বীরগঞ্জে কান্ত দাসের বাদ্যযন্ত্রময় ৪৯ বছর

0
16

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

সুরের সাধনায় অনুষঙ্গ বাদ্যন্ত্র তৈরি ও মেরামত করছেন ৪৯ বছর। ঢোল,খোল,ঢোলক,ডুগি,হারমোনিয়াম,তবলা,নাল,কাঠি,ড্রামাসেন্ট এসবই তার জীবন-জীবিকার অবলম্বন। কান্ত চন্দ্র দাস বলেন, ৪৯ বছর ধরে এ সকল বাদ্যযন্ত্র মেরামত ও তৈরি করে আসছি। আমার দাদু- বাবা নগেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে এ পেশায় জড়িত ছিলেন। তিন পুরুষপরম্পরা উত্তরাধিকারী ৫২ বছর বয়সে কান্ত চন্দ্র দাস বলেন, যন্ত্র বাজে তখনই ‘যখন অন্তর বাজে’। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বলাকা মোড়স্থ হরিবাসর পাড়ায় কান্ত চন্দ্র দাসের বসবাস। তিনি আরো বলেন, এর আগে দিনাজপুর রেলবাজার বড়বন্দরে ২২ বছর কান্ত সুর নামে দোকান দেই। তিন ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। এ পেশায় থেকেই এক ছেলেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। সবমিলিয়ে আমার সংসার সুন্দর চলছিলো। কিন্তু করোনার দেশের বিভিন্ন স্থানে হরিবাসর না হওয়ার কারণে কাজ-কাম নাই বলেই চলে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পার্শ্বে ২৫ বছর বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামতের কাজ করেছি। বর্তমানে পৌরশহরের দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে কাজ করছি। ছোটবেলা বাবার কাছে কাজ শিখেছি। ঢোল,খোল,ঢোলক,ডুগি,হারমোনিয়াম,তবলা,নাল,কাঠি,ড্রামাসেন্টসহ চামড়ার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি ও মেরামত করি। বীরগঞ্জ এ কে তো মফস্বল শহর তার ওপর শহরের বাইরে দোকান করেছি। আমি ছাড়া এ কাজ কেউ করে না। তাই মোটামুটি কাজ পাই। বসে থাকতে হয় না। জমাজমি করতে পারিনি। সারাবছর খেয়ে পরে দিন চলে যায়। ছোট ছেলে রাম চন্দ্র দাস ৯ম শ্রেণীতে পড়ছে। নাটোরের জয়খালী ও ঢাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে হয়। ডুগির বডি, রিং বিড়া ঢাকা থেকে আনতে হয়। কাঠের ঢোল ও ঢোলকের বডি আননে মানিকগঞ্জ থেকে। ঢোল ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা,ঢোলক ২হাজার থেকে ২হাজার ৫০০ টাকা,ডুগি তবলা সেট ৫ হাজার, মাটির ডুগি তবলা সেট ২ হাজার থেকে ২হাজার ৫০০ টাকা,মাটির খোল আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করেন বলে জানান কান্ত চন্দ্র দাস।

  • 23
    Shares