুধু অক্সিজেন সরবরাহই করে না, বরং কার্বন শোষণ, বায়ুদূষণ কমানো, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ এবং জীববৈচিত্র‍্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। তাই পরিবেশ রক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিতভাবে আরও বেশি বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসা সময়ের দাবি।