ধামরাই গরু খামারিরা এরা দুধ দিয়ে খুব সুখে দিন কাটাচ্ছে

0
23

মিজানুর রহমান (ধামরাই) প্রতিনিধিঃ

ধামরাই গরু মোটাতাজা করে গেরস্ত বা খামাড়ীরা লাভবান হলেও দুধের চাহিদা, ভাল দাম ও নিয়মিত আয়ের কারণে দুধেল গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তা বা খামারীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
জানা যায়, গরু মোটা তাজাকরণ লাভজনক হলেও গরু পালন করতে দরিদ্র কৃষক বা নিম্ন আয়ের গেরস্ত এমনকি অনেক সময় বড় খামারীদেরও অর্থ কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। কারণ মোটাতাজা গরু বিক্রির দিন পর্যন্ত ওই গরুর পেছনে খাদ্য, চিকিৎসা ও লালন পালনের জন্য শুধু ব্যয় করেই যেতে হয়, কোন প্রকার রিটার্ন আসে না। এককালীন অর্থ আসে গরু বিক্রির পর। আর যদি দুর্ভাগ্যক্রমে গরু চুরি কিংবা মারা যায় সে ক্ষেত্রে খামারী একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়ে। কিন্তু দুধেল গাভী পালনের সুবিধা হলো প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায় তাতে গরুর খাদ্য, চিকিৎসা ও লালন পালন ব্যয় পুষিয়েও নিয়মিত খামারী নিজে খরচ করতে পারেন। আবার অর্থ সঞ্চয়ও করতে পারেন।
তাছাড়া মূলধন হিসেবে গাভী এবং বাঁছুড় তো থেকেই যায়। অর্থাৎ দুধেল গাভী পালন হচ্ছে গাভী লালন-পালনের খরচের যোগান এবং উপার্জনের একটা চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি দুধালো গাভী সোনার ডিম পাড়া হাঁসের মতই। ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকায় দুধেল গাভী পালনকারী এসডিআইয়ের নারী উদ্যোক্তা জামেলা বেগমের খামারে গিয়ে দেখা যায় তার খামারে কয়েকটি দুধেল গাভী রয়েছে। স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলেই তারা খামার পরিচালনা করছেন।
তারা জানান, খামারের প্রতিটি গাভী প্রতিদিন ১৮ থেকে ২২ লিটার দুধ দেয়। প্রতি লিটার দুধের গড় বিক্রয় মূল্য ৫৫ টাকা। প্রতিটি গাভীর পেছনে দৈনিক খরচ হয় দুই থেকে আড়াইশত টাকা। তিনি আরও জানান, দুধেল গাভী পালনের সুবিধা হলো দুধ বিক্রি করে প্রতিদিন যে আয় হয় তা থেকে গাভী পালন, নিজেদের খরচ মিটিয়েও নিয়মিত টাকা সঞ্চয় করা যায়। তাই দুধেল গাভী পালন করে তারা লাভবান এবং ভাল আছে।
এদিকে বেসরকারি সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা এসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সামছুল হক জানান, ধামরাইয়ে তাদের প্রায় ছয় হাজার উদ্যোক্তা রয়েছেন যারা দুধেল গাভী পালন করছেন। গাভী পালনকারী এ উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই নারী। নিজেদের দুধের চাহিদা মিটিয়ে দুধ বিক্রি করে প্রতিদিন নগদ অর্থ আয়ের সুবিধা পাচ্ছে বলে দুধালো গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।
এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাঈদুর রহমান জানান, বাজারে দুধের পর্যাপ্ত চাহিদা, উপযুক্ত মূল্য ও নিয়মিত আয়ের কারণে দুধেল গাভী পালনের প্রতি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও দুধেল গাভী পালনকে উৎসাহিত করছি