তেঁতুলিয়ায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা! তেঁতুলিয়ায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা! – সবুজ বাংলা নিউজ
  1. [email protected] : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. [email protected] : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৭:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেখ কামাল তাঁর কর্মময় জীবন বাংলাদেশের তরুণদের জন্য উৎসর্গ করে গিয়েছেন -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি শেখ কামাল তারুন্যের প্রেরণা ও দৃষ্টান্ত -মনোরঞ্জন শীল গোপাল এমপি কুড়িগ্রামে পাউবো প্রকৌশলীর বদলির দাবিতে তিস্তার ভাঙ্গনে নিঃস্ব গ্রামবাসীর মানববন্ধন রংপুর বিভাগের তিন জেলায় করোনা বিষয়ে সচেতনতামূলক সাংবাদিকদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হাতিবান্ধায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন মাদ্রাজি ওল চাষে স্বপ্ন দেখছে বীরগঞ্জের কৃষক প্রেম হরি বিরামপুরে অসহায় দুস্থ পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ পোড়ামাটি স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন কান্তজিউ মন্দির বীরগঞ্জে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মামলায় গ্রেফতার -১ কাহারোলে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কাহারোল উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন বীরগঞ্জ উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভা নিখোঁজের ৩ বছর পর ভারতীয় এক যুবককে উদ্ধার করলো সিআইডি নিখোঁজের ৩ বছর পর ভারতীয় এক যুবককে উদ্ধার করলো সিআইডি বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কাহারোল উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন গৌরীপুরে ‘গরীবের ডাক্তার’ সুনীল আচার্য্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

তেঁতুলিয়ায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা!

বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১২৪ জন দেখেছেন

ভারতের দার্জিলিং বা নেপাল যেতে হবে না! বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা থেকেই দেখা যাচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার নৈসর্গিক রূপ। দুই-তিন দিন ধরে সকাল-বিকাল উপভোগ করা যাচ্ছে এটি। এজন্য দূরবীন বা বাইনোকুলারের প্রয়োজন নেই। দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখে হিমালয় ও কাঞ্চনজক্সঘার নানান রূপ দেখা যাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে হলেও মেঘ আর কুয়াশামুক্ত উত্তর-পশ্চিম আকাশে তাকালে মনে হবে চোখের সামনেই সাদা পাহাড়। বিশেষ করে ভোরের আকাশে বরফ আচ্ছাদিত নয়নাভিরাম পর্বতটি দেখা বেশ উপভোগ্য। কখনও তা রুপালি চকচকে রূপ ধারণ করে।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সূর্য ওঠার পর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। সূর্যকিরণের তেজ বৃদ্ধির সঙ্গে এটি স্পষ্ট চোখে পড়েছে। এদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই দৃশ্যমান ছিল এই পর্বত। তারপর সময় গড়ানোর সঙ্গে ঝাপসা হয়ে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। তবে শেষ বিকালে সূর্যকিরণ যখন তির্যক হয়ে বরফের পাহাড়ে পড়ে তখন অনিন্দ্য সুন্দর হয়ে ধরা দেয় এর সুউচ্চ চূড়া।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রহিদুল ইসলাম রহিদ সবুজ বাংলা নিউজকে বলেন, ‘আকাশ মেঘমুক্ত থাকা এবং উত্তরবঙ্গে সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ কমে যাওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হচ্ছে।’

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পর্যটকরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলা শহরের টাইগার হিলে ভিড় করেন। পর্বতটির চূড়া দেখার সবচেয়ে জুতসই জায়গা এটাই। কেউ কেউ সান্দাকপু বা ফালুট যান। অনেকে সরাসরি নেপালে গিয়ে এটি উপভোগ করেন।

অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শীতের মেঘমুক্ত নীলাকাশের নিচে দেখা যায় তুষারাচ্ছাদিত শ্বেতশুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। ফলে আশেপাশের জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। তেঁতুলিয়া থেকে চোখের সামনে এই অপূর্ব দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন তারা।

বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার ওপর দিনের প্রথম সূর্যকিরণের ঝিকিমিকি এককথায় অতুলনীয়। পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই ভ্রমণপিপাসুরা প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন! ঊষালগ্নে কাঞ্চনজঙ্ঘার রোদ যেন এসে ঠিকরে পড়ে পর্যটকদের চোখে! খালি চোখে এর রুপালি বিচ্ছুরণ দেখার অভিজ্ঞতা অন্যরকম বলছেন অনেকে।

