ডোমার থেকে ব্যক্তিগত কাজে জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ে এসছিলেন

0
12

বুধবার দুপুরে ডোমার থেকে ব্যক্তিগত কাজে জেলা শহরের কালীবাড়ি মোড়ে এসছিলেন ময়নুল হক (৩৫)। মাস্ক না পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন,‘আমার মাস্কটা পুরাতন হয়ে গন্ধ হয়েছে, তাই ফেলে দিয়েছি। শহরে এসেছি, এখন কিনবো।’

মড়াল সংঘ মড়োরের দর্জি দোকানের কর্মচারী আরিফ হোসেন (২৮) মাস্ক ছাড়া ঘুড়ে বেড়াচ্ছিলন ওই মোড়ে। এসময় তাকে মাস্ক ছাড়া ঘুরার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,‘ মসজিদে নামাজে গেছিলাম, তাই মাস্ক সাথে নেইনি, এখন দোকানে গিয়ে মাস্ক পড়বো। একই ভাবে ওই মোড়ের দোকান কর্মচারী মমিন ইসলাম (১৮) ও মাসুদ (২৭) ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মাস্ক বীহিন। এসময় তারা বলেন, ‘ সামন্য কাজে দোকান থেকে বাহিরে এসেছি, মাস্ক দোকানে আছে।’ ওই মোড়ের বাইসাইকেল মেরামতকারী মজিবুল ইসলাম (৪৫) ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মাস্ক ছাড়া। এসময় তিনি বলেন,‘শার্টের পকেটে মাস্ক আছে। অনেকইতো পড়ছেন না, তাই পকেটে রেখেছি।’

এদিকে বিভিন্ন বিপনী বিতানসহ জনবহুল এলাকায় আগে যে ভাবে শারিরীক দূরত্বসহ স্বাস্থ্য বিধি মেনে মানুষের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছিলো এখন সেটির বালাইও নেই। কেউ মানছেনা শারিরীক দূরত্বসহ স্বাস্থ্য বিধি। এমন দৃশ্য দেখা গেলে শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে বড়বাজার পর্যন্ত সকল বিপনী বিতান, বাজারসহ জনবহুল স্থান গুলোতে।

এদিকে মাস্ক পড়ে জেলা শহরে এসেছেন সদরের চওড়া বড়গাছা ইউনিয়নের নতিবাড়ি গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৬০)। তিনি নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার করেন কি না জানতে চাইলে বলেন, আমার পরিবারের লোক সংখ্যা ১৬জন। আমরা প্রত্যেকে বাড়ির বাহিরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করি, সাবান দিয়ে দিনে অসংখ্যবার হাত ধুই। কারণ নিজেকে সুস্থ্য রাখতে আমরা এটা করি।

তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের অধিকাংশ মানুষই মাস্ক ব্যবহার করেছেন না। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। আমার গ্রামের হাট বাজারে যারা মাস্ক ব্যবহার করেন না, তাদের মাস্ক পড়তে বললে তারা আমার কথায় হাসেন, আর বলে এনাকে (আমাকে) করোনা ধরেছে। আসলে মানুষ সচেতন হচ্ছে না। এজন্য আইনের প্রয়োগ জরুরী হয়ে পড়েছে।

এবিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি তাহমিনুল হক বলেন, ‘মানুষজন মাস্ক ছাড়াই অবাধে চলাচল করছেন। কেউ মানছেন না শারিরীক দূরত্বসহ স্বাস্থ্য বিধি। এই দৃশ্য জেলা ও উপজেলার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতার পাশাপাশি আইনের প্রয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।”

বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার বলেন, “নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিনই শহরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছেন। জরিমানা করে তাদের মাস্ক পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও মানুষ আইন মানছেন না।” তিনি বলেন, “শুধু আইন দিয়ে সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব না। আইনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

  • 6
    Shares