করোনা ও বন্যায় অর্থনৈতিক ঘাটতি ধানচাষে  পোষানোর চেষ্টা ব্যর্থ – সবুজ বাংলা নিউজ
শনিবার ৫ ডিসেম্বর ২০২০, অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

করোনা ও বন্যায় অর্থনৈতিক ঘাটতি ধানচাষে  পোষানোর চেষ্টা ব্যর্থ

সিরাজগঞ্জ: চলতি বছরের করোনা,  ৫ দফা ভয়াবহ  বন্যায় ও নিম্নচাপের প্রভাবে জেলার ৭ টি উপজেলায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। করোনা, বন্যা ও নিম্নচাপের কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আমন চাষিরা। কৃষকরা কখনো ভাবতেও পারেননি বন্যা ও কার্তিকের নিম্নচাপ এত দীর্ঘমেয়াদী হবে। বিস্তীর্ণ মাঠে আমন ধান হেমান্তের বাতাসে দোলা খাচ্ছেছিল আবার আমন ধানের ক্ষেত সবুজ থেকে মাঠ ভরা কাঁচথোর কথাও আবার সোনালি শীর্ষে  বর্ণ ধারণ করেছে  আর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই মাঠের ধানগুলো কাটা মাড়াই শুরু হবে। আবার কোন কোন জায়গায় আগাম জাতের কাটা শুরু হয়েছে। কেহ কেহ অলরেটি ধান কেটে গোলায় বিষ ফোঁড়া তৈরি করেছে। গোলায় নতুন ধান তোলা ও কৃষকের নবান্ন উৎসবের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে কার্তিকের তান্ডব মুষলধারে একটানা আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি সেই সঙ্গে দমকা বাতাসে জেলার সব উপজেলায় সবজি ক্ষেত, পাকা ও অধাপাকা ধান মাটিতে পাটি জোরানোর মত শুয়ে পড়েছে। এই অসময়ে কার্তিকের বৃষ্টি ও বাতাসে শীতের আগাম সবজিও ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘাম ঝরানো স্বপ্নের ফসলে এমন দৃশ্যে নিবার্ক কৃষক। যা কয়েক দিন আগেও দিগান্ত মাঠ জুড়ে পাকা – আধাপাকা আমন ধানের ক্ষেত দেখে জুড়ে যাচ্ছাছিল কৃষক – কৃষাণীর মন ও প্রাণ। বাম্পার ফলন পাওয়ার আশায় কৃষকের মুখে হাসি ফুঠে উঠেছিল আজ তা নিমেষেই শেষ। এখন আশানুরূপ ফলন পাওয়া তো দূরের কথা গবাদিপশুর খড় নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা। সলঙ্গার কৃষক ফারুক আহমেদের তিন বিঘার আগাম জাতের ধান কেটে জমির মধ্যে রেখেছেন। গত বৃহঃপতিবার বিকাল থেকে দির – রাত বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে ধান বাড়ি আনতে পারেনি। তা পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে।    আর এক বিঘা আধা পাকা ধান পানির নিচে লেপ্টে গেয়েছে। ইদ্রিস আলী  জানান, আর  ৮ – ১০ দিনের পরই তার ক্ষেতের ধান কাটার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ও বাতাসে ধানের গাছ যেভাবে হেলে পড়েছে, তাতে আশানুরূপ ফলন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। করোনা ও বন্যায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা আমন চাষে করে ঘুরে দাঁড়ানোর সব চেষ্টা অমলান করে দিলো অসময়ের কার্তিকের তান্ডব।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন,  বৃষ্টি ও বাতাসে অনেক জমির আমন ধান মাটিতে নুয়ে গেছে। সেই সব হেলা পড়া ধানগুলো প্রতি চারটি গোছা এক সঙ্গে হালকা করে বেঁধে দাঁড়িয়ে রাখতে হবে, যাতে ধানের গোছাগুলো পানি থেকে ওপরে থাকে। তা হলে ফলনের কোনো ক্ষতি হবে না। রোদ উঠলে ধানগাছ আবার উঠে দাঁড়াবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা, ৫ দফা বন্যা, পানিনিস্কাশন বন্ধের কারণে সিরাজগের সলঙ্গা, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও উল্লাপাড়ার শত শত একর জমির পানির নিচে পড়ে আছে বিনা আবাদে। তাছাড়া খাদ্যে ঘার্তিসহ কার্তিকের তান্ডবেে দেউলিয়া হওয়ার পথে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। কর্মহীন হতে পারে কয়েক কোটি মানুষ। বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংক ও মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঋণের জালে আটকে যাবে গ্রামাঞ্চলের মধ্যমআয়ের  ও নিম্ন আয়ের মানুষ। করোনা, ৫ দফা বন্যা ও অসময়ে কার্তিকের তান্ডবেে জমির ধান ও সাকসবজি নষ্টতে অর্থনৈতিক ও খাদ্যে ঘার্তি এমনকি কর্ম সংকটে বেকার দিনমজুর ও ম্যবিত্তরা।
সিরাজগঞ্জ রায়গঞ্জের কৃষক শ্রী গনেশ, দুঃখ করে বলেন, হামারগুলো কপালে মনে হয় আর ভাত জোটবের নয় বাহে। বানের পানিতে ডুবে যাওয়া কোমর ভাঙা ধানের গাছগুলো জমিতে লেপটে গেয়েছে ধান ধান তো দূরে থাক গুরু খেড় নিয়ে চিন্তা করছি বাহে। ধার দেনা করে ধানের গাছগুলো ভাসে তুল লুং। হুর হালকা বাতাসে ধানের খেত মাটিতে সুতি গেইছে। কয়েক দিন গেইলে খেতগুলো হামড়া কাটলং হয়। এ্যালো দেনা ধাপা শোধ করমো, না হামড়া ধান খমো তা নিয়ে ভাব চোং বাহে।
  • 11
    Shares

আরও সংবাদ

আগামীকাল ৪ঠা ডিসেম্বর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: ৪ ডিসেম্বর দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার …