
উত্তম শর্মা, নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘ক্ষুধামুক্ত শিশু, মনোযোগী শিক্ষার্থী—সমৃদ্ধ হবে আগামীর বাংলাদেশ’—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ৬০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৪ হাজার ৯৯৮ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।
জেলার ঘোড়াঘাট, বিরামপুর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ ও বিরল উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে জেলার ৩৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় কর্মসূচিটির কার্যক্রম চলছে।
কর্মসূচির আওতায় প্রতি সপ্তাহে চার দিন শিক্ষার্থীদের দুই পিস করে বনরুটি, তিন দিন একটি করে সিদ্ধ ডিম এবং এক দিন একটি করে কলা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পুষ্টিকর খাবার শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, শারীরিক বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ে পাঠে মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি উপজেলায় ১৯২ জন নারী উদ্যোক্তা সিদ্ধ ডিম ও কলা সরবরাহ করছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মসূচির কার্যক্রম পরিদর্শন করা হয়।
কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কেয়া রাণী রায় ও জুনায়েদ হাসান জানায়, স্কুলে ডিম, কলা ও বনরুটি পেয়ে তারা খুশি। পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় ক্ষুধা মিটছে এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারছে বলেও জানায় তারা।
জয়নন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমাছ হুসেন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়েছে। টিফিনের সময় পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিশুরা আনন্দিত থাকে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠে মনোযোগী হতে পারছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধেও কর্মসূচিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাহারোল উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও পাঠে মনোযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং ঝরে পড়ার প্রবণতাও কমছে।
তিনি বলেন, কর্মসূচিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়ে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পাঠে মনোযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ঝরে পড়ার প্রবণতা কমাতেও কর্মসূচিটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। শিশুদের পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
আপনার মতামত লিখুন :