১৫০ বছরের ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে – সবুজ বাংলা নিউজ
  1. [email protected] : সবুজ বাংলা নিউজ : সবুজ বাংলা নিউজ
  2. [email protected] : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাহারোলে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কাহারোল উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন বীরগঞ্জ উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভা নিখোঁজের ৩ বছর পর ভারতীয় এক যুবককে উদ্ধার করলো সিআইডি নিখোঁজের ৩ বছর পর ভারতীয় এক যুবককে উদ্ধার করলো সিআইডি বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব কাহারোল উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটি গঠন গৌরীপুরে ‘গরীবের ডাক্তার’ সুনীল আচার্য্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন আর ও একটি এম্বুলেন্সের উদ্বোধন কুড়িগ্রাম চিলমারীতে গ্রাম পুলিশদের মাঝে সাইকেলও পোশাক বিতরণ বীরগঞ্জে ছাত্র-ছাত্রীকে আটক করে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী, ইউপি সদস্য সহ আটক-৫ বীরগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসককের মৃত্যু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে ভেঙ্গে পড়া ব্রীজ পরিদর্শনে এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু শোকাবহ আগষ্টের প্রথম প্রহরে জেলা ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন অবৈধ ভাবে ভারত থেকে ফেরার পথে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ৭ বাংলাদশী আটক বীরগঞ্জে সামান্য বৃষ্টিতে ব্রীজ ভেঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ ,দুর্ভোগে এলাকার ৫০ হাজার মানুষ

১৫০ বছরের ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

বার্তা ডেক্স
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৬৩ জন দেখেছেন


বীরগঞ্জ, দিনাজপুর থেকে বিকাশ ঘোষ॥
দিনাজপুর জেলার ১৫০ বছরের ঐতিহাসিক ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। উত্তরবঙ্গের সনাতন ধর্মালম্বী লাখ লাখ মানুষেরর বার্ষিক বিনোদনের একমাত্র ঐতিহ্যবাহী মৌসুমী বিনোদনসহ গণমানুষের মিলনমেলা হিসেবে বীরগঞ্জ উপজেলার ঢেমঢেমিয়া কালির মেলা সর্বাধিক প্রশংসিত, প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী, চাপাপাড়া ও হিরামণি মৌজায় এ মেলার অবস্থান। বাংলা ১২৮০ সাল থেকে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা পল্লী বিনোদনের ঠিকানা। প্রতি বছর কর্তিক মাসের আমাবশ্যায় সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্যামা পূজায় এ মেলার আয়োজন করা হয়। সাতদিন যাবত পূজা অর্চনা হলেও মেলা চলে মাসব্যাপী। কালিমন্দিরটি তার নিজস্ব ১ একর জমিতে একটি উচ্চ অট্টালিকা। পাশেই মাত্র কয়েক গজ পশ্চিমে দরবেশ মিরাজুন মিয়ার মাজার শরীফ রয়েছে। এক কথায় মেলার সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল গোত্রের মানুষেরা এখানে এসে এ মেলা উপভোগ করে। বছরে একবার এলাকার মানুষ বিশাল এই আয়োজনকে প্রাণভরে উপভোগ করে আসছে। পশ্চিমে ঠাকুরগাঁও, উত্তরে পঞ্চগড়, পূর্বে নীলফামারী ও দক্ষিণে দিনাজপুর। ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কয়েকটি জেলার মধ্যস্থল হওয়ায় কালিমেলা উদ্বোধনের আগে থেকেই মানুষের মাঝে সাজ সাজ রব পড়ে। সবার মুখে মুখে মেলার দিনক্ষণ গননা শুরু হয়। মেলার শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ শ্যামা পূজার প্রথম রাতে লগ্নমতে কালি পাটে চড়া। কালি পাটে চড়া অর্থাৎ মহিষ কিংবা পাঠা বলি দান। নেঁচে গেয়ে বাদ্যের তালে তালে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে উদ্বোধনী রাত্রিতে পুজারীরা আনন্দঘন পরিবেশে এ অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। কালি পাটে উঠবে এ মর্মে অনেক আগে থেকেই সোরগোল চলতে থাকে। সে আলোকে আশাবাদী দর্শকেরা মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে। মেলায় গ্রামের জনগণের মনের খোরাক অফুরন্ত বিনোদনের জন্য যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, সার্কাসসহ বিভিন্ন ইভেন্ট ও ডিজিটাল সময়ের ভ্যারাইটি, ম্যাজিক ‘শো’ সম্বলিত নানা উপকরণে ভরপুর থাকে। বছরে একটি মাস প্রত্যন্ত পল্লীর মানুষের বিনোদনের এক অপূর্ব আয়োজন ও প্রায় দেড় শত বছরের অতীত ইতিহাস হিসেবে দেশের উত্তরবঙ্গে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলা কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে। জানা গেছে, স্বর্গীয় শ্রীযুক্ত সংশয় সবকার বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বৈরবাড়ী, চাপাপাড়া ও হিরামনি মৌজায় বাংলা ১২৮০ সনে কার্তিক মাসের আমাবশ্যায় দিবাগত রাতে তাদের ধর্মীয় রীতিতে লগ্ন মোতাবেক একটি পাঠা বলীর মাধ্যমে ঢেমঢেমিয়া কালিমেলার শুভ সূচনা করা হয়। সে সময় পূজারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শ্রীযুক্ত সংশয় সবকার এবং সভাপতি ছিলেন মেলা আয়োজনে জমিদাতা জোতদারগণের অন্যতম চাপাপাড়ার বাসিন্দা মরহুম দবির উদ্দিন শাহ্; স্বল্প পরিসরে প্রথমে শুরু করা হলেও দিনান্তর মেলার বিস্তৃতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। মেলার নামানুসারে এখানে গণমানুষের সহায়তা ও আন্তরিকতায় একের পর এক স্থাপিত হয়, প্রাথমিক স্কুল. মাদ্রসা ও কালিমেলা উচ্চ বিদ্যালয়সহ নানা প্রতিষ্ঠান, ভুতুরে ধু ধু আবাদী কান্দর এলাকাটি পরিণত হয়েছে আলোকময় সভ্যতার এক অপূর্ব নিদর্শন। শিক্ষাঞ্চল হিসেবেও অনেকটাই প্রশংসার দাবিদার এই এলাকাটি। কালি মাতার সম্মানে ভক্তরা শত শত আবার কেউ কেউ হাজার হাজার নগদ অর্থ, সোনা, রূপাসহ মূল্যবান অনুদান সেবায়েতকে মায়ের তথা কালি মন্দিরের অবদান এবং উন্নয়নে দান, গুরু দক্ষিণা, প্রকাশ্য প্রণামী দিয়ে থাকেন। শ্যামা পুজার ২/৪ দিন আগে নির্মিত কালিকে ঢেমঢেমিয়া কালি মেলা মন্দির প্রাঙ্গনে পুজার উদ্দেশ্যে এলাকার হাজার হাজার সনাতন ধর্মালম্বী নারী-পুরুষেরা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নিয়ে আসেন। কালিমাতা এসে অবস্থান নেয় তার নিজস্ব অট্টালিকায়। হিন্দু ধর্ম মতে শ্যামা পুজা লাগাতার সাত দিন যাবত চলে, ঠিক লগ্নের সময় সেবায়েত পুজা আরম্ভ করেন ও আগন্তকদের ভোগ বিতরণ করা হয়। পুজারি তাদের পুঞ্জিকা অনুসরণ করেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ:
© All rights reserved © 2019 Sabuj Bangla News
Web Designed By : Prodip Roy