তালায় টি,আর,এম প্রকল্পের ক্ষতি পূরন ও বাঁধ সংস্কারের দাবীতে মত বিনিময় সভা

0
0

 

এন ইসলাম,তালা( সাতক্ষীরা)

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তনয়া দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত কপোতাক্ষ নদের হারানো যৌবন ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে কপোতাক্ষ নদ খননের জন্য ২০১১ -১২ অর্থ বছরে ২৬২ কোটি বরাদ্দ দেন যার সংগে সংযুক্ত ছিল খেশরা,জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের তালা উপজেলার পাখিমারা বিলের জমিতে টি,আর,এম প্রকল্প। গত ২৭ মে সকাল ১১ টায় আম্পানে ক্ষতি গ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জমির ক্ষতি গ্রস্থ মালিকদের ক্ষতি পূরনের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা পরিষদের সন্মেলন কক্ষে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের তালা উপজেলা সমন্বয়ক সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সরদার রফিকুল ইসলাম।তিনি বলেন পাখিমারা বিলে ১৬৬১ একর জমির উপর টি,আর,এম বাস্তবায়নের জন্য পেরিফেরিয়াল বাঁধ নির্মানের জন্য তৎকালীন ও বর্তমান জালালপুর ইউ,পি চেয়ারম্যান এম,মফিদুল হক লিটু, ও খেশরা ইউ,পি চেয়ারম্যান মোঃ লিয়াকত হোসেন ওয়াপদা ওপ্রশাসনের যোগ সাজসে ব্যাপক দূর্নীতির মাধ্যমে তিন চতুর্থাংশ কাজ নিজেরা ঠিকাদারের বাঁধ তৈরীর নামে প্রকল্পের সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে এবং অর্খ লুটপাটের মধ্য দিয়ে দূর্বল বাঁধের মাধ্যমে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে জমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু হয় এবং অধিগ্রহনকৃত জমির মালিকদের কে ক্ষতিপূরন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ৭০/৭৫ ভাগ মানুষ মাত্র দুই বছরের ক্ষতিপূরন পেয়েছে।ক্ষতি গ্রস্থ হাজার ও মানুষ ৮/৯ বছর টাকা না পেয়ে অদ্যবধি ইট ভাটা সহ অমানবিক পেশায় নিয়োজিত হয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করে কপোতাক্ষ বাঁচানোর স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করে চলেছে।কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের উপদেষ্টা ও ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়ল বলেন কপোতাক্ষ খননের ফলে আজ জোযারভাটা প্রবাহিত হচ্ছে। কপোতাক্ষের ধারের ৫০ লক্ষাধিক অধিবাসী ফিরে পেয়েছে জীবন জীবিকার সন্ধান।অথচ ঘূর্নি ঝড় আম্পানের ফলে বাঁধ ক্ষতি গ্রস্থ হলে ও জেলা উপজেলা প্রশাসনের কাউকে এক সপ্তাহে ক্ষতি গ্রস্থ বাঁধ এলাকায় দেখা মেলেনি।ক্ষতি গ্রস্থ বাঁধ সংস্কার করা না হলে ৩ টি ইউনিয়নের ৮ টি গ্রাম সহ সুদুর সাতক্ষীরা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে।সম্প্রতি তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কতৃক আম্পানে ক্ষতি গ্রস্থদের তালিকায় টি,আর,এম’র ক্ষতি গ্রস্থ বাঁধের নাম নাই।টি,আর,এম উৎস মুখে বাঁধ না দিলে ক্ষতি গ্রস্থ বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হবে না।যত দিন ক্ষতি গ্রস্থ জমির মালিকরা টাকা না পায় ততদিন জীবন জীবিকার জন্য ভিজিএফ সহ সরকারি সহায়তা প্রদান করতে হবে।ডিসি,ইউ,এন,ও ও ওয়াপদার অবহেলার কারনে বাঁধ নির্মানে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তিরা শুভংকরের ফাঁকি দেয়ায় আজ বাঁধ টিকছে না যার ফলে ঐ এলাকার জন সাধারন রয়েছে চরম আতংকে আতংকিত।তিনি আর ও বলেন তিন দিনের ভিতর বাঁধ সংস্কার সহ ক্ষতি পূরন দেয়ার ব্যবস্থা করা না হলে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘেঁরা ও সহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।তিনি আর ও বলেন কপোতাক্ষের মরা বাঁচার উপর নির্ভর করছে ৫০ লক্ষ লোকের জীবন জীবিকা।জমির মালিকদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও টি,আর,এম এলাকার বাসিন্দা মোঃ রবিউল ইসলাম মুক্তি। উক্ত মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা -০১ ( তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস,এম,মোস্তফা কামাল,পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তোহিদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমান,খেশরা ইউ,পি চেযার ম্যান রাজীব হোসেন রাজু, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা আওযামী লীগ নেতা প্রভাষক প্রনব ঘোষ বাবলু, জেলা পরিষদ সদস্য উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর জাকির হোসেন প্রমুখ।অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক প্রভাষক হিরন্ময় মন্ডল, জালালপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ দাশ, তালা উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম,এন,জি,ও প্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজ ও ক্ষতি গ্রস্থ জমির মালিকরা। মত বিনিময় সভা শেষে অতিথি বৃন্দ সরেজমিনে ক্ষতি গ্রস্থ বাঁধ সহ টি,আর,এম’র বাস্তব চিত্র পরিদর্শনে যান।