করুন কাহিনীর শিশু মনিকার মুখে আজ উজ্জল হাসি স্বপ্ন লেখাপড়া করে চাকুরি করে মানুষের সেবা করার

0
30

প্রতিবেদন……

মোঃরশিদুল ইসলাম টিপু l

 

কাহারোল উপজেলার ৬ নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ গ্রামের অজিত কুমারের নবম শ্রেনীর ছাত্রী- শিশু কন্যা মনিকা রায় বয়স যখন ৫/৬ বছর মা-বাবা দুজনেই অভাবের তারনায় এক পর্যায়ে মামার বাড়িতে রেখে চলে যায় আর ফিরেনি মা-বাবা তার খোজে।
একদিন আমাদের প্রতিনিধি মোঃরশিদুল ইসলাম টিপু খোজ পায় একান্ত সাক্ষাতে কোথা বলার প্রয়াস মনিকার সাথে এক পর্যায়ে সুযোগ মিললো মনিকার সাথে কোথা বলার এমতা অবস্থায় তার নিকট শুনতে চায় বিরল কাহিনী শুরু হলো তার কোথা মনিকার কোথা শুনশুনতে এক পর্যায়ে আবেগে দুর্বল হয়ে পরে আমাদের প্রতিনিধি তবুও শুনতে না পারলে মনে হয় কি যেন হারিয়ে ফেলার মতো।
মনিকা বলেন’-
আমি যখন খুব ছোট আমার বাবা- মা আমাকে রেখে চলে যায়।
আমার মামা আমাকে মামার বাড়ীতে নিয়ে আসে আমি আমার মাড়ীতেই বড় হোই!
তাদের পরিবারটি ছিলো অতি দরিদ্র পরিবার।
সেই পরিবারের উপার্জনশীল একমাত্র ব্যাক্তি ছিলো আমার মামা। তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিলো চার জন জমে গেলাম আমি।আমি সহ পরিবারের সংখ্যা পাচ জন। আমি আমার মামার বাড়ীতেই পড়াশুনা করি আমার মামা একজন দিন মুজুর দিনমুজুর হিসেবে কাজ করে।
মামার এত অল্প উপার্জনে সংসারে চলতো অভাব আর অভিযোগে চলতো না সংসার। মিলতোনা ভালোমন্দ খাবার পড়তে পারতাম না রুচিশীল পোশাক’ পারতো না পড়াশুনার খরচ চালাতে আমি তখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তখন একদিন অনেক কষ্টের সাথে বলতে হলো মামার নিজের মুখে মা আমি আর তোমার পড়াশুনার খরচ দিতে পারছিনা তুই পড়াশুনা বাদ দিয়ে দে।
এক পর্যায়ে আর্থিক অভাবের তারনায় স্কুল হতে ঝরে পরি।যাওয়া হয়না আর স্কুলে দেখা হয়না বন্ধু বান্ধব ও বান্ধবীদের। খেলাধুলায় আমি খুব ভালো ছিলাম সে থেকেও বিনোদনহীন হয়ে পরলাম। সময় কাটাতে হচ্ছিল বাড়ীর বিভিন্ন কাজের সাথে।
এক পর্যায়ে শ্রমজিবি শিশুর তালিকায় পরে গেলাম। শ্রমদিতে হয় অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজে কাটাতে হয় নিরবতায়। একসময় নিরাশ হয়ে ছেরেই দিয়েছিলাম স্বপ্ন দেখা।
এমন এক সময় আমার গ্রামে একটি এনজিও মিটিং হলো শ্রমজীবী শিশুর অভিভাবকদের নিয়ে তা হলো ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ।
তাদের ফেসিলিলেটর অজয় কুমার রায় মিটিং শেষে আমার মামা-মামীর সাথে আলোচনা পর্যালোচনা করেন এবং লেখাপরা বাদ দিলে আমার জীবন অনিশ্চিত সে বিষয়ে সচেতন করেন। তারপর তিনি আমার মামা-মামীকে ওয়ার্ল্ডভিশন এর একটি প্রজেক্ট শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা নিরশন ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ প্রকল্প রয়েছে এর কার্যক্রম বিষয়ে বুঝান।
আমাকে আবার স্কুলে ভর্তির পরামর্শ দেন।
এবং স্থানীয় শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যগন আমার মামা-মামীকে নিশ্চয়তা দেন উনারা আমাকে সেলাই প্রশিক্ষন এর পরামর্শ দেন অতপর ওয়ার্ল্ডভিশন এর সহযোগীতায় ৪৮ দিনের প্রশিক্ষনে অংশ গ্রহন করি এবং প্রশিক্ষন শেষে আমাকে সেই প্রকল্প হতে একটি সেলাই মেশিন সার্টিফিকেট দেন।
আমি এখন বর্তমানে সেলাই মেশিনে স্থানীয় গ্রামের মানুষের কাপর সেলাই করি প্রতিনিয়ত ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করি এছারাও নিজের জন্য পরিবারের জন্য রুচিসম্মত পোশাক তৈরী করে নিজেই পরি শুধু তাই না আমি আবার স্কুলে ভর্তি হোই।
এছারাও বিভিন্ন মিটিং করে আমি এখন অনেক সচেতন হোই আমি এখন আমার অধিকার সম্পর্কে সচেতন।আমি চেষ্টা করিআমার পারপাশ্বিক শিশু-অভিভাবকদের সচেতন করি।আমি এখন নিজেকে সাবলম্বী মনে করি।
আমার স্বপ্ন এখন একটাই আমি এখন নবম শ্রেণিতে পরছি আমি উচ্চশিক্ষা লাভকরে দেশ ও মানুষের সেবামুল একটা সরকারী চাকরি করবো আমার মতো আর কোন শিশু জেন অর্থের কারনে শ্রম না দেয় এবং স্কুল থেকে না ঝরে পরে এটাই আমার স্বপ্ন সেই সাথে ধন্যবাদ জানাতে চাই ওয়ার্ল্ডভিশনকে এবং স্থানীয় কমিটির সদস্যদেরকে তারা আমার জীবনযাত্রা গতিময় করে গড়েতোলার জন্য।

  • 34
    Shares