একই অঙ্গে অনেক রূপ হিমালয়ের সর্বোচ্চ পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘার। প্রথমে কালচে, এরপর ক্রমে টুকটুকে লাল, কমলা, হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে এটি। উত্তরের আকাশে নয়নাভিরাম হিমালয় মূলত বরফে ঢাকা সাদা মেঘের মতোই। সেই সঙ্গে রয়েছে পিরামিডের মতো কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া।
তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারের পাশেই শেখ ফরিদ স্টোর। এর মালিক শেখ ফরিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, দুই-তিন দিন ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। কিছু পর্যটক ইতোমধ্যে এটি উপভোগ করেছেন। তিনি মনে করেন, খবর ছড়িয়ে পড়লে পর্যটকদের ঢল নামবে তেঁতুলিয়ায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য চোখে পড়ার কথা বন্ধুবান্ধবদের জানিয়েছি। তারা তেঁতুলিয়ায় আসছে।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন থেকে নেপাল মাত্র ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার, শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার।

বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু হওয়ায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। বাংলাবান্ধা থেকে নেপাল ৬১ কিলোমিটার, এভারেস্ট শৃঙ্গ ৭৫ কিলোমিটার, ভুটান ৬৪ কিলোমিটার, চীন ২০০ কিলোমিটার, ভারতের দার্জিলিং ৫৮ কিলোমিটার ও শিলিগুড়ি ৮ কিলোমিটার ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব মাত্র ১১ কিলোমিটার!
তেঁতুলিয়া রওশনপুরের কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক এ কে এম ওয়াহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিদিনই মাঝে মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। চা বাগান, আনন্দ ধারা ও কাঞ্চনজক্সঘা দেখতে এখানে অনেক পর্যটক ভিড় করেন। পুরোপুরি শীত নামলে তাদের সমাগম বাড়ে।’

কাঞ্চনজঙ্ঘা নেপাল ও সিকিমের সীমান্তে অবস্থিত। পৃথিবীর উচ্চতার দিক থেকে প্রথম সারির যে তিনটি পর্বত হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত সেই তালিতায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার বা ২৯ হাজার ২৯ ফুট। তালিকায় দ্বিতীয় পর্বত পাকিস্তনের কেটু’র উচ্চতা ৮ হাজার ৬১১ মিটার বা ২৮ হাজার ২৫১ ফুট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার উচ্চতা ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার বা ২৮ হাজার ১৬৯ ফুট।

১৯৫৫ সালের ২৫ মে ব্রিটিশ দুই পবর্তারোহী জো ব্রাউন ও জর্জ ব্যান্ড প্রথমবার কাঞ্চনজঙ্ঘায় আরোহণ করেন। ১৯৮৬ সালের ১১ জানুয়ারি পোলিশ পর্বতারোহী শিস্তফ ইয়েলিস্কি শীতকালে প্রথম এর চূড়ায় ওঠেন। ওই বছরেই একই নজির স্থাপন করেন তার স্বদেশি ইয়াজি কুকুজকা। ২০১৪ সালের মে মাসে পর্বতটিতে উঠেছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কিম চ্যাঙ-হো। আর গত ১৫ মে এতে আরোহণ করেন নেপালের নির্মল পূর্জা।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় কিংবা তেঁতুলিয়া অথবা বাংলাবান্ধায় সরাসরি দূরপাল্লার কোচ (দিবারাত্রি) যাতায়াত করে। ঢাকা থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী বা নাবিল পরিবহন এবং বিআরটিসির এসি/নন-এসি বাস রয়েছে। এসব যানবাহনে চড়ে তেঁতুলিয়ায় চলে আসা যায়।

বিকল্প হিসেবে ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসা যায়। এরপর বাস, মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কারে যেতে হবে তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা পর্যন্ত। যাত্রাপথে সময় ব্যয় হবে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। খরচ পড়বে জনপ্রতি ৫০০-১৫০০ টাকা।

ট্রেনের ক্ষেত্রে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে চলে আসতে পারেন পঞ্চগড়। তারপর বাস, মাইক্রোবাস, কার বা যেকোনও যানবাহনে চড়ে তেঁতুলিয়া যাওয়া যায়। অ্যাপল ট্যুরিজমের মাহাবুবুল আলম মন্টু জানান, মাগুরমারী চৌরাস্তা নামক এলাকা থেকে তেঁতুলিয়া বা বাংলাবান্ধা পর্যন্ত গিয়ে পর্যটকরা উপভোগ করেন কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য।

কোথায় থাকবেন
রাতে থাকার জন্য তেঁতুলিয়ায় সরকারি তিনটি ডাকবাংলোর পাশাপাশি আবাসিক হোটেলও আছে। ডাকবাংলোয় থাকতে হলে আগেভাগে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া চাই। ডাকবাংলো থেকেই দেখা যাবে দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, হিমালয়, এভারেস্ট কিংবা কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য। তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার শাহিনুর রহমান শাহিন জানান, তিনটি ডাকবাংলোর ৯টি বেডে সর্বোচ্চ ১৮ জন থাকতে পারেন। এখানে ডাকবাংলো বা হোটেল ফাঁকা না পেলে পঞ্চগড়ে যেতে হবে।
সূূূত্র: অনলাইন

এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Web Designed By : Prodip Roy