৮০ বছরের বৃদ্ধার দায়িত্ব নেয় না সন্তানরা এগিয়ে আসল পুলিশ

0
11
মোঃ রাব্বি ইসলাম আব্দুল্লাহ, জেলা প্রতিনিধী,নীলফামারী। ৮০ বছরের বৃদ্ধা মা আয়শা বেগম এর দায়িত্ব সন্তানরা এড়িয়ে গেলেও এড়াতে পারেনি জলঢাকা থানা,নীলফামারী পুলিশ। ঘটনাটি জলঢাকা থানাধীন নেকবক্ত গ্রামের। ঐ গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মৃতঃ আবুল হোসেন মাস্টার এর স্ত্রী মোছাঃ আয়শা বেগম।
যার রয়েছে স্বামীর তৈরি পাকা বাড়ী ও জমি, রয়েছে ০৩ ছেলে ও ০৩ মেয়ে। ১ ছেলে আমেরিকায় থাকে স্বামী মারা যাওয়ার পর হইতে মোছাঃ আয়শা বেগম স্বামীর বাড়ীতেই পুত্রদের সংসারে থাকিত।
অদ্য ইং ১৪/০৮/২০২০ খ্রিঃ তারিখে দেশে থাকা তাহার ২ ছেলে ও ছেলের বউয়েরা দেখাশুনা করা সহ খাওয়াইতে পারিবে না মর্মে জানাইলে বৃদ্ধা আয়শা বেগম মনের দুঃখে নিরুপায় হয়ে অভুক্ত অবস্থায় একটি ট্রাভেল ব্যাগে করে কাপর চোপর সহ জলঢাকা থানায় আসে।
জলঢাকা থানার নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবদ্ধি হেল্প ডেস্ক এর দায়িত্বে থাকা নারী এএসআই/মোছাঃ সাদেকা বানু দেখিতে পাইয়া তাহাকে সংশ্লিষ্ঠ ডেস্ক এ বসান এবং তাহার থানায় আগমনের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে তিনি অফিসার ইনচার্জ এর নিকট সব বলিবে মর্মে জানায়।
তাৎক্ষনিকভাবে তাহাকে অফিসার ইনচার্জ এর অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন উক্ত বৃদ্ধা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের  নিকট উপরোক্ত ঘটনার বিষয়ে বলিয়া হাউমাউ করে কান্না করিতে থাকে এবং তিনি সকাল হইতে অভুক্ত অবস্থায় আছেন বলিয়া জানায় । তখন অফিসার ইনচার্জ জলঢাকা থানার মেস হইতে খাবার নিয়া আসিয়া নিজ অফিস কক্ষ্যে উক্ত বৃদ্ধা কে খাওয়ান।
খাওয়া শেষে বিশ্রাম নেয়ার পর তাহাকে জলঢাকায় তাহার ০৩ মেয়ের বাড়ীতে যাবেন কি না জিজ্ঞাসা করা হয়। তিনি ইহা প্রত্যাক্ষান করিয়া বলেন যে, আমার স্বামী জিবদ্দশায় আমার জন্য পাকা বাড়ী ও জমি যায়গা রাখিয়া গিয়াছেন, আমি কেন সেখানে থাকিতে পারিব না ?
তখন বৃদ্ধার নিজের অধিকার সচেতনতা সম্পর্কে বুঝিতে পারিয়া তাহার দেশে থাকা ০২ ছেলেকে মোবাইলে কল করিয়া থানায় আসিয়া তাহাদের মা কে বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলিলে তাহারা দুজনই পারিবে না মর্মে জানায়।
তখন আত্মসম্মান বোধ বৃদ্ধাকে জলঢাকা থানার সরকারী গাড়ীতে করে জরুরি ডিউটিতে থাকা এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সঙ্গীয় ফোর্স সহ তাহার নিজের স্বামীর বাড়ীতে পৌছে দেয়।
এসময় বৃদ্ধার বাড়ীতে থাকা ০২ ছেলে কে বৃদ্ধা মায়ের প্রতি যত্ন বান হওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
ইহার ব্যত্বয় ঘটিলে পিতা-মাতার প্রতি ভরণ পোষণ আইনে তাহাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।
পরবর্তীতে উক্ত বৃদ্ধার কোন সমস্যা হইলে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ বা অফিসার ইনচার্জ এর মোবাইল নম্বরে ফোন দেওয়ার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়।
এসময় কান্না জড়িত কন্ঠে উক্ত বৃদ্ধা জলঢাকা থানা পুলিশকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানায়।
  • 15
    Shares