বীরগঞ্জে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে কামারদের

0
25

বিকাশ ঘোষ,বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ব্যস্ততা বেড়েছে কামার পল্লীতে। পুরো এলাকাজুড়ে চলছে হাতুড়ি পিটানো টুং টাং শব্দ। লোহা পুড়িয়ে লাল করে পিটিয়ে দিন-রাত ধারালো দা,বটি,ছুরি,চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। তবে এবার ঈদের দিন ঘনিয়ে আসলেও প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের কারণে তেমন কেনাবেচা না চরম হওয়ায় হতাশায় ভুগছে কামাররা। গতকাল (১৯ জুলাই রোববার) বীরগঞ্জ পৌরসভার স্লুইসগেট রোডস্থ আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ খান মার্কেটে কামার পল্লীতে সরেজমিনে গিয়ে পুরো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কারিগরদের সারা শরীরে ঘাম। লোহা পুড়িয়ে লাল করে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে ব্যস্ততায় তাঁরা। কোনোদিকে তাকানোর তো দূরের কথা, খাওয়াদাওয়ার সময় নেই তাঁদের। এছাড়াও আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে অনেক মৌসুমি কামারও অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে দা,ছুরি শান দেওয়ার কাজ করছেন। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বটি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। আকৃতি ও লোহা ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছ দা। ছুরি প্রতিটি ৫০ থেকে ৩০০ টাকা,চাপাতি কেজি প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও গরু জবাইয়ের ছুরি প্রতিটি ৭শ’ থেকে ৯শ’ টাকা এবং ধার দেওয়ার স্টিল প্রতিটি ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। পুরনো যন্ত্রপাতি শান দিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কারিগর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের আসরাফ আলীর ছেলে মোঃ ফরাদ হোসেন বলেন, ২২ বছর ধরে এ পেশায় নিয়জিত আছি। প্রতিবছরই এসময়টায় অনেক ব্যস্ততায় থাকি। দিন যত গড়ায়ে ব্যস্ততা বাড়বে। প্রতিদিন খুব সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করি। চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত। কারিগর মোঃ শাহ আলম বলেন, আমি প্রায় ৬০ বছর থেকে এই পেশায় যুক্ত রয়েছি। যত কাজ তত টাকা, ভাত খাওয়ার সময় পাই না। ঈদের তিন দিন আগে থেকে বেশি ব্যস্ততা শুরু হয়। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বটি,ছুরির অর্ডার ফেরত দেওয়া হতো। কোরবানি ঈদের আগের এক সপ্তাহ ভালো আয় হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে এবছর ব্যবসা মন্দ চলছে। আরেক কামার হযরত আলী বলেন, আমি খুব ছোট থেকেই এই কাজ করছি। সারা বছর খুব একটা কাজ থাকে না। কোরবানি এলেই কাজ বেড়ে যায়। তাই এ সময়টাতে একটু বাড়তি আয়ের উদ্দেশ্যে দিন-রাত পরিশ্রম করছি। তবে ক্রেতাসাধারণদের অভিযোগ আসন্ন ঈদ মৌসুমে ক্রেতা সমাগম বেশি হওয়ায় কামাররা ইচ্ছামত দাম হাকাচ্ছেন। অন্য সময়ের তুলনায় প্রত্যেকটা সরঞ্জামের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।

  • 55
    Shares