গাইবান্ধার মুর্শিদের বাজার বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সহ ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ – সবুজ বাংলা নিউজ
রবিবার ৬ ডিসেম্বর ২০২০, অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

গাইবান্ধার মুর্শিদের বাজার বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সহ ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

মোঃ নুর আলম মিয়া গাইবান্ধাঃ সদর উপজেলার মালিবাড়ি ইউনিয়নের অধীনে মুশিদের বাজার নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ও ম্যানেজিং সাবেক সভাপতি আঃ মজিদ মিয়া ও বর্তমান সভাপতি জাহিদুল ইসলাম লিংকন কর্তৃক একে অপরের সহযোগিতায় ২৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ সহ ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মতিক্রমে নিম্নমান সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আর্থিক সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ১০ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

এর মধ্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার খিদির গ্রামের জাহেদুল ইসলাম (বর্তমান সভাপতি) এর স্ত্রী শরীফা আক্তারকে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে ১২ লক্ষ টাকা চুক্তি করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর/২০১৮ ইং তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন।

অবশিষ্ট ৭ লক্ষ টাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিশোধ করবে মর্মে দফারফা হয়।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ মজিদ গোপনে অন্য প্রার্থী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রিপুর বাড়ইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ এর পুত্র মিঠু মিয়ার কাছে উপরি বকশিশ হিসেবে ৩ লক্ষ টাকাসহ মোট ১৮ লক্ষ টাকা চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গোপনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আঃ মজিদ সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করেন।

এদিকে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি/২০১৮ ইং তারিখে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ১টি পদের বিপরীতে বেশ কয়েকজন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নেয়ার কথা ফাঁস হলে প্রার্থী শরীফা আক্তার ১৪ ফেব্রুয়ারি/২০১৯ ইং তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেন।

কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ৮ মাস গত হলেও প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ২০টি খরচের খাত দেখিয়ে হাতে লেখা একটি চিরকুট/ভাউচার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে হস্তান্তর করেন।

চিরকুট/ভাউচারে উল্লেখিত খাতগুলো হলো- ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ মজিদ একাই ৬ দফায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে মাঠেরহাট ঈদগাহ মাঠে ১ লক্ষ টাকা, বিদ্যালয়ের মাঠে ৫০ হাজার টাকা, গোডাউন বাজার ইউনিয়ন ভবনের বারান্দায় ৫০ হাজার টাকা, দারিয়া পুর অজগরের বাড়িতে ২ লক্ষ টাকা, আজাদ মাস্টারের ঘরে ১ লক্ষ টাকা, তার নিজস্ব বাড়িতে ৫০ হাজার টাকা।

বিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধ করতে তাহেরুলকে ৭০ হাজার, আনারুলকে ৬০ হাজার, মিঠু মিয়াকে ৩৯ হাজার টাকা, বিদ্যালয়ের জানালা দরজা নির্মান ও বাউন্ডারি ৫৫ হাজার টাকা, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও দাতা মালেক প্রামাণিককে দেন ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, জনৈক জেলা নেতাকে দেন ৫২ হাজার টাকা, দারিয়াপুরের জনৈক সাংবাদিককে দেন ৪০ হাজার টাকা ও অন্য সাংবাদিককে দেন ৫ হাজার টাকা, স্থানীয় বাজার, টি-স্টলসহ বিভিন্ন খাতে সহকারী শিক্ষক আজাদ মাস্টারকে ৪ দফায় ১ লক্ষ টাকা, সহকারী শিক্ষক তৈবর হোসেনকে দেন ১০ হাজার টাকা, অফিস পিয়ন আঃ রহিমকে ৫ হাজার টাকা, ডিউককে ৫ হাজার, এন্তাজ আলি(চাঁন মিয়া)কে ৫ হাজার, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন বাবদ ১৪ হাজার টাকা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া পত্রিকা ক্রয় করতে ২৫ হাজার টাকা, ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়নে জেলা শিক্ষা অফিসকে ম্যানেজ ২৪ হাজার টাকা, উপজেলা শিক্ষা অফিস ম্যানেজ ১০ হাজার টাকা ও নিয়োগ পরীক্ষা বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা।

নির্ভরশীল সুত্র জানায়, সাবেক সভাপতি আঃ মজিদ এর ভাতিজা জাহেদুল ইসলাম লিংকন বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ায় তার স্ত্রী শরীফা আক্তার কর্তৃক জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা অভিযোগের বিষয়ে রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে।

ফলে উল্লেখিত প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক ও বর্তমান সভাপতির যোগসাজশে বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন কাজ না করে পুরো টাকা তৎসংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষসহ আত্মসাৎ করায় অবশেষে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে ৩০ জন ব্যক্তি স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্র গত ২০ অক্টোবর/২০১৯ ইং তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করেন এবং একই অভিযোগের অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার; গাইবান্ধা, জেলা দূর্নীতি দমন কমিশন; গাইবান্ধা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার; গাইবান্ধা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার; গাইবান্ধা বরাবর দাখিল করা হয়।

শুধু তাই নয়, উক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ অত্যন্ত নিন্দনীয় হওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত চিন্তা করে উক্ত বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনেকেই অনিহা প্রকাশ করে থাকেন বলে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম লিংকন স্বীকার করেছেন। গত ৪ নভেম্বর/২০১৯ ইং তারিখে সভাপতির মতামত জানতে তার মুখোমুখি হলে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীর সংখ্যা হাজিরা খাতায় ২ শতাধিক দেখানো হলেও ৬ষ্ট শ্রেণিতে ৯ জন, ৭ম শ্রেণিতে ৫ জন ও ৮ম শ্রেণিতে রয়েছে ১৩ জনসহ মোট ২৭ জন ! অতঃপর অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সরোয়ার হোসেন এর মতামত জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৭২৭-২১২৬৭৯ এ যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলার সময় নেই বলে মোবাইল কেটে দেন, তার পরও এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বেশ।

আরও সংবাদ

সৈয়দপুরে সিনেমার সুটিং স্পটে আগুন

সৈয়দপুরে সিনেমার সুটিং স্পটে আগুন মোঃ রাব্বি ইসলাম আব্দুল্লাহ সংবাদদাতা নীলফামারী নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিনেমার সুটিংকালে …