বীরগঞ্জে কারো মাস্ক হাতে কিংবা পকেটে আবার কারো থুঁতনিতে, শনাক্ত বাড়ছে

0
26

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ(দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে গণপরিবহন,রাস্তাঘাট ও উপজেলার হাট- বাজারে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। চালক হেলপার থেকে শুরু করে যাত্রী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও পথচারীদের মধ্যেও নেই আগের মতো সচেতনতা। অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে মাস্ক দেখা গেলেও কেউ কেউ তা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করছেন না। কারো মাস্ক হাতে কিংবা পকেটে। আবার কারো মুখের নিচে থুঁতনিতে। পৌর শহরে মাস্ক পড়তে দেখা গেলে গ্রামগঞ্চে তা একদম নেই মাস্ক ব্যবহার। তবে এখনো ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ১১ইউনিয়নের হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যেও দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রাস্তাঘাটে একজনের সাথে আরেকজনের শরীরের সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করে চলাফেরা করছে। সরেজমিনে দেখা যায়,পৌরশহরের বিজয় চত্বর মোড় ও দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের যথেষ্ট ভিড় দেখা গেছে। বাস আসতে না আসতেই নির্ধারিত ৫০ শতাংশ আসন ভর্তি হয়ে পড়ে। তবে বাসে যাত্রী ওঠানোর সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা শরীরের তাপমাত্রা মাপার কোনো চিত্র চোখে পড়েনি। হেলপারদের মুখেও ছিলো না মাস্ক। এ ছাড়া উপজেলার হাট-বাজারে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শত শত মানুষ ঢল দেখা যায়। এসময় দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক না পড়ে একজনের সাথে একজন ঘেঁষাঘেঁষি করে কেনাকাটা করছে। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার সর্বত্র এলাকায়। অলম পরিবহনের চালকের সহযোগী সুমন বলেন, ‘ সকাল এবং সন্ধ্যায় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। তখন মানুষ কোনো নিয়ম মানতে চায় না। জোর করে বাসে উঠে পড়ে। আমরা চেষ্টা করেও তাদের মানাতে পারি না। উল্টো বিভিন্ন ধরনের কথা শুনতে হয়। মাস্ক পড়তে বললে যাত্রীরা আমাদের কথা শুনে না। বাস যাত্রী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সকাল বেলা যাত্রীর তুলনায় যানবাহন কম থাকে তাই যাত্রী একটু বেশি থাকে। ভাড়া আগের চেয়ে ডাবল নেয়া হচ্ছে। কেউ মাস্ক মুখে রাখছে না। আরেক যাত্রীর মুখের নিচে মাস্ক রেখেছেন। সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে অনেকক্ষণ রাখতে রাখতে হাঁপিয়ে ওঠার কারণে কিছু সময় এভাবে রেখছি। বীরগঞ্জ দৈনিক বাজারে আসা সাবেক ইউপি সদস্য সাদেকদের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। কথা হলো তার সঙ্গে। তিনি বলেন,বীরগঞ্জ উপজেলায় আগের মতো করোনাভাইরাস নেই। সেই জন্য আমরাও মাস্ক আগের মতো পড়ি না। আসলে কতদিন এভাবে মাস্ক পরে থাকা যায়। তাই মাস্ক পরতে ভালো লাগে না। আল্লাহ যদি চায় মরে গেলে মরে যাবো। করোনাকে ভয় করে তো চলবে না। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:মোঃ মহাসিন আলী জানান, গতকাল ১৭ আগস্ট বীরগঞ্জ উপজেলা ১৭ জন করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছে। করোনা ভাইরাসের এই সময়ে আমাদের সবাইকে শরীরিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক বাধ্যতামূলক পরতে হবে। তা না হলে করোনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের সবাইকেই মাস্ক ছাড়া বাড়ি থেকে বের না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ডালিম সরকার জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক পরিধান না করায় গত তিনদিনে বীরগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে অভিয়ান পরিচালনা করে মোবাইলকোর্টে ১১৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধ মামলা ও ১৪ হাজার ৯ শত ৯৪ নব্বই টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

  • 15
    Shares