মুজিববর্ষে নৈতিকজীবন বোধের অনুশীলনের অঙ্গিকার

0
4

মুজিববর্ষে নৈতিকজীবন বোধের অনুশীলনের অঙ্গিকার ।
আলহাজ্ব মোঃআবুসামামিঞা (ঠান্ডু)
সহকারী অধ্যাপক (অব:) সাধারণসম্পাদক
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বীরগঞ্জ,দিনাজপুর ।

নৈতিকতা হলো নীতিরঅনুশীলন। কথা ও কাজে উত্তম রীতি নীতির অনুশীলন করা, মার্জিত ও বিনয়ীহওয়া, উত্তম চরিত্র বান হওয়াইত্যাদি। অন্যায়, অশ্লীল ও অশালীন বিষয় সমূহ পরিত্যাগকরাও নৈতিকতার অন্তর্ভূক্ত। নৈতিকতা ও নীতির অনুশীলন মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। নীতি হীন মানুষ পশুর সমান। কেননা পশুর কোন রুপ নীতি বোধ নেই। সে যাইচ্ছা তাই করতে পারে। ভাল-খারাপ, কল্যাণ-অকল্যাণ কোনকিছুই সে পরোয়াকরেনা। সে শুধুনিজেরলাভ ও কল্যাণইবুঝে। নীতিহীনমানুষওঠিক তেমনি। সে কোনরুপআইন কানুন বিধি বিধান মানেনা, সে নৈতিক আচরণ পালন করেনাবরং নিজের লাভের জন্য সে অপরের ক্ষতি সাধন করে। মিথ্যা, প্রতারনা, ধোকা দেয়া, পরচর্চাইত্যাদি তারচরিত্রেফুটে উঠে। সমাজে সে নানারুপঅশান্তিসৃষ্টিকরে। কোনমানুষইতাকেভালবাসেনা। অন্যদিকে নৈতিকতামানুষকেপ্রকৃত মানুষেপরিণতকরে। নীতিবোধসম্পন্নমানুষসমাজেসকলমানুষেরশ্রদ্ধা ও ভালবাসালাভকরে। সকলেতাকে সম্মানকরে। সে সব সময়নীতি ও উত্তমআদর্শ লালনকরে, এবং নৈতিকতারবিশ্বাসমূহনিজেরজীবনেফুটিয়েতুলে। অন্যায়, অত্যাচারঅশ্লীলতা থেকে সর্বদা দুরে থাকে। সমাজেউত্তম ব্যক্তি ও আলোকিত ব্যক্তি হিসাবেসমাজেপ্রতিষ্ঠিতহয়। নিজেমার্জিতঅমায়িক, ¯েœহভাজন ও জবাবদিহীনীতিতেবিশ্বাসীহয়েপরিবার ও সামাজিক দায়িত্ব পালনেসচেষ্ট থাকে। নৈতিকবোধসম্পন্নমানুষনিজেরপারিবারিকজীবন ও সামাজিকজীবনেসৃষ্টিকর্তারআদেশ, রাষ্ট্রেরবিধি-বিধান মেনেচলে। মানুষের সঙ্গে উত্তমআচরণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা শৃঙ্খলাবোধ ও সাম্যেরশিক্ষাগ্রহণকরেসমাজেরজন্য, পরিবারেরজন্য ভালকাজকরে। অন্যকে ভালকাজেরপরামর্শ দেয়। পরিবারেরপ্রধান ব্যক্তি সৎকাজেরআদেশ ও অসৎকাজেনিষেধকরারমাধ্যমে সমাজেশান্তি শৃঙ্খলা, আনুগত্য প্রতিষ্ঠাকরে। এতে সমাজজীবনসুখ ও শান্তিময়হয়ে উঠে। উর্দ্ধত ও অশালীনচলাফেরা ও কথাবার্তা, সমাজেরমধ্যে দলাদলীতেঅংশগ্রহণকরা, কারোসম্পদ, অর্থ , সম্মান , অন্যেরজীবনে কোনপ্রকারক্ষতিসাধনকরা, ফাঁকি দেওয়া, ধোকা দেয়া, সুদ, ঘুষ, জুলুম, খুনধর্ষণঅমানবিক ও পাপেরকাজ। এছাড়া ভেজালদাতা যৌতুকগ্রহণ, ইয়াতিম, দুর্বল ও বিধবাদের সম্পদ দখলকারী, দুর্নীতিরমাধ্যমে কারোসম্পদ গ্রহণ, মানুষেরঅধিকারহরণকরাঅনৈতিককাজ। যাসমাজেরমানুষকেকষ্ট দেয় এবংসমাজেঅশান্তিসৃষ্টিকরে। জীবনেরসকল ক্ষেত্রেমনুষ্যত্ব ও নীতি আদর্শেরশিক্ষাকেধরেরাখার চেষ্টা ও চেতনাই নৈতিক ও মানবিকমুল্যবোধ। আদর্শ সমাজগঠনেরজন্য মুল্যবোধেরপ্রয়োজনঅত্যন্ত বেশী। নৈতিক ও মানবিকমূল্যবোধমানুষকেউত্তমচরিত্রবানকরেগড়েতুলে। সততা, নৈতিক ও মানবিকআচরনেরঅনুশীলনকরলেসমাজেশান্তিপ্রতিষ্ঠিতহয়। অন্যদিকে সমাজে নৈতিক ও মানবিকমূল্যবোধনা থাকলেসমাজেশান্তি থাকেনা। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ,চুরি, ছিনতাইপ্রতারনাছড়িয়েপড়ে। মানুষেরমধ্যে দয়া ,মায়া ঐক্য, ভালবাসাইত্যাদি সদগুনাবলীরচর্চা থাকেনা। মানুষপরষ্পরকেঅবিশ্বাসও সন্দেহ করে। ফলেসমাজেনানাঅরাজকতা ও অশান্তিসৃষ্টিহয়। সমাজে নৈতিক ও মানবিকমূল্যবোধপ্রতিষ্ঠারজন্য দয়া, ক্ষমা, সাম্য, মৈত্রীভ্রাতৃত্ব, ভালবাসা, পরষ্পরসহযোগীতা, বিশ্বাস যোগ্যতাইত্যাদি গুনাবলীরঅনুশীলনঅত্যন্তজরুরী। আবারমিথ্যা বলা, প্রতারনাকরা, চুরি, দুর্নীতি ,গালাগালি, হিংসাবিদ্বেষ, গর্ব, অহংকার খোশামোদ, তোষামোদ ইত্যাদি খারাপকাজ। এগুলোমানবিক আদর্শেরবিপরীত। এগুলো নৈতিকমূল্যবোধকেধ্বংসকরে। সৎগুনাবলীরঅনুশীলন ও অসৎ কর্ম কা- থেকে বেঁচে থাকারমাধ্যমে আমরাউত্তমচরিত্রবানহতেপারি। পিতা-মাতার খেদমত, আত্মীয় স্বজনপাড়া-প্রতিবেশীরপ্রতি দায়িত্বপালন, সৎজীবনযাপনেরমাধ্যমে আদর্শ পরিবারগঠন, সৃষ্টির সেবা ও সহযোগীতা, যে কোনভাবেমানুষেরউপকারকরা, অসহায়কেসাহায্য করা,বিপদে মানুষেরপাশে দাড়াঁনো, অর্থ ও মুখেরকথায়মানুষকেসাহায্য করা, মানুষেরঅধিকারআদায়েসহযোগীতাকরাইত্যাদি ভালকাজআমাদের নৈতিক ও মানবিকমূল্যবোধসম্পন্নমানুষহিসাবেগড়ে তোলে। কেননা নৈতিকতা ও মূল্যবোধমানুষেরজীবনেসবচেয়েবড় গুন আরমনুষ্যত্ব অর্জনের সাধনায়মানুষ শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকরে। আমাদের প্রিয়নবীহযরত মোহাম্মদ (সা:) বলেছেন, “সেই ব্যক্তিই সর্বশ্রেষ্ঠমানুষÑযারকাছ থেকে মানবতানানাবিধকল্যাণলাভকরে।”এভাবেসাধারণমানুষেরকল্যাণসাধনেরউদ্দেশ্যে তিনিবলেছেন কোনকাজগুলিসর্বোৎকৃষ্ট? কোনমানুষেরহৃদয়কেসন্তুষ্টকরা, কোনোক্ষুধার্তকে আহার দানকরা, কোনোবিপদ গ্রস্থ লোককেসাহায্য করা, কোনোব্যথিত লোকেরব্যাথারউপশমকরা, কোনোঅন্যায়ভাবেকষ্টপ্রাপ্ত লোকেরকষ্টেরপ্রতিকারকরা।”সকলমানুষইসমানএবংসম-মর্যাদারঅধিকারী ও একই পরিবার ভূক্ত লোকেরমত। কাজেইমানুষেরকল্যাণসাধনইমানবজীবনের সর্বশ্রেষ্ঠকর্তব্য। মানব সেবানিজমনন ও চেতনায়ধারণকরেমানুষেমানুষে সৌহাদ্য ও সম্প্রীতি সমাজজীবনেশান্তিপ্রতিষ্ঠাকরে। হিংসা, অহংকার, আত্ম মুখিতা, কৃপনতা, নিষ্ঠুরতা লোভ, ক্রোধঅনৈতিকতায় পথ দেখায়অপরদিকেবিনয়, উদারতা, দানশীলতা, দয়াদ্রতাসদাচরণইত্যাদি গুনাবলীমানুষের নৈতিকমূল্যবোধে উজ্জিবিত করেএবংসমাজসচেতনউন্নতসমাজগঠনেররুপকারহিসাবেসমাজেসমাদৃত হয়। উন্নত নৈতিকচরিত্রেরমানুষইহচ্ছে গুনিমানুষ। যিনিউত্তমআদর্শ লালনকরেআমাদের উন্নতপারিবারিকজীবনগঠন ও সমাজকেআলোর পথ দেখান। গুণীমানুষেরমহৎ কর্ম ও চারিত্রিকআদর্শ সমাজেরমধ্যে অনন্য, উজ্জল, দীপ্তমানহয়ে উঠে। তিনিসততাইসর্বোৎকৃষ্ট নীতিÑ এই আদর্শ ধারণকরেসত্যপরায়নতা ও নৈতিকআদর্শ লালনকরে সুস্থ সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনিমিথ্যা বলেননা, ওয়াদা ভঙ্গ করেননা, কারোক্ষতিসাধনকরেননা, কারো সঙ্গে প্রতারনাকরেননা, অন্যকে গাল মন্দ করেননা, মিথ্যাচার, পরনিন্দা গাল-মন্দ করাইত্যাদি নৈতিকঅবক্ষয়মূলকআচরণ। সত্য কে ধারনকরতেহবেমিথ্যাকেপরিত্যাগকরতেহবে। কেননামিথ্যা একটিজঘন্যতমঅপরাধ। এটিসকলপাপকাজেরমূল। প্রতারনা, প্রব না, অন্যেরমালগ্রহণএসবঅনৈতিক ও সমাজবিরোধীকর্মের মূলে রয়েছেমিথ্যাচার। যে সমাজেমিথ্যা বৃৃদ্ধি পায় সে সমাজ ক্রমে ক্রমে ধ্বংসেরদিকেঅগ্রসরহয়। কোনোজাতীরসামগ্রিকজীবনাচরনেসততা ও মূল্যবোধেরঅবক্ষয়ঘটলেজাতীয়জীবনে নেমেআসেবিপর্যয়ের অশনিসংকেত। শিক্ষা ও মূল্যবোধেরযথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরাজাতীকেউন্নত ও মর্যাদাবানকরেগড়েতুলতেপারি। মনুষ্যত্ব ও মানবিকতাআদর্শ লালনকরেমানবিককল্যাণেনিজেকেনিয়োজিতরাখি। আসুনআমরাসবাই অঙ্গিকার করিসুন্দরসমাজগঠনেচিন্তা ও কর্মে সৎ থেকে আদর্শ নৈতিকতা ও মূল্যবোধসৃষ্টিরলক্ষ্যে কাজকরি। সততা ও দেশপ্রেমলালনকরেউন্নতমূল্যবোধসম্পন্নজাতীগঠনেভূমিকারাখি।