Sabuj Bangla News বীরগঞ্জের ১১নং মরিচা ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা - Sabuj Bangla News

বীরগঞ্জের ১১নং মরিচা ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা


নিউজ ডেস্ক জুলাই ২০, ২০২৬, ৮:০৭ পূর্বাহ্ন
বীরগঞ্জের ১১নং মরিচা ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা

উত্তম শর্মা, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ও বীরগঞ্জ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ সহযোগিতায় উপজেলার ১১নং মরিচা ইউনিয়ন বাল্যবিবাহ মুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

(১৫ জুলাই ) দুপুর ১২ টায়, ১১নং মরিচা ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১নং মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিবেদিতা দাস। তিনি তার বক্তব্যে বলেন বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে বাধাগ্রস্ত করে। একইভাবে শিশুশ্রম শিশুদের শৈশব কেড়ে নেয় এবং তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। তাই প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।আমি সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাই, কোনো অবস্থাতেই সন্তানদের অল্প বয়সে বিয়ে দেবেন না এবং শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়তে দেবেন না। শিশুদের স্কুলে পাঠান, তাদের স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করুন। একটি শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্মই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়বে।আজকের এই ঘোষণা যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হয়। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করলে এই অর্জন দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং অন্য ইউনিয়নগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।পরিশেষে, এ মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আসুন, আমরা সবাই মিলে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব সমাজ গঠনে একযোগে কাজ করি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওয়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার রবার্ট কমল সরকার,প্রোগ্রাম অফিসার সাধন দাস সহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, নারী ও শিশুদের অধিকার, শিক্ষার গুরুত্ব এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
এ সময় ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিশু ফোরামের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।