
বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি রাস্তার দু’ধার কেটে আবাদি জমিতে সেচ দেওয়ায় জনসাধারণের চরম দুর্ভোগ,বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ।
উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের অর্জনাহার লালপাড়া গ্রামে সরকারি রাস্তা প্রায় ৬/৭ বছর ধরে ড্রেন স্থাপন করে দখলের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনসাধারণের চলাচলের প্রধান পথটি অবমুক্ত করার দাবিতে গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রামবাসী এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। অবিলম্বে রাস্তাটি দখলমুক্ত করে চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাস্তাটি দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ দূর করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপের লক্ষ্যে ওই এলাকার ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী সুমা আক্তার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বীরগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,
দীর্ঘকাল ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের কয়েকশত বিঘা আবাদি জমির ধান,ভুট্টা কৃষি পণ্য সামগ্রী পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই কাঁচা রাস্তাটি সরকারি উদ্যোগে সম্প্রতি মাটি ভরাট করে উঁচু করা হয়। কিন্তু রাস্তাটির দুটি অংশ কেটে ড্রেন স্থাপন করে স্থানীয় মৃত জামাল আলীর
আঃ রশিদ এবং তার ছেলে
আলম মিয়া, মোঃ হাসান, মোঃ হোসেন ও মোঃ তালেবসহ তার পরিবারের লোকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা নওজেস আলী জানান, অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে এই ড্রেন নির্মাণের ফলে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায়ও এর প্রভাব পড়েছে মারাত্মকভাবে।
অর্জুনাহর লালপাড় গ্রামের আসেদ আলী,নুর আলম ও জহুরুল ইসলামসহ প্রায় ৪০-৫০টি পরিবারের মানুষ কৃষকরা ধান ও পাটসহ বিভিন্ন ফসল পরিবহনে এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন। রাস্তা কেটে ড্রেন স্থাপনের কারণে ভ্যান,ট্রাক্টর বা কৃষি যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষকদের পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও রাস্তা ব্যবহার করলে কৃষকদের নানা ধরনের হুমকিধামকি দেয় হচ্ছে। এতে চলাচলের পথও রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, অবৈধ স্থাপনের ফলে বৃষ্টির পানি সরাসরি রাস্তায় পড়ার কারণে রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রাস্তাটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ড্রেন অপসারণের দাবি জানাতে গেলে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের উল্টো মামলা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন জানান,অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :