
মো,সোহরাব আলী, তেতুলিয়া পঞ্চগড় প্রতিনিধি।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান কোটার ঢ়েকি বিলুপ্ত প্রায় জেলার গ্রামে গঞ্জে ঘুরে কৃষকের বাড়িতে কোথাও চোখে পড়েনি ধান কোটার ঢ়েকি। একসময়ের ঐতিহ্য গ্রাম বাংলার মা বোনদের ধান কোটার উৎসব ছিল প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে। মা বোনরা এমনকি বাড়িতে আসা নববধূ শশুর বাড়িতে এসেই ধান কোটে চাউল না করলে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত কারো পেটে ভাত খাওয়া হত না আবার কারো কারো বাড়িতে ঢ়েকি না থাকলে বা নষ্ট হয়ে গেলে তো কথাই নেই। আজ কালের বিবর্তনে সেই ঢ়েকি আর চোখে পড়ে না।ধান ভাঙ্গা যান্ত্রিক মেশিনে ঢ়েকি নামের এই ঐতিহ্য বিলুপ্তপ্রায়। ৯০ দশকেও দু একটি ঢ়েকি চোখে পড়লেও এখন আর গ্রামের সরল শান্ত মানুষের বাড়িতে নেই ঢ়েকি বাজারে মিলছে না এখন আর ঢ়েকি ছাটা চাল। ঢ়েকি ছাটা চালের পুষ্টি গুণ অনেক বেশি থাকলেও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না ঢ়েকি ছাটা চাউল। তেতুলিয়া উপজেলার কাজী এন্ড কাজী বাণিজ্যিকভাবে সাত আটটি ঢ়েকি সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে যান্ত্রিক উপায়ে ঢ়েকি ছাটা চাল উৎপাদন করলেও প্রতি কেজি চালের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ধরে বিক্রি করছে অথচ চাল কল থেকে উৎপাদিত প্রতি কেজি চালের দাম মাত্র ৫০ টাকা থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০/৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধদর্জিপাড়া গ্রামের ইয়াকুব আলী জানান ইয়াকুব আলী জানান ঢ়েকি ছাটা চালের ভাতের মার স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিশালী একটি ওষুধ ছিল কিন্তু কালের বিবর্তনে ঢেঁকি ছাটা চাল হারিয়ে যাওয়ার কারণে অল্প বয়সেই মানুষের বিভিন্ন রোগ বালাই সৃষ্টি হচ্ছে অকালে মরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ আশির দশকে ধান ক্ষেতে কোন কীটনাশক ব্যবহার করা হত না বলে রোগ বালাইও কম হতো। তাই সচেতন মহলের আশা আগামীতে যেন প্রতি ঘরে ঘরেই আবার টেকি ছাটা চাল তৈরির জন্য ঘরে ঘরে ঢেঁকি ব্যবহার করা হয়।
আপনার মতামত লিখুন :