৯ শিশু শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় পালিত হলো শোকাবহ ৬ষ্ঠ বার্ষিকী ৯ শিশু শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় পালিত হলো শোকাবহ ৬ষ্ঠ বার্ষিকী – সবুজ বাংলা নিউজ
  1. [email protected] : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. [email protected] : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ১২:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু শোকাবহ আগষ্টের প্রথম প্রহরে জেলা ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অবৈধ ভাবে ভারত থেকে ফেরার পথে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ৭ বাংলাদশী আটক বীরগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতে ব্রীজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ ,দুর্ভোগে এলাকার ৫০ হাজার মানুষ বীরগঞ্জে নব- গঠিত ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্বলন বীরগঞ্জে জাতীয় শোক দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্ততিমুলক সভা অনুষ্ঠিত শোকাবহ আগস্টের প্রথম সন্ধায় বীরগঞ্জ ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা শোকাবহ আগষ্টের প্রথম প্রহরে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড এবং আফগানিস্তান ৫৮ বছরে পা রাখল গৌরীপুর সরকারি কলেজ বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনঃ সভাপতি অন্তু ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মুর্শিদ ধর্ম নিরপেক্ষতাই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পরিচয় -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি উলিপুরে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত মুনসুর আলী গ্রেপ্তার গার্মেন্টস খোলার খবরে যাত্রীদের ঢল বীরগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত -১, ইউপি সদস্য সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৯ শিশু শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় পালিত হলো শোকাবহ ৬ষ্ঠ বার্ষিকী

বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
  • ৫০ জন দেখেছেন

মোঃ হাসানূল কবীর, খুলনা ব্যুরো চীফঃ

মুজিবনগর শিক্ষা-সফর এ যেয়ে ফেরার পথে যশোরের চৌগাছায় বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিশু শিক্ষার্থী। নিহতদের স্মরণে আজ ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে বেনাপোলে শোক-র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ই ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ৯টার সময় বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে এ শোক-র‌্যালি ও সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রধান- মোস্তাক হোসেন স্বপনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- যশোর- ৮৫/১ শার্শা আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দীন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ আব্দুর রব, যশোর জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল ও অহিদুজ্জামান অহিদ, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুল ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সর্দার ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার আলী মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন জোয়ার্দার ও সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ প্রমুখ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। এসময় নিহত শিশু শিক্ষার্থীদের শোকাহত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনের মধ্যে ছিল সকাল সাড়ে ৯টায় শোক-র‌্যালি, সাড়ে ১০টায় স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্পণ এবং পরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী মুজিবনগর শিক্ষা-সফর শেষে বাসে করে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছা সড়কে বাস উল্টে দুর্ঘটনায় বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আরো ১৯ শিক্ষার্থী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ দিন পর মারা যায় আরও ৩ জন শিক্ষার্থী। সেদিনের সেই মৃত্যুর মিছিল কাঁদিয়েছিল বেনাপোলবাসীসহ গোটা দেশের মানুষকে। প্রতিবছর এ দিনটিতে বেনাপোলে শোক-র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়ে থাকে। স্কুলটির সামনে নিহত ৯ শিশু শিক্ষার্থীর স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে বেনাপোল পৌরসভা।

শিক্ষার মান উন্নয়নে দীর্ঘ ১১টি বছর ধরে আমি ধূলাবালি আর কাঁদামাটিকে উপেক্ষা করে নিজ ব্যবসায়িক সময় বিসর্জন দিয়ে শার্শা উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের মাঠে ময়দানে বসে মায়েদের নিয়ে মা সমাবেশ করেছি। অনুভব করেছি শিক্ষিত জাতি গঠন ছাড়া এদেশের উন্নয়ন কখনও সম্ভব নয়। তাইতো শিক্ষার বিপ্লব ঘটাতে প্রতিনিয়ত মায়েদের রান্না খাওয়ার সময়ে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় ভিক্ষা চেয়েছি। বলেছি, প্রত্যেক ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বেলে আমাকে “একটি করে সু-সন্তান দাও”। বিনিময়ে আমার সকল ধরণের সহযোগীতা শার্শাবাসীর পাথেয় হয়ে থাকবে। শনিবার সকালে বেনাপোল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অত্র স্কুলের শিক্ষা-সফর ট্রাজেডিতে নিহত ৯ শিশু শিক্ষার্থীর স্মরণে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কান্না জড়িত কণ্ঠে একথা বলেন শেখ আফিল উদ্দিন-এমপি। উক্ত স্মরণ সভায় তিনি আরও বলেন, শার্শাবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম তাদের সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠিয়ে সুসন্তানে পরিণত করতে হবে। আশায় বুক বেঁধেছিলেন সকল মায়েরা-বাবারা। সন্তানকে বলেছিলো তোকে ডাক্তার বানাবো, ইঞ্জিনিয়ার বানাবো, দেশের বড়ো অফিসার বানাবো। কিন্তু অমানিশার এক ঘোর অন্ধকারে যখন ৯টি শিশু লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরল তখন কে দেবে তার মাকে শান্তনা? দু’নয়নে কেবল জল, বাবা হতবাক, বুকফাটা আর্তনাদে আঁছড়ে পড়ছে মা! এই বলে আর কথা বলতে পারেননি সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন। মাঝে-মধ্যে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন আর উপস্থিত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও মা-বাবাদের কাঁদিয়ে ফেললেন। ঘটনার ৬ বছর অতিবাহিত হলেও এ যেন সদ্য শিশু সন্তান হারানোর বেদনায় আবারো শোকের মাতম বয়ে যায় বেনাপোল জুড়ে। ক্ষণিকের জন্য হলেও শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় আকাশ-বাতাস। মনের অজান্তে হলেও উপস্থিত প্রত্যেক মানুষের হৃদয় দুমঢ়ে-মুচড়ে ফেটে বের হয়ে যায় ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার ঢেউ। যে আঁখিতে এতোদিন লুকিয়ে ছিল জল, তা যেনো বাঁধভাঙ্গা নদীর মতো উপচে বেয়ে পড়তে লাগলো। এসময় চশমা খুলে ছোখের কোণা মুছে আধো আধো বোলে শেখ আফিল উদ্দিন এমপি বলেন ক্ষমা করে দিও মা। আমরা পারিনি তোমার আদরের সোনামণি সুরাইয়া, জেবা, মিথিলা, রুনা আক্তার মীম, শান্ত ও সাব্বির হোসেন আঁখিকে বাঁচাতে। তবে এখন থেকে শার্শা উপজেলার আর একটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্তরে শিক্ষা-সফরে যাবেনা।

  • 15
    Shares
এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Web Designed By : Prodip Roy