বাঁধনহারা মানুষের উন্মুক্তস্থানে ঈদ আনন্দ

অনলাইন সংরক্ষণ

0
13

ইদের আনন্দে দলবেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা। করোনার ভয়াবহতা ভুলে গিয়ে সবাই নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে এভাবে ঘোরাঘুরিতে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্যবিদরা।

ইদের দ্বিতীয় দিন রবিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর হাতিঝিলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশায় শত শত মানুষ আসছে স্থানটিতে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের আনাগোনাও। কেউ আসছে পরিবার-স্বজন নিয়ে, কেউবা আবার বন্ধুদের সঙ্গে। কেউ এসে প্যাডেল বোট ও ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কেউ গাছতলায় শুয়ে-বসে গল্প করছেন।

মালিবাগ থেকে ছোট্ট দুই ছেলের আবদার মেটাতে হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছে ফয়সাল মাহমুদ। একটি ব্যাংকের চাকরিজীবী ফসয়াল বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে ছেলেরা বায়না ধরছে ঘুরতে যাবে। কিন্তু শিশুদের বিনোদন কেন্দ্রগুলো এখন বন্ধ, তাই এখানে নিয়ে এসেছি। কতক্ষণ হাঁটার পরে ছেলেরা বললো ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়বে। পরে টিকিট কেটে নিজেসহ ঘুরে আসলাম। মানুষের মধ্যে যতটুকু পারা যায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছি।’

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া তরুণ হাতিরঝিলে ঘুরতে এসেছে। তারা জানান, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে এখন দেখা হয় না বন্ধুদের সঙ্গে। তাই আজ সব বন্ধুরা মিলে এখানে এসে গল্প করছেন। কারও মুখে মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে সবাই পকেটে থেকে বের করে দেখিয়ে বলেন, ‘নিজেরা-নিজেরাই গল্প করছি তো, এই জন্য খুলে পকেটে রেখেছি।’

এদিকে হাতিরঝিলের মহানগর ব্রিজের ওপর কয়েকজন যুবককে ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল রেসিং করতেও দেখা গেছে। তাদের এই রেসিংয়ের কারণে হঠাৎ কোনও দুর্ঘটনা ঘটে যায় কিনা তা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন ব্রিজের দুই পাশের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষরা।

হাতিরঝিলের তুলনায় দর্শনার্থীর সংখ্যা কিছুটা কম সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরির পরিবেশ নেই দীর্ঘদিন ধরে, এমন অভিযোগ করে আসছে রাজধানীবাসী। তার বাস্তব চিত্রও দেখা যায় সেখানে।

  • 7
    Shares