দিনাজপুরে ভুট্রা উৎপাদনে বর্তমান অবস্থা ও চেলেঞ্জ উত্তরন শীর্ষক কর্মশালা ভুট্রা একটি লাভজনক অর্থকরি উচ্চ ফলনশীল ফসল… ড. এম. এছারাইল হোসেন

0
5

দয়ারাম রায়,ষ্টাফরিপোটার .

 

বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষনা ইনষ্টিটিউটের মহাপরিচালক আন্তজার্র্তিক খ্যাতিসম্পন্ন কৃষি প্রকৌশলী প্রখ্যাত কৃষিবিদ ড. এম. এছরাইল হোসেন বলেছেন, ভুট্রা একটি লাভজনক অর্থকরি উচ্চ ফলনশীল ফসল। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ সহ বিভিন্ন জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ ফসলের চাষাবাদের উজ্জ¦ল সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে এই কৃষি ও কৃষক বান্ধব সরকার গম ও ভুট্রা আবাদ সম্প্রসারনের লক্ষ্যে দিনাজপুরে ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে ভুট্রার তৈরি কর্ণওয়েল তেল, কর্নফ্লেক্স, বেবিকর্ন, পপকর্ণ, চিপ, চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে খাওয়া উপযোগী ও রকমারী সুস্বাধু পুষ্টিমান সম্পন্ন বিস্কুট রুটি সহ কনফেকশনারী খাদ্যে ভুট্রার ব্যবহার এবং কদর যতই দিন যাচ্ছে ততই বেড়ে চলেছে। গমের সাথে ৩০%-৩৫% ভুট্রার আটা সংমিশ্রনে সু-স্বাদু পুষ্টিযুক্ত আটা বাজারে কম দানে পাওয়া যাচ্ছে যা স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী। এই আটার তৈরি খাদ্যমান খুবই ভাল। অতিতে শুধু মাত্র মৎস্য ও হাঁস-মুরগীর পোল্ট্রি ফার্মে ও পশু খাদ্য হিসেবে ভুট্রার ব্যবহার করা হত। এখন ভুট্রার বহুমূখী ব্যবহার বেড়েছে।
গতকাল বাংলাদেশ গম ও ভুট্রা গবেষনা ইনষ্টিটিউট নশিপুর দিনাজপুরে বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ বদরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে মহাপরিচালক ড. এম এছারাইল হোসেন “ভুট্রা উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা ও চেলেঞ্জ সমূহ শীর্ষক” এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত বক্তব্য পেশ করেন। ড. এছারাইল হোসেন বলেন, বারি, ডবিøউএমআরআই অনেক উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের ভুট্রার জাত উদ্ভাবন করেছে যা কৃষক সম্প্রদায় চাষাবাদ করে অনেক লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীন ভুট্রার চাহিদা ৬৫-৬৬ লক্ষ মেঃ টন , আর উৎপাদন হচ্ছে ৫৪ লক্ষ মেঃ টন। অবশিষ্ট ভুট্রা বিভিন্ন দেশ হতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যায় করে আনতে হচ্ছে। আমরা আসন্ন ভুট্রা মৌসুমে যদি ডি.এ.ই , বিএডিসি, বিভিন্ন কৃষি ভিত্তিক এনজিও, সীড কোম্পানী ও কৃষক সম্প্রদায় খুবই মনোযেগ দিয়ে ভুট্রা আবাদ করি তাহলে ইনশাল্লাহ ৮০/৮২ লক্ষ মেট্রিক টন ভুট্রা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। বর্তমানে অনেক ব্যবসায়ী ভারত, নেপাল ও ভুটানে ভুট্রা রপ্তানী করে যথেষ্ট মুনাফা অর্জন করছে।
মহাপরিচালক বলেন, মঙ্গা কবলিত, হাওড় বেষ্টিত উপকূলীয় ও বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকায়, চরাঞ্চলে সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলের উচু-মাঝারী উচু ও নিন্মাঞ্চলের পতিত এবং আবাদ যোগ্য কৃষি জমিতে,এবং অধুনা বিলুপ্ত ছিট মহলে হাইব্রীড ও উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্রার আবাদ বাড়াতে হবে। পপকর্ণ , বেবিকর্ণ, খইভুট্রা, মিষ্টি ভুট্রা সহ নানান প্রকারের ৮০-৮৫ টি হাইব্রীড জাতের ভুট্রা দেশে আবাদ হচ্ছে। মহাপরিচালক বলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে পতিত আবাদযোগ্য জমিতে ভুট্রা চাষাবাদ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একগুচ্ছ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে যা এ মৌসুম থেকে বাস্তাবায়ন করা হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডবিøউএমআরআই ও বারি উদ্ভাবিত ১৬ ও ৯ জাতের ভুট্রার ব্যাপক ফলন হচ্ছে। এছাড়াও পাইওনিয়ার-৯২, পাইওনিয়ার-৩৩৫৫ জাতের ভুট্রা ৪৮ শতাংশ জমিতে ৮০-৮৫ মন আদর্শ চাষী গন উৎপাদন করে থাকে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আবু জামান সরকার বলেন, ভুট্রা আবাদের ব্যাপক সম্ভাপনা দেখা দিয়েছে। রোগ বালাই নেই বললেই চলে,শুধু মাত্র ফল আর্মিয়াম ছিদ্রকারী পোকাটি ফসল নষ্ট করে।
উক্ত অনুষ্ঠানে ভট্রা বিজ্ঞানী প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আলমগীর মিয়া , বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ভুট্রা বিজ্ঞানী ড. আসগর আহমেদ বলেন, ভুট্রা আবাদের প্রচুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সমগ্র বাংলাদেশের মাটি ভুট্রা আবাদের জন্য খুবই উপযোগী। তবে সবচেয়ে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের মাটি ভুট্রা আবাদের জন্য মানান সই। কৃষককূল ন্যায্য মূল্য পেলে ভুট্রা অচিরেই দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য হিসেবে গন্য হবে। রংপুর বিভাগের আদর্শ চাষী, উপজেলা কৃষি অফিসার, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষি সম্প্রসারন অফিসার সহ অন্যান্য কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীগন তাদের গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, আগামীতে ব্যাপক ভাবে ভুট্রার আবাদ সম্প্রসারিত হবে ও ফলন বাড়বে।
সভাপতির বক্তব্যে মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড, মোঃ বদরুজ্জামান বলেন মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব সারের ব্যাপক ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় সুষম সারের কোন বিকল্প নেই। মৃত্তিকা গবেষনা ইনস্টিটিউটকে বিনা মূল্যে মাটি পরীক্ষা করার জন্য কৃষক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিহেক্টরে (২৪৭ শতক জমিতে) ভুট্রার ৯-৭৫ মেঃ টন গড় ফলন পাওয়া যাচ্ছে। লাগসই কৃষি প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক কলাকৌশল, কৃষি যন্ত্রপাতি, নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োগ করতে পারলে ১১-১২ লক্ষ মেট্রিক টন গড় ফলন পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদ্ধর্তন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ মাহফুজ বাজ্জাজ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

 

  • 3
    Shares