ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসিয়ে স্বপ্ন পূরণ! – সবুজ বাংলা নিউজ
বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১, পৌষ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসিয়ে স্বপ্ন পূরণ! (ছবি : দৈনিক অধিকার)

ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসিয়ে স্বপ্ন পূরণ!

সবুজ বাংলা নিউজ

সবুজ বাংলা নিউজ এর সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন- ০১৭৮৩২৫৫৭৩৯

User Rating: 5 ( 2 votes)

কারও হাতে খুন্তি-কোদাল আবার কারও হাতে ব্যাগ। সদ্য ফসল সাফ হওয়া ক্ষেতে অনুসন্ধিৎসু দুটি চোখ খুঁজে ফিরছে ইঁদুরের গর্ত। আর সেই ইঁদুরের গর্তে জমানো ধানেই ভাগ বসাচ্ছে তারা। ক্ষেতে পড়ে থাকে ধানের শিষের মালিকানাও যেন তাদের। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে একই দৃশ্য।

এভাবেই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে ঝরে পড়া ধান কুড়ানো আর ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান বের করার কাজে ব্যস্ত দিন অতিবাহিত করছেন হতদরিদ্র পরিবারের নানা বয়সী মানুষসহ শিশুরা। যাদের নিজস্ব জমি নেই কিংবা কোনো জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করতে পারেনি। তারাই এসব ধান কুড়িয়ে নিয়ে নিজেদের শখ বা আশা আর স্বপ্ন পূরণ করে থাকেন।

প্রতিদিনই ধান কুড়ানো শিশুরা দল বেঁধে ছুটে যায় ফসলের মাঠে। এমন এক দলের ব্যস্ত শিশু রুবেল ও পারুল। দূর থেকেই সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর ধানের শিষ তুলছে। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

তাদের সাড়া গায়ে লেগে আছে ছোপ ছোপ কাঁদামাটির দাগ। কিন্তু সে দিকে কে তাকায়!

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ছোট শিশুরা হাতে ডালা, চালুন, খুন্তি, কোদাল ও ব্যাগ নিয়ে নেমে পড়ছে মাঠে। ইঁদুরের গর্ত খুড়ে বের করে আনছে তাদের মজুদ করা ধান। কেউ আবার পরিত্যক্ত ক্ষেতের নাড়ার সঙ্গে থাকা ধান কুড়াচ্ছে। সংগৃহীত এই ধান একসঙ্গে বিক্রি করে কেউ কিনবে নতুন জামা, কেউ নতুন বই। আবার কেউবা ধান বিক্রি করে সঙ্গে সঙ্গে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে মিঠাই-মন্ডাসহ বাহারি খাদ্য কিংবা হরেক রকম সামগ্রী কিনছে।

ধান কুড়ানো শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাঠের ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার পর অনেক ধানের শিষ এমনিতেই পড়ে থাকে। সেগুলো কুড়াই। এছাড়া ইঁদুরের গর্ত খুঁড়লে পাওয়া যায় ধান।

শিশু রুবেল জানায়, সময় পেলেই ধান কুড়াতে মাঠে চলে যাই। এই ধান কুড়িয়ে আমরা এক জায়গায় জমা করি। যখন পরিমাণে বেশি হয় তখন তা বিক্রি করি।

ইঁদুরের জমানো ধানে ভাগ বসিয়ে স্বপ্ন পূরণ!

ইঁদুরের জমানো ধান কুড়াচ্ছে হতদরিদ্র একটি পরিবার (ছবি : সবুজ বাংলা নিউজ)

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই ছোট ছোট শিশুরা মাঠে চলে আসে। আমাদের ধান কাটার পরে নাড়ার (ধান গাছের গোড়া) সাথে দুই এক গোছা ধান থাকলে সেগুলো তারা কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের বউ-ঝি এবং ছেলে-মেয়েরা দল বেঁধে ধান কুড়িয়ে নিচ্ছেন।

বিষয়টিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দা সিফাত জাহান সবুজ বাংলা নিউজকে জানান, কৃষকরা ধান কাটার সময় দুই একাটা ধানের ছড়া ক্ষেতে পড়ে থাকে। ওই ধানের ছড়া এলাকার দরিদ্র শ্রেণির শিশুরা কুড়িয়ে নেয়। এছাড়া অনেক শিশুরা ক্ষেতে ইঁদুরের গর্তে হাত দেয়। এটা নিরাপদ নয়। গর্তে সাপ থাকতে পারে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষকরা ক্ষেতের ধান কাটলে মাঠে ধান পড়ে থাকবে না। এতে কৃষকরা উপকৃত হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আরও সংবাদ

বীরগঞ্জ থানার এসআই আবু হাসনাত জামান বিভাগীয় শ্রেষ্ট ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার নির্বাচিত

  বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার এসআই আবু হাসনাত জামান রংপুর বিভাগীয় ওয়ারেন্ট …