1. admin@sabujbanglanews.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. uttam.birganj14@gmail.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ নতুন স্বপ্নে শুরু হোক শুভ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ - সবুজ বাংলা নিউজ
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ নতুন স্বপ্নে শুরু হোক শুভ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বার্ত ডেক্স
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৪

সাংবাদিক, লেখক, দয়ারাম রায়, দিনাজপুর

বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ
নতুন স্বপ্নে শুরু হোক শুভ নববর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্বঙ্গাব্দ
বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ। এ দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিম বঙ্গে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি বাঙ্গালির একটি সার্বজনীন লোক উৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতিক হলো নববর্ষ। অতিতের ভূল ক্রটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। এদিন সরকারী বেসকারী সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।
অনেক বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে আজ শহর থেকে গ্রামে পৌছে গেছে অসাম্প্রদায়িক বৈশাখ বরণ। ২০০১ সালে ছায়ানটের ঐতিহাসিক অনুষ্টানে বোমা বিস্ফরিতো হয়েছিল, প্রাণ হারিয়েছিল অনেকে। ধর্মীয় জঙ্গীগোষ্ঠীর এই অপতৎপরতা দমিত করতে পারেনি অসাম্প্রদায়িক বাঙ্গালিকে।
পরের বছর নতুন উদ্যমে ছায়ানট বর্ষ বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ পুরনো বছরের জরাজীর্ণতাকে মুছে ফেলে ঐক্য ও অসম্প্রাদয়িকতার বানী নিয়ে একই বন্ধনে মিলিত হয় জাতি। সব ভেদাভেদ ভুলে দল মত জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সবাই উৎসব আনন্দ করে নেবে বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ কে। ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতি বছর বাঙ্গালির আবহমান সাংস্কৃতি ও ঐতিয্যের নানা দিক তুলে ধরে মানুষের অনাবিল সুখ-সমৃদ্ধি ও মঙ্গলালোক কামনা করে মঙ্গল শোভা যাত্রার আয়োজন করে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। ২০১৬ সালে ৩০ নভেম্বর জাতি সংঘের সংস্থা ইউনেস্কো মঙ্গল শোভা যাত্রাকে মানবতার অধরা বা অস্পশনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিয্যের তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছে। ১৯৬৭ সালে থেকে ২০২৪ এ বছরে বাঙ্গালীর নববর্ষ উৎযাপনের ৫৭ তম বছর। দীর্ঘ সময়ের এই যাত্রায় রক্ত ঝড়েছে বাঙ্গালীর কিন্তু পিছু ঘটেনি অসম্প্রদায়িক শক্তি। বাঙ্গালীর সব অর্জন অসাম্প্রদায়িক আওয়ামীলীগ সরকার তথা শেখ হাসিনার বলিষ্ট নেতৃত্বের, নবজীবন রুপে লাভ করে পহেলা বৈশাখ। আজ আর রমনার বটমূলে থেমে নেই পহেলা বৈশাখ, আজ শহর থেকে গ্রামে পৌঁছেছে। সাম্প্রদায়িক কিছু গোষ্ঠী দল পহেলা বৈশাখের চরম বিরোধিতা করে। সাধারন মানুষের মাঝে বিষ-বাস্প ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্ঠা করে। সরকারের বলিষ্ট নেতৃত্বে তাহা পরাভূত হয়। যারা বিষ-বাস্প তৈরি করে তাদের প্রতি সময়ের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। তবে আজ প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক শক্তির সংখ্যা অনেক বেশি। পহেলা বৈশাখ অবাঙ্গালি সম্রাট আকররের সৃষ্টি হলেও বাঙ্গালির জীবনে পরম পাওয়া, যদিও বৈশাখ সৃষ্টিতে কাউকেও জীবন দিতে হয়নি। ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালে জীবন দিতে হয়েছে। সম্রাট আকবরের শাসনামলে নিজ প্রয়োজনে তিনি পহেলা বৈশাখ সৃষ্টি করেন তা হলো জমির বাৎসরিক খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে এই দিন-ক্ষন নির্ধারন করেন। আর অবহমান বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতি ধারা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে। সাহিত্যপত্র সমকাল- এর সহযোগিতায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গনে প্রথম পহেলা বৈশাখ মেলার আয়োজন করা হয়। এ মেলা আয়োজনে বড়ন্যে চিত্র শিল্পি কামরুল হাসান, ফোকলোরবিদ শামসুজ্জামান খান সহ আরো অনেকের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। প্রথমবারের আয়োজিত এই মেলায় প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল বাঙ্গালির ঐতিয্য নানাভাবে মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া। এ চেষ্ঠা যে আজ অনেক সফল হয়েছে তাহা অনেকের অজানা হয়। আর পান্তা ইলিশের সূচনা হয় ১৯৮৩ সালের রমনার বটমূলে। যতদূর জানা, রমনা বটমূলের পান্তা ইলিশের উদ্যোক্তা দৈনিক জনকন্ঠের সাংবাদিক বোরহান আহম্মেদ। তার প্রস্তাবে কয়েক জন সহযোগী মিলে ৫ টাকা করে চাঁদা তুলে পান্তা ইলিশের আয়োজন করা হয় পহেলা বৈশাখে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাজার করা হলে রান্না হয় রাতে ভাত রেধে পান্তা তৈরি করে, কাঁচা মরিচ, পেয়াজ, ইলিশ ভাজা নিয়ে পরদিন ভোরে হাজির হয় তারা, রমনার বটমূলে রেষ্টুরেন্টের সামনে। মুহুত্বের মধ্যে শেষ হয় পান্তা ইলিশ। এভাবে যাত্রা শুরু পান্তা ইলিশের। অপর এক তথ্যে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে জোড় সাকোঁর ঠাকুর বাড়িতে প্রথম পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান করা হয়। বর্তমানে আধুনিকতার দোহাই আর পশ্চিমা সাংস্কৃতির অশুভ ছোবলে দিনে দিনে হারাতে বসেছে অবহমান বাংলার নিজস্ব সাংস্কৃতিক এ সব ঐতিয্যধারা। কৃষকরা আজ বৈশাখের সমালোচনা করে বলেন, কৃষকের সাংঙ্কিতে বাবু ও সাহেবদের বিলাশী পান্তা ইলিশ।
# সাংবাদিক, লেখক, দয়ারাম রায়, দিনাজপুর।

আরও সংবাদ
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।