পরনের লুঙ্গি দিয়েই হাত,পা,মুখ বেঁধে নদীর ধারে

0
0

রায়হান কবির চপল বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের বিরামপুরে ২৪জুন রাতে কাটলা হরিহরপুর গ্রামের নছির উদ্দিন (৬৫) কে খুন করে অটোচুরির ঘটনা বর্ণনা দেয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি। এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা কারায় আরো তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা আদালতে ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে চুরি যাওয়া দুটো ব্যাটারি চালিত অটোর মধ্যে ১টি উদ্ধার করলেও অন্যটি উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রয়েছে। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা(ওসি) তদন্ত মো. মতিয়ার রহমান বলেন হত্যায় সরাসরি জড়িতরা হলেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর দরগাপাড়ার কফুল উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাহার হোসেন (৪২) এবং ফুলবাড়ি উপজেলার পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে সায়েদ আলীর ছেলে মো.এবাদত হোসেন ছোটন (২৫)। বর্তমানে ছোটন নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ কাজীপাড়া ধরের পাড়া এলাকায় শশুর বাড়িতে থাকতো।
হত্যার সহযোগিতা করার অপরাধে, রংপুর বদরগঞ্জ উপজেলার মোকছেদপুর ফাঠকের ডাঙ্গা এলাকার মজিবুল ইসলামের ছেলে মো.জাহিদুল ইসলাম(৩২)একই উপজেলার মোসলমারি গাছুয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রশিদ মন্ডলের ছেলে জিয়াউর রহমান বাবু(২৮) এবং রংপুর গঙ্গাচড়া উপজেলার পাকুড়িয়া শরিফ এলাকার বাবর আলীর ছেলে মোস্তাফা ওরফে মোস্ত(৫৫) কে আটক করা হয়।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ব্যাটারি চালিত অটোর চুরি করতে এসে ‘নছির উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে দিনাজপুর আমলী আদালত-৬ এর জ্যেষ্ঠ বিচারক মো.রাশেদুল আমিন’র কাছে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটক মো.মোজাহার হোসেন(৪২),মো.এবাদত হোসেন ছোটন (২৫)।
ওসি আরও বলেন আদালতের জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোজাহার ও ছোটন বলে,‘ উত্তরবঙ্গে তাদের একটি ব্যাটারি চালিত অটো চোরের চক্র রয়েছে। তারা বেশ কিছু দিন থেকে কাটলা হরিহরপুর গ্রামের মিলের চার্জে দেওয়া অটো গুলো চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪ জুন রাতে ওই মিলের আশে পাশে একত্র হয়ে সময়ের অপেক্ষা করতে থাকে। রাত ১.৩০ মিনিটের দিকে মোজাহার ও এবাদত হোসেন ওই হাসঙ্কিং মিলের দক্ষিণ পাশের বেড়া কেটে মিলে প্রবেশ করে। এরপর মিলের মধ্যে চার্জে দেওয়া অটোগুলোর মধ্যে নতুন দুটো অটো নেওয়ার পরিকল্পনা করে । কিন্তু মিলের মূল দরজার তালা থাকায় মিলের মধ্যে শুয়ে থাকা নছির উদ্দিনের কাছে চাবি চায় তারা। এতে নছির উদ্দিন চাবি দিতে অস্বীকার,চিৎকারের চেষ্ঠা করলে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে অজ্ঞান করে মাথায় চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে নছির উদ্দিনের পরনের লুঙ্গী দিয়ে হাত ও পা বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে বেশ দূরে শাখা যমুনা নদীর ধারে মৃত ভেবে ফেলে দিয়ে দুটো অটো নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের ছেলে নুরে আলম বলেন, ২৪ জুন বুধবার দিবা গত গভীর রাতে কোন এক সময় খুনিরা হাসঙ্কিং মিলের দক্ষিন পাশের বেড়া কেটে প্রবেশ করে আমার বাবা নছির উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে শাখা যমুনা নদীর ধারে হাত,পা,ও মূখ বেঁধে ফেলে রেখে মিলের ভেতর চার্জে থাকা দুটো অটোচার্জার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ভোর রাতে প্রতিবেশিদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই জন্য ২৫তারিখ বৃহস্পতিবার সকালে অজ্ঞাত নামা বেশ কয়েক জনকে আসামী করে বিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করি।
ব্যাটারি চালিত অটোর চুরি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা(ওসি) তদন্ত মো. মতিয়ার রহমান বলেন,‘নছির উদ্দিনের খুনের ঘটনার দিন থেকে জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম বার স্যারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় অপরাধিদের ধরতে বিভিন্ন এলাকয় অভিযান চালানো হয়। প্রথমে মো.এবাদত হোসেন ছোটন (২৫) কে আটকের একদিন পর মো.মোজাহার হোসেন(৪২)কে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যে মো.জাহিদুল ইসলাম(৩২)কে আটক করা হয়।
এরপর ৬ জুলাই সোমবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে জিয়াউর রহমান বাবু(২৮) ও এবং রংপুর সদর থেকে মোস্তফা ওরফে মোস্ত(৫৫)কে চুরি হওয়া অটো চার্জারসহ আটক করে দিনাজপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির বলেন ব্যাটারি চালিত অটোর চুরির হত্যা মামলা হওয়ার সাথে সাথে বিরামপুর সিনিয়র সার্কেল মিথুন সরকার ও দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম বার স্যারের নির্দেশ ক্রমে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামীদেরকে ধরতে পেরেছি আর যাতে এই ধরণের কোন ঘটনা কেউ ঘটাতে না পারে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ সিনিয়র সার্কেল মিথুন সরকার জানান এই অটো চার্জার চুরির বড় একটি সংঘবদ্ধ দল আছে,এরা চুরি করা অটো রংপুরে বিক্র করে,এই চুরি ও খুনের সাথে জড়িত ৫ জনকে ধরতে পেরেছি বাকিদের ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে সেই সাথে এলাকার সর্ব সাধারণ লোক জন পুলিশের পাশাপাশি সজাগ থাকলে এই ধরণের অপরাধ আর হবে না।
দিনাজপুর পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম বার জানান শুধু দিনাজপুর জেলা না সব জায়গাতে এই ধরনের চত্রু আছে, এই বিরামপুরের বিষয়টিকে কেন্দ্র করে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে অটো চুরি ও খুনিদেরকে ধরতে পেরেছি এর সাথে আরও যারা জড়িত আছে তাদেরকে ধরার অভিযান অব্যাহত আছে সেই সাথে এমন ঘটনা আর যেন না ঘটে তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

রায়হান কবির চপল
বিরামপুর, দিনাজপুর
০১৭১৬১৫৭৯৫৫
তাং ০৮.০৭.২০২০

  • 38
    Shares