1. sbnews2016@gmail.com : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. support@wordpress.org : Support :
  3. uttam.birganj14@gmail.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৮:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুরে সামাজিক কর্মকান্ড ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুবদের ভূমিকা শীর্ষক জনসচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বীরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত বীর মুক্তিযোদ্ধা তরনী কান্ত রায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বীরগঞ্জে আনন্দ র‌্যালি দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বীরগঞ্জে আনন্দ র‌্যালি বীরগঞ্জে সরকারি আদেশকে বৃদ্ধা আংগুল দেখিয়ে স্কুল পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল দিনাজপুরের কাহারোলে বোরো ধান সংগ্রহে উন্মুক্ত লটারিতে নির্বাচন শুকুর আলী মন্ডলের গ্রেফতার ও অপহৃতাকে দ্রুত উদ্ধারের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত দিনাজপুরের কাহারোলে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত দিনাজপুরের খানসামা এবং চিনিরবন্দর উপজেলায় উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মসংস্থান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন – ডিআইজি শাফিউর রহমান বিরামপুরে বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন অপহরণ হওয়ার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি গৃহবধু রিপা অধিকারীকে বীরগঞ্জে ভূট্রা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে প্রতিবন্ধী কে হত্যার অভিযোগ বীরগঞ্জে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান-৭৪ জাত এর মাঠ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত বিরামপুরে ভাতের হোটেলের আড়ালে মাদক ব্যবসাঃ মা ও দুই মেয়ে আটক

বাঙলা নববর্ষ – বাঙালির প্রাণের উৎসব

বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২০
  • ৮৮ জন দেখেছেন

বিকাশ ঘোষ :

পহেলা বৈশাখ, বাঙলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাণের এক উৎসব। সারাবিশ্বে অবস্থানরত বাঙলাদেশ ও ভারতের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত বাঙালি মেতে ওঠে এ উৎসবে। নানা অনুষঙ্গে পালিত হয় বাঙলা নববর্ষ। মঙ্গল শোভাযাত্রা, মেলা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাঙালির ঘরে ঘরে খাবার মেন্যুতেও পালিত হয় এ উৎসব। একদম গোঁড়া বাঙালি মুসলমানও এ-দিন বাসায় উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করে থাকে। ইদ যেমন মুসলমানের, পূজা তেমন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ; কিন্তু পহেলা বৈশাখ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবারই। বাঙলা পঞ্জিকাতেও কাকতালীয়ভাবে রয়েছে ভারতবর্ষের বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলমানের মিলিত অবদান।

বাঙলা নববর্ষ উদযাপন নিয়ে বর্তমান বাঙলাদেশে ধর্মীয় বিভাজনের প্রশ্ন ওঠে আসছে বারবার। কিন্তু এটা কোন ধর্মীয় উৎসবও নয়, কোন ধর্মীয় বিষয়ও নয়। খেলার মাঠে প্রিয় দলের জয়ের জন্য মুসলমানরা আল্লাহর দরবারে হাত তোলে, হিন্দুরা ভগবানের কাছে করজোড় হয়; তাই বলে খেলাটা হিন্দুও হয়ে যায় না মুসলমানও হয়ে যায় না। বাঙালির এই উৎসবে কেউ পূজাও দিতে পারে, কেউ মোনাজাতও ধরতে পারে। এটা কোন ধর্মীয় উৎসব নয়, আবহমান বাঙালির সবার উৎসব। বাঙলা পঞ্জিকার ইতিহাস ঘাটলে সেখানেও কোন ধর্মের গন্ধ আমাদের নাকে লাগে না। বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলমানের সম্মিলিত প্রয়াস রয়েছে আমাদের এই বাঙলা বর্ষপঞ্জিতে।

বাঙলা পঞ্জিকার উপস্থিতি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো হলেও ব্যাপকভাবে বাঙলা নববর্ষ উৎসবের ইতিহাস মাত্র পঞ্চাশ বছরের। বাঙালি সংস্কৃতির উপর পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের আগ্রাসন প্রতিরোধের মানসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো ‘ছায়ানট’। সে ‘ছায়ানট’-এর উদ্যোগে ১৯৬৭ সাল থেকে ঘটা করে পালিত হতে থাকে বাঙলা নববর্ষ। স্বাধীন সার্বভৌম বাঙলাদেশ সৃষ্টির পরপরই এটি ভিন্ন মাত্রা পায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বর্তমান নববর্ষ উদযাপনের প্রধান অনুষঙ্গ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ চালু হয় ১৯৮৯ সাল থেকে। উদ্দেশ্য গ্রামীন জীবন ও আবহমান বাঙলাকে ফুটিয়ে তোলা এবং তা ক্রমে পরিণত হয় বাঙালির সর্বজনীন লোক উৎসবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার এ উৎসবের গুরুত্ব অনুধাবন করে ইতোমধ্যেই(২০১৬) জাতিসংঘের ইউনেস্কো বাঙলা নববর্ষ উৎসবকে ঘোষণা করে ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসাবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাঙলাদেশ সরকার বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতাদানের লক্ষে ইতোমধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রদান করছে ‘বাঙলা নববর্ষ উৎসব ভাতা’!

বাঙলা নববর্ষের প্রবর্তন নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে, রয়েছে তীব্র মতপার্থক্যও। এ অঞ্চলের মানুষ বিশ্বাস করে বাঙলা নববর্ষের প্রবর্তন করেন বিখ্যাত মুঘল সম্রাট আকবর(১৫৪২-১৬০৫)। কিন্তু এটি ইতিহাসের সর্বৈব সত্য বিষয় নয়। তিনি কেবল বাঙলা সন গণনার একটি সংস্কারের কাজই করেছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। সেটা কর, খাজনা, শুল্ক পরিশোধের নিমিত্ত। মুঘল সম্রাটরা রাজকীয় কাজে হিজরি সনের উপরই নির্ভরশীল ছিলো। কিন্তু চান্দ্র বছর ৩৫৪/৩৫৫ দিনে হওয়ায় বিপত্তি দেখা দেয়। কৃষিকাজ ও খাজনা উত্তোলনের সুবিধার্থে প্রয়োজন পড়ে সৌর বর্ষপঞ্জির। সম্রাট আকবরের আমলে অন্তত ২০টি পঞ্জিকার প্রচলন ছিলো। তাদের একটিকে নিয়ে ইরান হতে আগত বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজির মাধ্যমে নতুন ‘তারিখ-ই-ইলাহী’ বর্ষপঞ্জির প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে বঙ্গাব্দ হিসাবে প্রচলিত হয়।

সম্রাট আকবর ১৫৮৪ সালে এটি চালু করলেও তা কার্যকর হিসাবে ধরা হয় তার সিংহাসন আরোহনের বছর ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৯৬৩ হিজরিতে। এটা ঠিক যে, সম্রাট আকবর হিজরি ৯৬৩ খ্রিস্টাব্দকেই নতুন বর্ষপঞ্জির ৯৬৩ সাল ধরেছিলেন। একটা সহজ হিসাবের মাধ্যমে আমরা তা প্রমাণ করতে পারি। ১৪২৬ থেকে ৯৬৩ বিয়োগ করলে বিয়োগফল হয় ৪৬৭ সৌর বছর, অর্থাৎ ১৬৯১১১ দিন। চান্দ্রবছর যেহেতু ৩৫৪/৩৫৫ দিনে, সেহেতু ১৬৯১১১ দিনকে ৩৫৪.৫ দিয়ে ভাগ করলে হয় ৪৭৭ চান্দ্রবছর। ৯৬৩ ও ৪৭৭ যোগ করলে বর্তমান হিজরি সন ১৪৪০ পাওয়া যায়।

সম্রাট আকবরের সাল গণনাটি বর্তমান বঙ্গাব্দে বিদ্যমান থাকলেও মাসের নামগুলো আকবরের মতো নেই। সম্রাট আকবরের বর্ষপঞ্জিতে মাসের নামগুলো ছিলো ফারসিতে – কারওয়ারদিন, আর্দিবিহিশত, খুরদাদ, তীর, আমারদাদ, শাহারিবার, ভিহিসু, আবান, আজার, দে, বাহমান ও ইসফান্দামিজ। বাঙলা বর্ষপঞ্জিতে সম্রাটের আকবরের পাশাপাশি শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ও সুলতান হোসেন শাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্বীকার করেন বিভিন্ন ব্যক্তি। অনেকে মত দেন যে, গৌড়ের রাজা শশাংকের আমলে ৫৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে বাঙলা সন গণনা শুরু হয়। ২০১৯ থেকে ৫৯৩ বিয়োগ করলে ১৪২৬ই হয়। যদিও শশাংক কর্তৃক বঙ্গাব্দ গণনার জোরালো কোন প্রমাণ আমাদের হাতে নেই। গবেষকরা মনে করেন বাঙলা বর্ষপঞ্জির ইতিহাস আরো পুরনো। ৫৪৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দের ‘বৌদ্ধ পঞ্জিকা’, ৫৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দের সম্রাট বিক্রমাদিত্যের ‘বিক্রম সাম্বাত পঞ্জিকা’ এবং ‘বাঙলা পঞ্জিকা’ মূলত একই। বর্তমান বাঙলা বর্ষপঞ্জির ১২ মাসের নাম আর এগুলোর মাসের নাম এক ও অভিন্ন। যদিও তখন লিখিত ফর্মে বাঙলা ছিলো না, ব্যবহার করা হতো সংস্কৃত ফর্ম। বাঙলা বর্ষপঞ্জির ইতিহাস বলতে গেলে ২৫৬৪ বছর পুরনো, যেখানে অবদান আছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলমান শাসকদের সম্মিলিত উদ্যোগের।

বাঙালির সবচেয়ে বড় গৌরব, সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন সার্বভৌম বাঙলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠা। এই রাষ্ট্রের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই আত্মপরিচয়ের প্রশ্নে গর্ব করে বলেছিলেন “… আমি বাঙালি, আমি মানুষ, আমি মুসলমান।” সবকিছুর উর্ধ্বে প্রথম পরিচয়েই আমরা বাঙালি – এ উপলব্ধির মাধ্যমেই আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারি একটি অসাম্প্রদায়িক স্বপ্নের বাঙলাদেশ। বাঙলা নববর্ষ উৎসব আমাদের চেতনার মশাল হিসেবে প্রজ্জ্বলিত থাকুক অনন্তকালব্যাপি।

সবাইকে বাঙলা নববর্ষ ১৪২৭-এর শুভেচ্ছা।

সেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )