বীরগঞ্জ জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ধামাচাপার দেওয়ার চেষ্টায় প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরী

0
91

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের জগদল গ্রামের পাকা রাস্তার পার্শ্বে ১৯৯৫ সালে স্থাপিত হয় জগদল বিদ্যালয়, কোড নং ৭৯৭৮ ইআইআইএনএনও ১২০০৭০। গত ১৯ আগস্ট -২০২০ দিবাগত রাতে উক্ত বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনার সংবাদ পেয়ে ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান গেটের সামনেই নৈশপ্রহরী জগদল গ্রামের মৃত: রমজান আলীর ছেলে শহিদুল (৬৫) কে সাক্ষাত পাওয়া যায়। এ সময় সেখানে একই এলাকার মোঃ সোরয়ার্দীর ছেলে সাদেক আলী ও অপর এক ব্যক্তি জাহাঙ্গীর আলমকে নৈশপ্রহরীর সাথে স্কুল গেটে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ের চুরির ঘটনা জানতে চাওয়া হলে শহিদুল সত্যতা স্বীকার করে জানায়,উল্লেখিত দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০মিটিটে সে স্কুল চত্বরে টহল শেষে তার রাত্রীযাপনের ঘরে বিশ্রাম নিতে গিয়ে নিজের অজান্তে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে অফিস রুম ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের অনুদানের তৈরি রুমের তালা ভাঙ্গা এবং ৩টি করে মোট ৬টি সিলিং ফ‍্যান চুরি হয়েছে। অন্যান্য আর কোন কিছু চুরি হয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে শহিদুল জানায়, কি কি হারিয়েছে তা প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন। এরপর তখনই উপস্থিত সকলের সামনে প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে লাউড স্পীকারে কথা বললে তিনি জানান,কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তার প্রতিষ্ঠানে ঘটেনি এবং সাংবাদিকদের উক্ত মোবাইলফোনেই ধমকের সুরে নৈশপ্রহরী শহিদুলকে চুরির ঘটনা অস্বীকার করতে বলা হয়। নৈশপ্রহরী চুরি যাওয়া ঘটনার সত্য তথ্য দিয়ে দিয়েছে বলা হলে প্রধান শিক্ষক সাংবাদিকের জানান,তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাদের ব্যাপার, থানা কিংবা ঊদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে কিনা সেটাও তাদের ব্যাপার এবং প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই হারানো জিনিস ক্রয় করে দিবেন আর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে বলে মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রধান শিক্ষকের সাক্ষাত পাওয়া যায়নি। ২২ আগষ্ট মুঠোফোনে এই চুরির ঘটনা জানেন কিনা প্রশ্নের জবাবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোছা: রাবেয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, উক্ত বিদ্যালয়ের চুরির বিষয়টি এখনো পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ আমাকে অবগত করেননি এবং বুঝলামনা প্রধান শিক্ষক কি কারণে চুরির ঘটনাটি গোপন ও আড়াল করার চেষ্টা করছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়ামিন হোসেন এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ে চুরির বিষয়টি তাকে এখন পর্যন্তও অবগত করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী ও অভিভাবকগন জানান, করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও স্কুল প্রাঙ্গণে বখাটে ও মাদকাসক্তদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়। তাদের ধারনা নৈশপ্রহরীর বৃদ্ধ(৬৫) হওয়ায় সুযোগে গোপনে কিংবা তার জ্ঞাতসারেই স্কুল প্রাঙ্গণে রাতে বখাটেদের অসামাজিক কায্যকলাপ পরিচালনা হয় এবং চুরির ঘটনা গোপন রেখে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত সেচ্ছাচারী প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর যগোসাজস তদন্ত সাপেক্ষে সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেন।

  • 44
    Shares