প্রিয় বোন মণি আমাদের ক্ষমা করবেন, আমরা মানুষ হতে পারিনি

0
1

 

 

মিজানুর রহমান স্বাধীন ll

 

প্রিয় বোন মণি আমাদের ক্ষমা করবেন, আমরা মানুষ হতে পারিনি

কাউসার জাহান মণি।

তিনি কোম্পানীগঞ্জের রামপুর ইউনিয়নে রামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের উপ সহকারী কমিনিটি মেডিকেল অফিসার। সম্প্রতি রোগীদের সেবা দিতে গিয়েই তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

আক্রান্ত হওয়ার পর আশপাশের মানুষ আচরনে কষ্ট পেয়ে আজ সামাজিক মাধ্যমে কিছু প্রশ্ন রেখেছেন।যা নিচে হুবহু তুলে ধরলাম!

“এক কলসি পানির দাম কত…..!!!

এই মুহুর্তে মেলা দামি জিনিস এই এক কলসি বিশুদ্ধ খাবার পানি। পানি শেষ হতে লাগলে টেনশানে মাথা খারাপ হয়ে যায় পানি এনে দেবে কে??? আমার কাজের সাহায্যকারিনী প্রতিদিন পাশের বাড়ি থেকে পানি এনেদিতো এখন তাকে ফোনদিতে দিতেও ধরেনা। বহুবার ফোন দেওয়ার পর সে ফোনধরে কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে আপা সন্ধ্যায় লুকায়া পানি এনে বাসার নিচে রেখে যাবো। আমাদের পানি এনে দেয় বলে তাকে নাকি বাড়ির লোক আর পাড়াপ্রতিবেশি হেনস্তা করছে আর মারধরের হুমকিধামকি দিচ্ছে…. ওফ… কি ভয়ানক অবস্থা। প্রিয় ভাই বোন, পাড়াপ্রতিবেশি আমি কভিড-১৯ কে ভালোবেসে নিমন্ত্রণ জানিয়ে শরীরে নিয়ে আসিনি, আপনাদেরই কেউ অসুস্থ অবস্থায় সেবা নিতে এসে আমাকে দিয়ে গেসেন। অফিসটাইম শেষহওয়ার পরও, পিপিই খুলে ফেলার পরও আবদার করে আপনারা পাড়াপ্রতিবেশিরাই আসেন সেবা নিতে। হাজারবার বলার পরও মাস্ক না পরে কোন স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দাঁত কেলাতে কেলাতে আল্লাহর দোহায় দিয়ে আপনারাই রোগে শোকে আসেন। কেউ বলতে পারবেন কোনদিন কাউকে ফিরিয়ে দিয়েছি????? শোনেন এইদুনিয়ায় সবকিছু ফেরত আসে। আল্লাহর দয়ায় যদি সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসি আমি কিন্তু আবারও আপনাদের সেবা দেবো সেটা সময়ে অসময়ে যখনই হোকনা কেন। পরিশেষে এভাবে বলার জন্য কেউ যদি কষ্ট পান মাফ করে দিয়েন। কোনও অভিযোগও নেই শুধু এইটুকু বলি কষ্ট পেয়েছি ভীষণ।”

কপি

দয়া করে যারা আমরা সমাজে বসবাস করি তারা এই ধরনের দুর্ব্যবহার কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগির বা যারা আমাদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সাথে করবনা।।।তাদের অবহেলা নয়,, পাশে দাড়াবো সহযোগিতা আর সহমর্মিতার সহিত।

  • 18
    Shares