করোনা আক্রান্ত ছিলো না লিটন

0
3

 

বিকাশ ঘোষ,সবুজ বাংলা নিউজ:

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম লিটন। মৃত্যুর পর জানা গেছে, লিটন করোনা আক্রান্ত ছিল না। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা পরিবার ও স্বজনরা। লিটনের মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও গাফলতিকেই দায়ী করছেন তারা। সঠিক তদন্ত করে বিচার দাবি করছে শোকার্ত পরিবারটি। প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে পরিবার।

বিদেশী একটি বায়িং হাউজের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত থাকার কারণেই স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান নিয়ে লিটন রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থান করছিলেন। চারভাই ও এক বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট লিটন, বাড়ীতে আসলেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করতো। গত বৃহস্পতিবার লিটনের লাশবাহী গাড়ী আসার পর, পৃথিবীর সব শোকের ছায়া আচ্ছন্ন করে ফেলেছে পরিবারটিকে।

লিটনের স্ত্রী ফৌজিয়া আক্তার জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্ট হওয়ার জন্য বুধবার স্বামীকে নিয়ে যান, রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করোনা সন্দেহে বন্ডে সই নিয়ে আইসোলেশন সেন্টারে নিয়ে যায়। ভর্তির পর লিটনকে আইসোলেশনে রাখা হয়। রাতে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। স্বামীর মৃত্যুর জন্য হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছে ফৌজিয়া। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

লিটনের বড়ভাই ও বোন জানিয়েছেন, করোনা সন্দেহে তাকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখলেও সে করোনা আক্রান্ত ছিলো না। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় নেয়া নমুনার রিপোর্ট আসে মৃত্যুর পর যেখানে দেখা যায় লিটনের করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। অব্যবস্থাপনা ও গাফিলাতির কারনেই অগ্নিকাণ্ডে লিটনের মুত্যু হয়েছে দাবি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

পরিবারের মতো এমন মর্মান্তিক মৃত্যুকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না লিটনের স্বজন ও প্রতিবেশীরাও। গত ২৭ মে বুধবার রাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের বর্ধিত অংশে করোনা ইউনিটে আগুন লাগে। অগ্নিকান্ডে সেখানে থাকা পাঁচ রোগী মারা যান তাদের মধ্যে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের রিয়াজুল ইসলাম লিটনও মারা যায়।

  • 24
    Shares