1. admin@sabujbanglanews.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. uttam.birganj14@gmail.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস - সবুজ বাংলা নিউজ
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি দিবস

বার্ত ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৪

দয়ারাম রায় :

মহান মে দিবস শ্রমিক শ্রেনীর আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের দিন। সমাজে বিদ্যমান ক্ষুধা, দারিদ্র, বঞ্চনা, শোষন-লুন্ঠন, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শ্রেনী চেনতা বৃদ্ধি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে শ্রমিক শ্রেনীর আন্তর্জাতিক সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার লক্ষে শ্রমিক শ্রেনী এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে। বিপরীত পক্ষে বুর্জোয়া শ্রেনী সহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী এই দিবসের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণ যোগ্যতাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার লক্ষ্যে মে দিবসকে মালিক-শ্রমিকদের সংহতি দিবস হিসেবে তুলে ধরে। এভাবে তারা শ্রমিক ও শ্রমজীবি জনগনকে বিভ্রান্ত করতে চায়।আমেরিকার শিকাগো শ্রমিক শ্রেনিকে বর্জ্র কঠিন ইস্পাত হতে শিখিয়েছে, পৃথিবী জয় করতে শিখিয়েছে। আজ শুধু শ্রেনী সচেতন করার জন্য ঐক্য দরকার। বিশ্ব শ্রমিক এক কাতারে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।তাইতো “দুনিয়ার মজদুর এক হও” আন্তজার্তিক শ্লোগান শ্রমিকের রক্তে ভেজা লাল পতাকা উর্দ্ধে তুলে ধরতে হবে। আন্দোলন ছাড়া শ্রমিক শ্রেনীর কোন পথও খোলা নেই। শ্রমিক শ্রেনীর হারাবার কিছু নেই জয় করার আছে সাড়া পৃথিবী। শ্রমিক শ্রেনীর শুরুটা রক্ত দিয়ে ১৮৮৬ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে জার সরকার স্বতর্স্ফূত ভাবে শ্রমিক আন্দোলনের উপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা যজ্ঞ চালায়। এক সময় শ্রমিকদের কারখানায় শ্রমিকদের মেশিনের সঙ্গে কোমরে শিকল লাগিয়ে দিয়ে কাজ করানো হতো; এ অমানুষিক শ্রম। যাহা বিবেক হীনতা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠে। ১৮৮৬ সালের ১লা মে আমেরিকার শিকাগো শহরে ধর্মঘট সফল ভাবে পালন হয়। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলতে থাকে। ৩রা মে পরিকল্পিত ভাবে শ্রমিকদের হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়। ৪ঠা মে হে মার্কেটের স্কোয়ারে বিশাল শ্রমিক সমাবেশে পুলিশ বিনা উস্কানিতে লাঠি ও গুলি চালায়। শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। আমাদের দেশে শ্রমিকরা এক দিকে যেমন দাবীর আদায়ের আন্দোলন করছে অন্য দিকে শিল্প রক্ষায়ও ভূমিকা রেখেছে। মহাযুদ্ধের সময় মালিকরা তদানিয়ন্ত্রন পূর্ব বাংলার শিল্প কারখানা ভালো করে দিয়েছিল তখন সুতা কলের শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে কারখানা চালিয়ে ফ্যাসিষ্ট জার্মানীদের বিরোধী সহযোগী শক্তির যুদ্ধাহতদের ব্যান্ডেস ইত্যাদি ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জামাদী তৈরি করে দিয়েছে। বাংলাদেশে করোনা কালে কারখানায় মাস্ক তৈরি করছে শ্রমিকরা। করোনা ভাইরাসের জাতীয় দূ-দিনে কৃষি শ্রমিকরা হাওড় অঞ্চলে সরকারের ডাকে করোনা মহাসংক্রামক ব্যাধী উপেক্ষা করে ধান কাটতে গিয়েছে। ১৯৯৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন ও গুলিতে নিহত মনু মিয়া এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ অন্যান্য আন্দোলনে অংশ গ্রহনের মাধ্যমে আমাদের দেশে শ্রমিকরা প্রমান করল ট্রেড ইউনিয়ন রাজনৈতিক আন্দোলন হতে বিছিন্ন হতে পারে না। ১৯৭০,১৯৮০,১৯৮৬,১৯৯১ সাল অন্যান্য সময় উল্লেখ্যযোগ্য আন্দোলন করেছে শ্রমিকরা। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার ক্ষমতায় এসেই মার্শাল জারি করে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরন সহ মিছিল মিটিং করা নিষিদ্ধ করে দেয়, কিন্তু সামরিক শাসন জাতীর ৫ মাসের ব্যবধানে সামরিক আইনকে উপেক্ষা করে চট্রগ্রাম পাহাড়তলী ওড়া, কর্মপথে নৌবাহিনীর শ্রমিকদের রক্তে রঞ্জিত আন্দোলনের ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৮ ঘন্টা কাজের দাবী আদায় হয়। বহু প্রতিষ্ঠানে কাজের ঘন্টা কমানো হয়। অন্যদিকে ১৮৮৬ সালের শ্রমিক আন্দোলনে, গ্রেফতারকৃত শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি ও কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। ১৮৮৯ সালে আন্তজার্তিক শ্রমিক কংগ্রেসে ৮ ঘন্টা শ্রম দিবসের দাবী আদায়ে শিকাগো শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও আন্তজার্তিক সমিতি প্রকাশের জন্য প্রস্তাব গৃহিত হয় যে, ১লা মে সার্বজনীন ভাবে পালিত হবে। পরবর্তী বছর থেকেই ১লা মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঐক্যবদ্ধভাবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯২০ সালের দিকে পরবর্তীকালে সুতাকল সহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা দাবী আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে থাকে। এই সময় গড়ে উঠা ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ অধিকাংশ স্থানে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় গোপনে-গোপনে মে দিবস পালিত হয়। ১৯৩৮ সালে নারায়নগঞ্জে মে দিবস পালনের খবর পাওয়া যায়। পূর্ব পাকিস্থান আমলে ঐক্যবদ্ধ ও পৃথক পৃথক ভাবে প্রতি বছর উৎসাহ উদ্দিপনার মাধ্যমে মে দিবস পালিত হয়। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে মহান মে দিবস পালিত হয়। ঐ দিনে জাতীর উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১লা মে কে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষনা করেন। এতে দেশের শ্রমিক শ্রেনীর বহুদিনের প্রত্যাশা ও দাবী পূরণ হয়। বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন বৃট্রিশ সময় কাল থেকে হামলায় পনু মিয়া হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে এরশাদ তথা সাময়িক শাসন বিরোধী জঙ্গী আন্দোলন গড়ে উঠে। যেমনটি ঘটেছিল এরশাদ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনে শ্রমিক মিছিলে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা শহীদ তাজুল হত্যার মধ্যে দিয়ে। আমাদের দেশের মালিক ও সরকার সর্বদা ট্রেড ইউনিয়নকে তাদের পকেট সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ফলে দেশের দায়িত্বশীল ট্রেড ইউনিয়নের পরিবর্তে গড়ে উঠেছে মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদী ট্রেড ইউনিয়ন। স্বাধীনতার পর আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য দিক হচ্ছে কারখানা শিল্প প্রতিষ্ঠানে মহিলা শ্রমিক কর্মচারীদের অংশগ্রহন। আমাদের দেশে কু-সংস্কার সর্বস্ব পশ্চাদপদ দেশ। কিন্তু জীবিকা অর্জন তথা জীবন ধারনের তাগিদে সমাজের সকল পশ্চাদ পদ চিন্তা ও প্রতিক্রিয়াশীল ধনবাদীদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে দেশের নারী সমাজ কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে। এদেশের প্রকৃত পক্ষে উল্লেখ্যযোগ্য কর্মশক্তি হচ্ছে নারী শ্রমিক। পুঁজিবাদের বিশ্বায়নের প্রক্রিয়ায় কোষাঘাতে শ্রমিকরা দিশহারা। অপর দিকে বাজার অর্থনীতি নামে সন্তা শ্রমের বিনিময়ে চলছে পুজি আহরন। উদার অর্থনীতি করনের নামে পুজিবাদের বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে বেকারত্ব দারিদ্র মুক্ত, সামাজিক ন্যায় বিচার ও প্রতিষ্ঠার দাবীতে ঐক্যবন্ধ হতে হবে শ্রমিকদের। মে দিবস শ্রমিক শ্রেনীর গর্ব। অনুপ্রেরনা ও শপথ নেওয়ার দিন।

আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।