
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর অংশে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) বৃহৎ পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সওজের যৌথ নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ অভিযানে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান, টিনশেড ও বিভিন্ন কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সওজের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী। মাঠে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্যাহ এবং মাধবপুর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা। উপজেলার আল আমিন ফুডফেয়ার এলাকা থেকে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে এসব স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এতে মহাসড়কের দখলকৃত বহু জায়গা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে অবৈধ দোকানপাট, ফুটপাত দখল ও বিশৃঙ্খল যানবাহন চলাচলের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। পাশাপাশি চলমান ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও এসব স্থাপনা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। উন্নয়নের স্বার্থেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে সওজ জানায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, “মহাসড়ক দখল করে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। দ্রুত উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ভূমি অধিগ্রহণের আওতাধীন দোকানপাট ও ঘরবাড়ি শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে। এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবিতে—মহাসড়কের এ অংশে নিয়মিত যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় ভোগান্তি ছিল চরম; উচ্ছেদে তা কমবে। তবে উচ্ছেদ হওয়া দোকানদাররা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া তাদের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মাধবপুর থানার ওসি সহিদ উল্যাহ বলেন, “মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান চলবে। দখলদারি বন্ধে আমরা আরও কঠোর অবস্থানে থাকব।”
আপনার মতামত লিখুন :