বীরগঞ্জে ব্রাকের ভূট্টা বীজ ক্রয় করে কৃষক প্রতারিত

0
1

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর)প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের চাকাই কুমরপুর গ্রামের ভূট্টা চাষী মন্টু, কবির, জিয়ারুল, আব্দুল লতিফসহ ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জন গত ৩০জুন উপজেলা কৃষি অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগে জানায়, ব্রাকের ভূট্টা বীজ ক্রয় করে তাঁরা প্রতারিত হয়েছে। সাক্ষরকারী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকগণ গত ১মার্চ ও ২০ মার্চ ২০২০ ইং তারিখ পর্যন্ত পৌরশহরের খানসামা রোডস্থ হারুন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফারজানা ট্রেডার্স ও উপজেলার যদুর মোড় এলাকার মেসার্স মা-বাবা ট্রেডার্স হতে ব্রাকের ৯৯৯.২৯৩ ও ১২৪ জাতের ভূট্টা বীজ ক্রয় করে। জমিতে বীজ রোপেনের পর যাবতীয় পরিচর্যা সঠিক সময়ে করা হয়। কিন্তু ভূট্টার মোচা হওয়ার পর ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায় ভূট্টার মোচায় কোন দানা নেই। এব্যাপারে অবগত করা হলে অত্র ব্লকের উপ- সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম ভূট্টা ক্ষেত পরিদর্শন করেন। ভূট্টার মোচায় দানা না হওয়ায় কৃষকেরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বর্তমানে কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরায় কোন কাজ করতে পারছে না। নগদমূল্যে ভূট্টার বীজ করলেও দানা না হওয়ায় সার – কীটনাশকের দোকানে বাকী – বকেয়া পরিশোধ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অপরদিকে ক্ষতিপূরণের আশায় জমিতেই রয়েছে দাড়ানো ভূট্টা আর দানাহীন ভূট্টার মোচাগুলো। ফলে নতুন করে চাষ দিয়ে শাক, সবজী উৎপাদন করে বিক্রি করতে না পারায় দিশেহারা হয়ে সংসার চালানোর উপায় হারিয়ে ফেলে অনিশ্চতায়। এব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু মো. রেজা আসাদুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হারুন এন্টারপ্রাইজ ব্রাক সীডের ডিলার হারুন অর- রশিদ মেসার্স ফারজানা ট্রেডার্স ও মা বাবা ট্রেডার্সের সাথে যোগাযোগ করে ব্রাকের ভূট্টা বীজ সংশ্লিষ্ট আরএম মো. আনিসুর ইসলাম ওরফে আনিসের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, কৃষি অফিসারের নিকট সময় চেয়ে ব্রাকের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আনিসের সাথে সাংবাদিকদের কথা হলে তিনি আরো জানান, ব্রাকের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছে এবং আগামী ১৫/২০ দিন পর হয়তো কৃষকদের সাথে আপোষ- মিমাংসায় বসে শুধুমাত্র
৯৯৯ ভূট্টা বীজ রোপনকারী চাষিদের ক্ষতিপূরণ হতে পারে। অপরদিকে ব্রাক সীডের অন্য ২৯৩ ও ২২৪ জাতের ভূট্টা বীজ রোপনকারীদের কোন প্রকারে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। বীরগঞ্জে ব্রাক বীজ ডিলার হারুন-অর-রশিদ মুঠোফোনে জানান, তিনি অপর ২টি খুচরাবীজ দোকানীর নিকট উল্লেখিত ভূট্টাবীজ ৯৯৯ সহ অন্যান্যজাতগুলো (আন্ডার রেড)-এ বিক্রি করেছেন এবং খুচরা দোকানীরা হয়তো অন্য কোথাও হতে নিম্নমানের বীজ সস্তায় ক্রয় করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছে মর্মে সন্দেহাতিত ভাবে পাল্টা অভিযোগের সুরে কথা বলেন। অভিযুক্ত খুচরা দোকানী মেসার্স ফারজানার প্রোপাইটার আহসান হাবিব ও মেসার্স মা-বাবা ট্রেডার্সের ফিজার ডিলারের নিকট হতে আন্ডাররেটে ব্রাক সীড ভূট্টা বীজ ৯৯৯,২৯৩ ও ২২৪ ক্রয়ের কথা স্বীকার করলেও অন্যত্র কোথাও হতে নিম্নমানের বীজ ক্রয়-বিক্রয়ের কথা অস্বীকার করেন। তবে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিক্ষিত সফল কৃষকদের মতামত, ব্রাক সীডের এই ভূট্টা বীজ রোপনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে কোম্পানি, ডিলার ও খুচরা বীজ ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দোষারোপ করে থলের বিড়াল লুকিয়ে রেখে কাল বিলম্ব করে ক্ষতিপূরণ না দিবার পায়তারা করে কৃষক ঠকাতে লিপ্ত রয়েছে। স্লুইসগেটের আশিক ট্রেডার্সের প্রো: আশরাফুল আলমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,স্থানীয় কৃষকদের ব্রাক সীড ক্রয়-বিক্রয় ও রোপন করে রেজাল্টে ফলন ভালো না হওয়ায় ব্রাক সীডের পরিবর্তিতে
তিনিও এখন অন্যান্য কোম্পানির উন্নত মানের বীজ তুলে দিয়ে ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দানাহীন ভূট্টার ফলন পরিদর্শন করতে গেলে,চাকাই গ্রামের মৃ.নুরুল ইসলামের ছেলে ভূট্টাচাষী সাইফুল জানান, তিনিও দোকানের মোমো ছাড়াই ব্রাক সীডের ৯৯৯,২২৪ ক্রয় করে সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে রোপন করে ক্ষতিগ্রস্ত এবং পাশাপাশি খোজ করলে এমন আরোও অনেক কৃষককেই খুজে পাওয়া যাবে। যারা একই ভাবে প্রতারিত হয়েছে অথচ ১৬জন কৃষকের কেবল মাত্র ২০-২৫ একর নয়, আরোও অনেক বেশি আবাদী জমিতেই এই ভূট্টা ব্রাকসীড রোপন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রতারিত কৃষকদের অনেকেই জানায়, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা কিছুতেই ক্ষতি পুষিয়ে সার-কীটনাশক বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারবেনা এবং বর্তমানে আশা-নিরাশা আর হতাশায় ভুগছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকেরা।

  • 23
    Shares