1. sbnews2016@gmail.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. uttam.birganj14@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  4. info@wordpress.org : __ : __
মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুর এপি ওয়ার্ল্ড ভিশন-বাংলাদেশের আয়োজনে হতদরিদ্র পরিবারের সফলতার গল্প, বার্ষিক প্রতিফলন ও মূল্যায়ন বিষয়ক কর্মশালা বীরগঞ্জের ৮নং ভোগনগর ইউনিয়ন সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির সভা বীরগঞ্জে পল্লীতে ভেষজ চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা, চলছে জ্বিনের বাদশার ভেলকিবাজী বীরগঞ্জে পল্লীতে ভেষজ চিকিৎসার নামে চলছে প্রতারণা, চলছে জ্বিনের বাদশার ভেলকিবাজী আন্তর্জাতিক নদী দিবসে বীরগঞ্জে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা দুর্গা পুজা উদযাপন উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় পুজা আনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টিকারী যেই হোক না ছাড় দেয়া হবে না আমরা ধার্মিক হতে চাই, কিন্তু ধর্মান্ধ যেন না হই -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি বীরগঞ্জে মিনা দিবস পালিত নীলফামারীর ডোমারে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বীরগঞ্জে নতুন আঙ্গিকে চলছে চিলকুড়া গোরস্থান উন্নয়নের কাজ বীরগঞ্জ প্রবীণ আ.লীগ নেতা আবুল কালাম এর নামাজের জনাজা অনুষ্ঠিত সকল ধর্মের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিধানে আওয়ামী লীগ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি ‌ডিমলা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ নামে অপপ্রচার সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং গোলাপগঞ্জ বাজার, আউটলেট এর শুভ উদ্বোধন অযোগ্য নেতৃত্বই বিএনপিকে অযোগ্য রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছে -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি

বীর উত্তম সি আর দত্ত: স্যালুট হে যোদ্ধা

বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০
  • ১০০ জন দেখেছেন

আমাদের গৌরব স্তম্ভগুলো ধসে পড়ছে একে একে। জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম একসময় থেমে যাওয়া। সে নিয়মে পরিণত বয়সে অসাধারণ একটি জীবন যাপনের পর বিদায় নিয়েছেন চিত্ত রঞ্জন দত্ত, যাকে জাতি চেনে বীর সি আর দত্ত নামে।

তখনকার দেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক না। পাকিস্তান রাষ্ট্রটির জন্মই হয়েছিল ধর্মান্ধতার কারণে। উপমহাদেশের দুইটি দেশ ভারত আর পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকেই শুরু সাম্প্রদায়িকতা। এই মানুষটির পাকিস্তানে থাকার কথা না। তার জন্মও হয়েছিল ভারতের শিলংয়ে। কিন্তু হবিগঞ্জের মানুষ কি আর দেশ ছেড়ে অন্য দেশে উদ্বাস্তু হতে পারে?

১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি আসামের শিলংয়ে জন্ম নেন চিত্ত রঞ্জন দত্ত। তার পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে। তার বাবার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র দত্ত এবং মায়ের নাম লাবণ্য প্রভা দত্ত। শিলংয়ের লাবান গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। পরে তার বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে হবিগঞ্জে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯৫১ সালে চিত্ত রঞ্জন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিছুদিন পর সেকেন্ড লেফটেনেন্ট পদে কমিশন পান তিনি। ১৯৬৫ সালে সৈনিক জীবনে প্রথম যুদ্ধে লড়েন। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আসালংয়ে একটি কম্পানির কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ করেন। ওই যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য পাকিস্তান সরকার তাকে পুরস্কৃত করে। বাংলাদেশ রাইফেলসের প্রথম ডিরেক্টর জেনারেল ছিলেন সি আর দত্ত। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি হেড কোয়ার্টার চিফ অব লজিস্টিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ১৯৭৯ সালে বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ১৯৮২ সালে তিনি পুনরায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৮৪ সালে তিনি অবসর নেন।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে একজন হিন্দু অফিসার কীভাবে থাকেন বা কীভাবে তার কাজ করতে পারেন সেটা গবেষণার বিষয়। কিন্তু তিনি পেরেছিলেন। এবং ভারত পাকিস্তান যুদ্ধে ও অংশ নিয়েছিলেন পাকিস্তানের হয়ে। কাশ্মীর প্রশ্নে দুই দেশের সেই যুদ্ধ এখনো ইতিহাসের এক জটিল বিষয়। সে জটিলতায় তার আনুগত্য বা যোদ্ধা সত্ত্বা মার খায় নি। তবে এটা বলতেই হবে পরিবেশ তার অনুকূলে ছিল না। সেটা স্পষ্ট হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধের সময়।

