বীরগঞ্জে চা চাষের আগ্রহ বেড়েই চলেছে – সবুজ বাংলা নিউজ
মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১, পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

বীরগঞ্জে চা চাষের আগ্রহ বেড়েই চলেছে

প্রদীপ রায় জিতু: কয়েক বছর আগেও দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর কোথাও চা বাগানের অস্তিত্ব ছিল না। গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। সম্প্রতি এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সমতল অঞ্চলও। এসব চা বাগান থেকে স্থানীয় উদ্যোক্তারা সাফল্য পাওয়ায় ওই অঞ্চলজুড়ে চা আবাদের আগ্রহ বেড়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চলের এসব জেলার আবহাওয়া চা চাষের উপযোগী হওয়ায় দেখা দিয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও।
উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় সদরসহ তেঁতুলিয়ার উঁচু সমতল ভূমিতে অর্থকরী ফসল সবুজ চা চাষে দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট জমির পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষের জমির পরিমাণ ১৬ হাজার হেক্টর। এই স্বল্প পরিমাণ চাষের জমি খনন করে নুড়ি পাথর উত্তোলনসহ বৃহত্ত্ ও ক্ষুদ্র পরিসরে বর্তমানে চা বাগান করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিবছর প্রায় ২ হেক্টর করে ধান চাষের জমি হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় প্রায় ১৪৯৫ হেক্টর জমিতে সবুজ চা বাগান গড়ে উঠেছে।
তেঁতুলিয়ায় চা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির পিছনে নানা কারণ রয়েছে। চাষিদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, সবুজ শাক সবজি, আলু, মূলা, কপি, টমেটো ইত্যাদি জাতের রবিশস্য ও ধান চাষ করে কাংখিত দাম পাওয়া যায় না। তাছাড়া বাজারজাতকরণ সমস্যার কারণে কৃষক এসব ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছে। অন্যদিকে হিমালয় বেষ্টিত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের তুলনায় চা গাছের ফলন ভালো। সঠিক মূল্যে উৎপাদিত চা পাতা বিক্রি সহজ হওয়ার কারণেও চা চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। সিলেট ও চট্টগ্রামে প্রতি হেক্টরে গড়ে সাড়ে তিন মেট্রিক টন ফলন হলেও তেঁতুলিয়া-পঞ্চগড়ে প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় আট মেট্রিক টন কাঁচা চা পাতা উৎপাদিত হচ্ছে।
সূত্র মতে, দেশের উন্নয়নে বিরাট অবদান রেখে চলেছে ফসলটি। এতদিন সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামে চা চাষ হতো। কিন্তু গত দশকের মাঝামাঝি সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বৃহত্তর দিনাজপুরের জেলাগুলোও। সর্বশেষ দিনাজপুরের বীরগঞ্জের সুজালপুর ইউনিয়নের সমতল এলাকায় এ ফসল চাষে সাফল্য পেয়েছেন বদরুল দোফা। এতে পুরো দিনাজপুরে এ ফসল চাষের এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার দেখাদেখি আরো অনেকেই লাভজনক এ ফসলটি আবাদের আগ্রহী হয়ে উঠছেন দিন দিন।

বীরগঞ্জের সুজালপুর ইউনিয়নের কুমোরপুর গ্রামের ডা: বদরুল দোফা এ বছরের শুরুর দিকে আট একর জমিতে চা চাষ শুরু করেন। এরই মধ্যে সাফল্যের দোড় গোড়ায় গেছেন তিনি। সেখানকার ম্যানেজার আব্দুল আকবর জানান, জমি প্রস্তুত করে চারা রোপণে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ টাকা। চা চাষে পরিচর্যা ছাড়া তেমন কোনো খরচ নেই। গাছের বয়স দুই বছর হলে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকার চা পাতা বিক্রি করা যাবে।
তিনি বলেন, এখানকার মাটি চা চাষের উপযোগী। তবে চা গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে, সেজন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। প্রচন্ড রোদে ছায়া দিতে বাগানের মাঝে মাঝে নিমগাছ লাগিয়েছি। খরার সময় পাইপের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে দিতে হয় গাছে। বছরে দু’বার সার ব্যবহার করলেই চলে। এখানে জৈব সার বেশি ব্যবহার করি।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাকৃৃতিকভাবে সমৃদ্ধ দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিতে এরই মধ্যে আঙ্গুর, মালটা, কমলাসহ বিভিন্ন ফলদ ফসলের আবাদ ভালো হচ্ছে। এর মধ্যে বীরগঞ্জের তিন কৃষক চায়ের আবাদ শুরু করেছেন। এখানে চা আবাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনাও রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চা চাষের অনুকূল থাকায় চায়ের উৎপাদন ভালো হওয়া সম্ভব। তবে এজন্য নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত পানি সেচসহ সব বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।

আরও সংবাদ

দিনাজপুরের কাহারোলে শীতবস্ত্র বিতরণকালে বক্তারা কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ,সবুজ বাংলা নিউজ॥- কৃষক ও কৃষিকে বাঁচাতে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কৃষকের দোড় …