বীরগঞ্জে রশিদ সংকটে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, খাজনা পরিশোধ করতে পারছেনা ভূমি মালিকগণ

0
36

বিকাশ ঘোষ, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥

বীরগঞ্জে রশিদ সংকটের কারনে ভূমি উন্নয়ন কর, খাজনা খারিজ পরিশোধ করতে এসে দলে দলে ফিরে যাচ্ছে ভূমি মালিকগণ। এর ফলে সাধারন কৃষকসহ সকল শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষের সর্ব ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার লাখলাখ টাকা রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মহনপুর ও মরিচা ইউনিয়ন সমুহের ১১টি ভূমি কর্মকর্তার (তহশীল) কার্যালয় সমুহে জুলাই মাসের শুরু থেকে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের রশিদ বহি না থাকার কারণে দলে দলে আগ্রহী কৃষক জমির খাজনা দিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। ফলে সাধারন কৃষকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ খাজনা পরিশোধে ব্যার্থ হয়ে নানামুখি ভোগান্তিতে পড়েছে।

১১টি ভূমি কর্মকর্তার (তহশীল) কার্যালয়ে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধে ব্যার্থ কৃষক আমন চাষ বা ফসলী ঋণ গ্রহন বা ঋণ নবায়ন করতে পারছে না /ব্যাবসায়ী নুতন করে ব্যাংক ঋণ গ্রহন বা ঋণ নবায়ন করতে হচ্ছে না। সংসারের প্রয়োজনে টাকা নিয়েও জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে পারছে না বা টাকা পরিশোধ করেও জমি রেজিষ্ট্রি করে নিতে পারছে না।

খাজনা আদায়ে রশিদ বহি সংকটের কারনে সমগ্র উপজেলার মানুষ খাজনা পরিশোধ করতে পারছে না এবং একই কারনে লাখলাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। উপজেলার সদর সুজালপুর ইউনিয়নের (তহশীলের) ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান জানান, ৩০ জুনের পর খাজনা পরিশেধের হিরিক পড়েছে কিন্ত রশিদ সংকটের কারনে গত ২০/২৫ দিনে ৪/৫ লাখ টাকা আদায়ে ব্যার্থ হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডালিম সরকার সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, করোনা পরিস্থিতির কারনে রশিদ বহি ছাপানোর বিঘ্ন ঘটায় শুধু বীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নয় দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার সকল ভূমি অফিসে রশিদ বহির সংকট চলছে এবং রংপুর বিভাগের প্রতি জেলায় খাজনা আদায়ের রশিদ বহির সংকট রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র দিয়ে সার্বক্ষনিক খোজখবর নেয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে রশিদ বহি এসে পৌছালে তা সংগ্রহ করে ১১টি ভূমি কর্মকর্তার (তহশীল) কার্যালয়ে পৌছে দেয়া হবে।

  • 74
    Shares