সৈয়দপুরে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

0
6

মোঃ রাব্বি ইসলাম আব্দুল্লাহ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধী। সৈয়দপুরে সরকারি রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) নোটিশ পাওয়ার পরও সরকারি রাস্তা দখল করে গড়ে তোলা পাকা ও আধাপাকা বাড়িঘর সরিয়ে নেয়া হয়নি। উপরন্তু দখলকারীরা দখলকৃত রাস্তার জায়গা কোনক্রমেই ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে অভিযোগকারীদের নানা রকম হুমকি-ধমকি প্রদশর্ন করছে তারা।

সৈয়দপুর ইউএনও বরাবর করা অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রম্মত্তর মৌজায় ব্রক্ষ্মত্তর ছয়ঘড়িয়াপাড়া গ্রাম। ওই গ্রামের ওমেদুল হকের বাড়ি পাশ দিয়ে শত বছরের পুরনো একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে। এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৫ দাগে ৪০ শতাংশ জায়গা জুড়ে থাকা সরকারি রাস্তাটি নেজামের চৌপথী – ধলাগাছ পাকা সড়কে গিয়ে মিশেছে।
সরকারি ওই রাস্তাটি দিয়ে এলাকার মানুষ স্বল্প সময়ে সৈয়দপুর শহরে আসা-যাওয়া করতো। এছাড়াও এলাকার কৃষকরা সরকারি রাস্তাটি ব্যবহার করে ব্রক্ষ্মত্তর ছয়ঘড়িয়াপাড়া সংলগ্ন ফসলি জমি থেকে খুব সহজে ফসলাদি বিভিন্ন বাহনে খুব সহজে বহন করতে পারতেন। অথচ গ্রামের গহের আলী, জালাল উদ্দিন, মো. মন্টু ও টইল্যা মামুদ ওই সরকারি রাস্তাটির সম্মুখ অংশ প্রায় ২০০ মিটার দখল করে পাকা ও আধাপাকা বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন।

অবৈধভাবে সরকারি রাস্তাটি দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করায় ১০ মিটার চওড়া রাস্তাটি বর্তমানে চিকন ‘আইলে’ পরিণত হয়েছে। ফলে রাস্তাটি দিয়ে সব রকম যানবাহন চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে পড়েছে। এমনি কি বর্তমানে আইলে পরিণত হওয়া রাস্তাটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি বন্ধ হয়ে পড়ায় সেখানে থাকা একটি ঈদগাহে মানুষজন ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতে পারছেন না।
গ্রামবাসী একটি সরকারি রাস্তা দখল করে পাকা আধাপাকা বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানে কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু অনেক দেনদরবারের পরও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম লোকমান সরকারি রাস্তার উদ্ধারে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাসিম আহমেদ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে, সরকারি রাস্তা দখলের বিষয়ে গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা তদন্ত করে দেখার জন্য উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) রমিজ আলমকে নির্দেশ দেন। ইউএনও’র নির্দেশে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অভিযোগটি তদন্তের জন্য কামারপুকুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।
কামারপুকুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা কাজী মো. শরীফুল ইসলাম প্রথম দফায় তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দখলকারীদের নোটিশ দিয়ে সাত দিনের মধ্যে সরকারি রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ অবকাঠামো সরিয়ে নিতে নির্দেশ প্রদান করেন।
কিন্তু ওই নোটিশ প্রাপ্তির পরও রাস্তা দখলকারী সরকারি রাস্তা থেকে তাদের অবকাঠামো সরিয়ে নেয়নি। পরবর্তীতে এসিল্যান্ড রমিজ আলম সরেজমিনে ওই রাস্তাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তাকে আবার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেন। তার নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গত ৯ সেপ্টেম্বর পুনরায় একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন এসিল্যান্ড বরাবরে।

এদিকে, গ্রামবাসী ওমেদুল হক অভিযোগ করে বলেন, দখলকারীরা রাস্তার দখল ছেড়ে না দিয়ে উপরন্ত তাদের নানা রকম হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করছেন।

 

 

 

 

  • 10
    Shares