বীরগঞ্জে গো- খাদ্য খড়ের দাম বৃদ্ধিতে চিন্তিত খাবারিরা

0
3

 

বিকাশ ঘোঘ,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ধানের পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে খড়ের দাম। গো-খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ের দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উপজেলার চরম সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য খড়ের। দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিপাকে পড়েছেন পৌরসভা ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। বর্তমানে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে খড়। করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে গবাদিপশুর (গরুর) নতুন রোগ “লাম্পি স্কিন” অন্যদিকে গো-খাদ্য খড়ের দাম বৃদ্ধি এ যেন পালে আগুন লেগেছে। ফলে মাথায় হাত পড়েছে গরু খামারি সহ উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে। পৌরশহরের উপজেলা রোডস্থ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,প্রতি পোণ (২০ গন্ডা) খড় বিক্রেয় হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৫৫০ টাকায়। বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে ঘুরে আ: মান্নান,রাসেদ, রানা, বজলু ও পোনচসহ কয়েজন খুচরা খড় বিক্রেতা জানান, আমরা গ্রাম থেকে ৪৩০ টাকা দামে প্রতি পোন খড় ক্রয় করছি এবং পরিবহন খচর হয় ২০ থেকে ৩০ টাকার মত পড়ে যায়। খামারি মানিক চক্রবর্তী জানান,খড়ের দাম গত বছরের তুলনায় এবার কয়েক গুন। একদিকে দুধের দাম কম অন্যদিকে গো-খাদ্য খড়ের দাম বৃদ্ধি। এতে করে আমাদের খামারিদের টিকে থাকায় কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে,কুড়া-ভূসির পাশাপাশি ধানের খড় গরুর জন্য উৎকৃষ্ট খাদ্য। কুড়া-ভূসির সাথে খড় কেটে ভিজিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। গরুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য এই খাদ্যের বিকল্প নেই। তাই খামার অথবা ব্যক্তিগত গরু পালনকারীদের সারা বছরের জন্য খড়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছেই। শুধু খামারিরা নন স্বপ্ল আয়ের মানুষ আমিষের চাহিদা পুরণের জন্য দু-একটা গাভী বাড়িতে লালন- পালন করেন যারা তাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে গো- খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড়ের বাজার। পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের হরিবাসর পাড়ার সমর সাহা জানান,আমরা দিন মজুর। যা আয় রোজকার হয় এতে কোনোমতে সংসার চলে। বাড়িতে দুধের চাহিদা এবং বাড়তি আয়ের জন্য দু- একটা গরু পালনে বর্তমানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খড়। বাজারে পাঁচ গন্ডা খড় কিনতে হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়। খড়ের দাম এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে আমাদের গরু পোষা বাদ দিতে হবে। পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কলেজ পাড়ার কমলা কান্ত রায় জানান, গরুর সারা বছরের খাবার হিসেবে খড়ের বিকল্প নেই। আবাদি জমিতে ঘাস নেই বললেও চলে। বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ কমে গেছে। তাই খোলা মাঠে গো চারণের কোন স্থান নেই। গরুর তিনবেলা নিয়ম করে অন্যান্য খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি খড় দিতে হয়। এভাবে যদি খড়ের বাজার বাড়তে থাকে তাহলে আমরা সাধারণ গরু পালনকারীরা কিভাবে চলব! উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু মোঃ আসাদুজ্জামান খামারিসহ কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি খামারিগণ এবং কৃষকরা বোরোধানের খড় সংগ্রহ করে রাখতে পারে তাহলে গো-খাদ্যের অভাব হবে না। তিনি আরোও বলেন, খড় সংগ্রহের পাশাপাশি নেপিয়ার ঘাসের চাষ করতে পারেন।

  • 35
    Shares