তিনি আমাদের দেশকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে এক পাও পিছিয়ে থাকেন নি। ভারতে চলে গিয়ে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার পদে আসীন হবার পর তিনি যে বীরত্ব আর কৌশল উপহার দিয়েছিলেন তার তুলনা বিরল। সিলেটের চা বাগান এলাকায় তিনি যুদ্ধ সংগঠিত করা ছাড়া ও পুরো একাত্তরেই ছিলেন সক্রিয়। আর সেই সক্রিয়তার কারণেই দেশ স্বাধীন হবার পর তার ললাটে জুটেছিল বীরোত্তম খেতাব। এরপরের ইতিহাস মূলত তাকে আরও নন্দিত আর উজ্জ্বল করেছে। কারণ দেশ স্বাধীন হবার পর আমরা আর আমাদের আদর্শ বা চেতনায় থাকতে পারিনি। জিয়াউর রহমানের মতো সেক্টর কমান্ডার কিংবা আরো অনেকের পাল্টি খাওয়া ইতিহাস বিকৃতি দেশকে ফেলে দিয়েছিল অন্ধকারে। আজ আমরা বীরোত্তম কাদের সিদ্দিকী-কে দেখলে চিনতে পারি না। বুঝতে পারি না ইনিই কি সেই বাঘা সিদ্দিকী যাকে আমরা বেয়নেট হাতে রাজাকার নিধনে দেখেছিলাম?

সি আর দত্ত তার অবসর জীবনে এদেশের দুর্বল সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার আগে এদেশে যখন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আর সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সরকার রাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে চাইছিল তখন তিনি সামনে এসে দাঁড়ান। তার ভাবমূর্তির দুইটি দিক ছিল। একদিকে লড়াকু মুক্তিযোদ্ধা অন্যদিকে একজন বীর। তাই তাকে অবহেলা বা এড়িয়ে চলা ছিল যে কারো জন্য অসম্ভব । একবার তিনি তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে গিয়ে অপ্রীতিকর অবস্থায় পড়েন। তখন খালেদা জিয়ার রমরমা ।

দেশবিরোধী অপশক্তি ঘিরে ছিল তাকে। তাকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, কেউ কিছু করতে পারবে না। সে সময় তিনি যান প্রতিনিধিদলের নেতা হয়ে। বেগম জিয়া মুখের ওপর পা তুলে বসে বাজে করে কথা বললে বেরিয়ে এসে তিনি জানিয়েছিলেন- মুখের ওপর বলে এসেছেন যে খালেদা জিয়ার স্বামীও কখনো এমন করতো না। এও বলেছিলেন- এভাবেই পতন ত্বরান্বিত হয় শাসকের। তার কথা কতোটা সত্য, তা এখন আমরা চোখেই দেখতে পাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের সাথেও ছিল অম্লমধুর সম্পর্ক। সত্য কথা বললে যা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গেলে তারাও ছেড়ে কথা বলেনি। কিন্তু এটা মানতেই হবে তার জায়গায় তিনি ছিলেন অটল। এদেশের সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন আজীবন। এমন সাহসী সৎ বাঙালি এখন আর চোখে পড়ে না। পরিণত বয়সে চলে গেলেও তার অভাব অনুভূত হবে দীর্ঘকাল। যতোদিন গণতন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতা আর সাম্যের দেশ না হচ্ছে ততোদিন তার মতো মানুষদের অভাব ঘুচবে না। আর ইতিহাসে তার তারকাখচিত জায়গাটি চিরকালের।

সবুজ বাংলা নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে বিদায়ী প্রণাম বীর সি আর দত্ত আপনাকে।

 

 

 

 

সেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )