এক হাত এক পায়ে ৫ সদস্যের ভার এক হাত এক পায়ে ৫ সদস্যের ভার – সবুজ বাংলা নিউজ
  1. [email protected] : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. [email protected] : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বীরগঞ্জে মন্দিরের শৌচাগার নিমার্ণ কাজের উদ্বোধন মুখে মাস্ক না থাকায় রিকসা চালকের মাথা ফাটালো ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী উলিপুরের বিশিষ্ট সমাজ সংস্কারক দার্শনিক এর ৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত বিরামপুর মহিলা কলেজ পরিদর্শন ও মাস্ক বিতরণ করলেন ইউএনও বীরগঞ্জে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভা কাহারোলে শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের নৌকা প্রত‍্যাশি সুজাউল হক সবুজ মুখে মাস্ক না থাকায় রিকসা চালকের মাথা ফাটালো ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতাকর্মী বীরগঞ্জ সরকারি কলেজে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে বীরগঞ্জ শুভসংঘের নতুন কমিটির যাত্রা শুরু রানীশংকৈলে ভাঙা কালভার্টে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল রাণীশংকৈলে কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ শিশু অধিকার, শিশু নিরাপত্তা, উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ (সিফোরডি) ও শিশু নেতৃত্বের কর্মশালা তাকেদা হেলদি ভিলেজ প্রজেক্ট এর প্রকল্প কার্যক্রম সমাপনী ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান বাল্যবিবাহ রোধে কিশোর কিশোরীদের আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল ডোমারের জোড়াবাড়ী ইউপি নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবলীগ নেতা আজাহারুল ইসলাম জুয়েল

এক হাত এক পায়ে ৫ সদস্যের ভার

তাপস কুমার, নাটোর
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ১২৭ জন দেখেছেন

বয়স তখন মাত্র ১৭ বছর। একটি বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় বাঁ হাত ও বাঁ পা কাটা পড়ে। তার বাবা মৃত জব্বর আলী ফকির ছিলেন একজন অতিদরিদ্র কৃষক। অভাবের কারণে সঠিক চিকিৎসাও করতে পারেননি তখন। তারপর থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ।

বলছিলাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামের শারীরিকভাবে পঙ্গু মিজানুর রহমানের কথা।

মিজানুরের তিন ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে ইয়াদুল ইসলাম (১১) তাকে কাজে সহযোগিতা করে। মেজ ছেলে রাজিকুল ইসলাম (৭) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ও ছোট ছেলে রাজিবের বয়স ১ বছর এবং ৪ বছরের মেয়ে আজমিরা প্রতিবন্ধী।

জানা যায়, অন্যের জমির কৃষিপণ্য ঘোড়ার গাড়িতে বহন করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালান মিজানুর রহমান (৫০)। ৩৩ বছর আগে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় তার বাঁ হাত ও বাঁ পা কাটা পড়ে। তবু থেমে নেই তার জীবন। ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে আয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। কোনো কোনো দিন কাজ থাকে না। শেষ সম্বল বলতে তিনটি ঘোড়া ছাড়া আর কিছুই নেই।

মিজানুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, পঙ্গুত্ব আমাকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। কারও কাছে হাত না পেতে নিজের জীবিকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। সেই থেকে অদম্য শক্তি নিয়ে এখনো ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।

সরকারি কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি পরিশ্রম করে সংসার চালিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু সরকারিভাবে আমাকে সহযোগিতা করা হলে আমার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা করাতে পারব।

একসময় তিনি ভাঙ্গুরা উপজেলায় ঘোড়ার গাড়ি চালাতেন। এখন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ী গ্রামে ঘোড়ার গাড়িতে ধান বহন করেন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অন্যের জায়গায় একটি ঝুপড়ি ঘর করে বসবাস করছেন মিজানুর রহমান।

প্রতিবেশী বুলবুলি বেগম বলেন, মিজানুর একজন পঙ্গু মানুষ। তার একটা মেয়েও প্রতিবন্ধী। আপনারা তাদের দিকে একটু নজর দিন। যাতে তিনি তার পরিবার নিয়ে সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারেন।

মিজানুর রহমানকে আশ্রয়দাতা জামেলা বেগম ঢাকা পোস্টকে জানান, মিজানুর রহমানকে তার জায়গায় আশ্রয় দিয়েছেন মানবিক দিক থেকে। কেননা সমাজে এখনো অনেক মানুষ সুস্থ থাকার পরও সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে জীবন পার করছেন। কিন্তু মিজানুর রহমান তা করেননি।

মিজানুর রহমানের বড় ছেলে ইয়াদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা ঘোড়ার গাড়ি চালান। কোনো রকম আমরা খেয়ে না-খেয়ে বেঁচে আছি। আমরা অর্থের অভাবে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারি না।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার এমন ঘটনা জানা ছিল না। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে সহযোগিতা করা হবে এবং আমি ব্যক্তিগতভাবেও তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Web Designed By : Sabuj Bangla News Team