প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষ রোপনে এমপি জুঁই একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা

0
1

এল এইচ আকাশ ॥

গাছ মানুষের প্রকৃত বন্ধু। গাছ নানাভাবে মানুষের উপকার করে। ফল, ফুল, কাঠ, অক্সিজেন, ছায়া- এ সবকিছুই আমরা গাছ থেকে পাই। গাছের উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না।
ইন্ডিয়ান ফরেস্ট ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ৫০ বছর বেঁচে থাকা একটি গাছের আর্থিক সুবিধা বের করেছেন। যা হল, গাছ বায়ুদূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করে ১০ লাখ টাকার, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন দেয় ৫ লাখ টাকার, বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, মাটির ক্ষয়রোধ ও উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, বৃক্ষে বসবাসকারী প্রাণীদের খাদ্য ও আশ্রয় দিয়ে বাঁচায় ৫ লাখ টাকা, আসবাবপত্র, জ্বালানি কাঠ ও ফল সরবরাহ করে ৫ লাখ টাকার, বিভিন্ন জীবজন্তুর খাদ্য জোগান দিয়ে বাঁচায় আরও ৪০ হাজার টাকা। ৫০ বছর বেঁচে থাকা
একটি বৃক্ষের আর্থিক সুবিধার মোট মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার বিকেলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি এ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবাস্সুম জুঁই তার নিজ অর্থায়নে নিজস্ব জায়গায় বৃক্ষ রোপনকালে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, নিজের সন্তানকে যেমন লালনপালন করতে হয়, একটা গাছ লাগালে তাকেও কিন্তু যত্ন করতে হবে, লালনপালন করতে হবে।
শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছ লাগানোর পর গাছের পরিচর্যা করতে হবে। গাছ লালনপালন করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুয়ায়ী আমাদের সকলকে কমপক্ষ্যে ৩টি করে গাছ লাগাতে হবে। আমি মনে করি সবাইকে গাছের যত্ন করতে হবে। তাই সকলকে গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের যত্ন ও উদ্ভিদ বিদ্যার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হবে।
একটা গাছ লাগালে তাকেও কিন্তু যত্ন করতে হবে, তাহলে তো সে ফল দেবে। আমি ফল খাবো কিন্তু যত্ন করবো না এটা তো হয় না। আমি মনে করি সবাই গাছের যত্ন করবেন।’
যদি গাছ লাগিয়ে বাসাবাড়ির ছাদগুলোকে একটুখানি সবুজ করা যায়, তাহলে শহরের তাপমাত্রা কমে আসবে। ছাদের বাগান বাইরের তাপমাত্রার চেয়ে ঘরের তাপমাত্রা প্রায় ১.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমাতে পারে। এমনটাই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। একটা সবজির গাছ তিন মাসের জন্য তিনজনের অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। শহরগুলোতে ফাঁকা জায়গা কম। সেজন্য নতুন বাড়ির অন্তত ২৫ শতাংশ ছাদে বাগান করা উচিত।
গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আবহাওয়ার আচরণ বদলে গেছে। গরমের সময় ঠাণ্ডা, ঠাণ্ডার সময় গরম পড়ে। কৃষি উৎপাদন হ্্রাস পেয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। পরিবেশ-প্রকৃতি বাঁচাতে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। তাই গাছ লাগানোরও উৎসব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ বাংলার মানুষ পালন করতে পারে।
আমি ছোট বেলা থেকেই গাছ লাগানো, গাছের যত্ন নেওয়া, গাছের সর্ম্পকে কোন বিজ্ঞাপন বা গাছের সর্ম্পকে কোন পত্র-পত্রিকায় লেখা বিষয় গুলো মনোযোগ সহকারে পড়ি, সম্প্রতি কয়েদিক আগে যুগান্তরের এক পাতায় পড়লাম চীনের চংকিং শহরের শিক্ষার্থীদের বছরে একবার গ্রামে পাঠানো হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তখন ১০০টি করে বৃক্ষরোপণ করে। গাছ, মা, মাটির সঙ্গে তাদের সর্ম্পক উন্নত করে। বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বেশি। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় তো বটেই, ব্যক্তি পর্যায়েও গাছ লাগাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এমপি জুঁই বলেন, “মানুষ বাড়লে বন ও পরিবেশ ধ্বংস হয়। সভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন চলবে। তবে আমাদের পরিবেশও রক্ষা করতে হবে। গাছ লাগিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষা করা যায়। আবার নিজেরা লাভবান হওয়া যায়, কারণ গাছ বিক্রির টাকা আপনাদেরই সংসারে কাজে দেবে। আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ লাগিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষা করি। আর মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করি।’
বেশি করে ফলগাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাপকভাবে ফলের গাছ লাগোনো দরকার। কারণ পুষ্টির যোগান ফল থেকে আসে। যেমন আম , জাম, কাঁঠাল, ডালিম,পেয়ারা, আবার যে গুলো নদী এলাকা সেখানে আমাদের ঝাউ গাছ, খেজুর গাছ, তালগাছ এগুলো বিভিন্ন ভাবে লাগানো দরকার। করোনাভাইরাস: কোভিড-১৯ বিশ্ব মহামারি এই ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করতে আমাদের সব থেকে বেশি দরকার পুষ্টির। যা শরীরের এন্টিব্যাটিকে বাড়াতে সাহায্য করবে। বাঁচাতে হলে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।’
বেশি করে গাছ লাগাবো এবং একটি করে ফলদ, বনজ ও ভেষজ গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,সদর উপজেলার আওয়ামী মুক্তি যোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাত হোসাইন চৌধুরী, মাসুদা বেগম, দৈনিক পত্রালাপ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মোঃ লিটন হোসেন আকাশ, মিজানুর রহমান পাপ্পু সহ প্রমুখ।

  • 34
    Shares