যা কেবল স্মৃতিতে গাঁথা। মনে পড়ে আজো ভীষণ, তার নাম (টিভি) টেলিভিশন

0
1

উত্তম শর্মা ,নিজস্ব প্রতিবেদক, সবুজ বাংলা নিউজ  ll

মাত্র ২০-২৫ বছর আগে কথা।
যা কেবল স্মৃতিতে গাঁথা।
মনে পড়ে আজো ভীষণ,
তার নাম (টিভি) টেলিভিশন।

গ্রিক শব্দ ‘টেলি’ অর্থ দূরত্ব, আর ল্যাটিন শব্দ ‘ভিশন’ অর্থ দেখা। ১৮৬২ সালে তারের মাধ্যমে প্রথম স্থির ছবি পাঠানো সম্ভব হয়। এরপর ১৮৭৩ সালে বিজ্ঞানী মে ও স্মিথ ইলেকট্রনিক সিগনালের মাধ্যমে ছবি পাঠানোর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ব্রিটিশবিজ্ঞানী জন লগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন

পাড়া কিংবা মহল্লায় তো নাই-ই। উপজেলায় হাতে-গোনা কয়েকটি টেলিভিশন ছিল। তাও আবার সাদা-কালো। চালানো হতো ব্যাটারি দিয়ে। নির্দিষ্ট সময় পরপর সেই ব্যাটারি বহন করে নিয়ে যেতে হতো উপজেলা শহরে চার্জ করাতে। দু-আড়াই বছর পরপর সেই ব্যাটারি বাদ দিয়ে নতুন ব্যাটারি বানাতে হতো। টেলিভিশন চালানো বেশ ব্যয়বহুল ছিল। তখন গ্রামে তথ্য-বিনোদনের জন্য টেলিভিশনের (টিভি) চেয়ে ভালো মাধ্যম আর ছিল না।

টেলিভিশনে তখন বিটিভি একমাত্র চ্যানেল। এই চ্যানেলটি আবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চালু থাকত। গ্রামে তাও সব সময় ভালো দেখা যেত না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এন্টেনা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখার চেষ্টা করা হতো। কখনো কখনো ছবি এতটা অস্পষ্ট হয়ে যেত, দেখাই যেত না। তারপরও টেলিভিশন ছিল খুব কাঙ্ক্ষিত। বিশেষ করে টেলিভিশনে প্রচারিত বাংলা সিনেমা।

তখন এক মাসে একটি বাংলা সিনেমা প্রচার হতো। সেটি ছিল মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার রাতের বাংলা সংবাদের পর। সেই সিনেমা শেষ হতে হতে গভীর রাত হয়ে যেত। বিটিভির এই অনুষ্ঠানটি কত জনপ্রিয় ছিল বুঝা যেত, মাসের এই দিনটি এলে। আশপাশের কয়েক গ্রাম থেকে দর্শক এসে জড়ো হতেন টেলিভিশনের সামনে। খোলা আকাশের নিচে গভীর রাত জেগে উপভোগ করতেন। পারিবারিক কাহিনী নির্ভর সেই সব সিনেমার নায়িকার বেদনায় তারা ব্যথিত হতেন। পারিবারিক জীবনের দুঃখ-বেদনা সহ্য করে নায়ক-নায়িকারা সুদিনের জন্য ধৈর্য ধরে থাকতেন, তা থেকে শিক্ষা নিতেন। সিনেমার শেষ পর্যায়ে ভিলেনকে ক্ষমা করে দেওয়ার শিক্ষাও দর্শকরা পেতেন। আর ক্ষমা করার শিক্ষা বাধ্যতামূলক নিতে হতো টিভি ওয়ালা গৃহস্থের। টিভি দেখতে আসা মানুষের কত উৎপাত যে সহ্য করতে হতো।

পরে গ্রামে টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় টেলিভিশন চলে আসে। আসে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে।এমনকি প্রত্যেকের হাতে হাতে (মুঠোফোনে)। সেই সময় গ্রামে সিনেমা দেখার অন্যতম উপায় হিসেবে আবির্ভুত হয় ভিসিআর, যা উপজেলা শহর বা গঞ্জ থেকে ভাড়ায় এনে দেখা হতো। এই ভিসিআর নিয়ে নব্বই-এর দশকের শুরুর দিকে গ্রামে-গঞ্জে উন্মাদনার সৃষ্টি হয়, যা বেশ কয়েক বছর ধরে চলতে থাকে।

তবে এখন প্রকৃতি ও পরিবেশ বদলে গেছে। এখন আর কেউ মিলিত হয় না টিভিতে নাটক কিংবা ভিসিআরে সিনেমা দেখার জন্যে, দেখা হয় না প্রিয় ব্যক্তির কোন অভিনয়। কারণ তারা প্রত্যেকেই নাটকের এক একজন অভিনেতা। একেবারে পাকা অভিনেতা।।

  • 37
    Shares