নিজের জীবনের ঝুকি ও সন্তানদের ছেড়ে করোনা রোগীর পাশে ইয়াসমিন খাতুন

0
3

রুবেল ইসলাম,  নিজস্ব প্রতিবেদক  ll

নিজের দুই মেয়েসন্তান ও পরিবারের সঙ্গে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার, ধাপেরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য-সহকারী ইয়াসমিন খাতুন। প্রতিদিন‘কোভিট-১৯ নমুনা সংগ্রহ করছেন, সেবার ব্রত নিয়ে নমুনা সংগ্রহে গিয়ে তিনি খুব কাছ থেকে করোনা রোগীদের শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে ছটফট করতে দেখেছেন। কর্মহীন মানুষের আত্ননাত, মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের অন্বেষায় ছুটে বেড়াচ্ছে। এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাধ আছে কিন্তুু সাধ্য নেই তার, তবুও যতটা পারি নিজের বেতন থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। নিজের সন্তানের জন্য বাড়তি খরচ না করে সেটা অনাহারী মানুষের মুখে তুলে দেন। খুব ইচ্ছা করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। ছোট থেকেই আমি মানুষের কষ্ট সহ্য করতে পারেন না। তিনি করোনা কালে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করছেন নিজের ব্যক্তিগত অর্থায়নে।

কথাগুলো বলছিলেন ধাপেরহাট ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ করোনা রোগীদের সেবায় কর্মরত সাহসী সেবিকা ইয়াসমিন খাতুন। সেইসঙ্গে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তুলে ধরেন কিছু অভিজ্ঞতার কথাও।

প্রথমত করোনা সংক্রামিত হ্রাস পাওয়ায় কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে পরিবারের কাছে থাকবেন বলে জানিয়েছিলেন ইয়াসমিন।
কিন্তু ভাইরাস মহামারি আকার ধারন করায়, থাকা হলো না একসাথে। ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি এবং আমরা চাই, মানবিকভাবে এই বিপর্যয়ে করোনায় আক্রান্তদের পাশে থেকে সেবা দিতে।

ইয়াসমিনের স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে পুরো সংসারের খরচ তাকেই চালাতে হয়। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানদের সঙ্গে বেয়ালীদহ গ্রামের একটি বাড়িতে থাকেন ইয়াসমিন।
করোনায় আক্রান্তদের সেবায় আত্মনিয়োগের পর অজানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরে ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রথম দিন যখন করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলাম, তখন অজানা আশঙ্কা ও ভয়ে বুক ধুকধুক করছিল। বারবার চোখের সামনে বাবা-মা ও দুই কন্যাসন্তান ঊষা ও জিমতার চেহারা ভেসে আসছিল।

এই মুমূর্ষু রোগীর সেবা করতে গিয়ে আমিও আক্রান্ত হলে, আমার কিছু হয়ে গেলে ওদের কী হবে!’
করোনাভাইরাসের সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন ইয়াসমিন খাতুন।

এই সেবিকা আরো বলেন, ‘তবু কর্তব্য পালনের ব্রত নিয়ে নিজে দায়িত্ব চেয়ে সামনে এগিয়ে যাই। নমুনা সংগ্রহের জন্য বিশেষ ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) মাস্ক ও চোখে গ্লাস পরার পর প্রথম দিকে কোনোভাবেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছিলাম না।

তারপরেও পিপিই ও মাস্ক পরে নমুনা সংগ্রহ করতে যাই। এভাবে রোগীদের সেবা করতে গিয়ে কিছুটা অভ্যস্ত হয়ে যাই।’

সাহসী এই সেবিকা সেবামূলক কাজে নিজেই দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দায়িত্বে আছেন আরো বেশ কয়েকজন সহকর্মী। তিনি বলেন, ‘এই সময়ে তাঁদের পেয়ে আমার ক্ষেত্রে কাজ করা সহজ হয়েছে।’

এদিকে, কিছু অভিযোগও তুলে ধরেছেন তিনি। নিজ উদ্যোগে সংক্রমণ রোধে সংগ্রাম করে চালিয়ে এসেও, অনেক বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন আবার অনেকের চোখে শত্রু হয়েছেন। কিন্তু তার লক্ষ্য এই এলাকার মানুষকে সুস্থ রাখা।

প্রশাসনসহ বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি। রোগীদের সেবা দেওয়ার ব্যাপারে ইয়াসমিন জানান,

এ পর্যন্ত নব্বই জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এর মধ্যে বারো জনের নমুনা পজিটিভ এসেছে। আটজন করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চারজনকে সুস্থ করে বাড়িতে যেতে সাহায্য করা হয়েছে।

দুই মেয়েকে ফেলে কাজ করার জন্য খুব একটা খারাপ লাগেনি ইয়াসমিনের ; বরং পেশাদার সেবিকা হিসেবে মুমূর্ষু রোগীর সেবা করতে পেরে নিজেকে গর্বিত বলে মনে করেন তিনি।

  • 28
    Shares