আজ ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস

0
18

বিকাশ ঘোষ,নিজস্ব প্রতিবেদক :

আজ সোমবার ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস। আজ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ১৯৯৫ সালের এই দিনে দিনাজপুরে কিছু বিপথগামী পুলিশের হাতে তরুণী ইয়াসমিন পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়।

এর প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন দিনাজপুরবাসী। এতে চড়াও হয়ে পুলিশ, প্রতিবাদী জনতার ওপর গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় শতাধিক প্রতিবাদী জনতা। এই পৈশাচিক ঘটনায় বাংলাদেশসহ প্রতিবাদের ঝড় উঠে বিশ্বব্যাপী। এরপর থেকেই ২৪ আগস্ট দেশব্যাপী নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস পালিত হয়ে আসছে। এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও নারীর অধিকার সংগঠনগুলি এই দিবসটি পালন করে আসছে।

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওগামী নৈশ কোচের সুপারভাইজার দিনাজপুরের যাত্রী ইয়াসমিনকে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে একটি চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয়দের সামনে নামিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরই সেখানে রাতে কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের একটি দল পৌঁছায়, ইয়াসমিনকে দিনাজপুর শহরে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পিক আপ ভ্যানে তুলে নেয়।এরপর পুলিশ দশমাইল সংলগ্ন সাধনা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। সকালে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে সকাল সারে ১০টার দিকে মনোরঞ্জন শীল গোপাল খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ন্যায় বিচারের দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তিনি সমাবেশে বলেছিলেন ইয়াসমিন হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত জোরালো ভাবে আন্দোলনের ভূমিকা রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

এই ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা কোতোয়ালি থানা ঘেরাও করে।

এ সময় পুলিশ বিনা উস্কানিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে তিনজনকে হত্যা করে। এতে আহত হয় প্রায় শতাধিক মানুষ। এতে উত্তেজিত জনতা তিনটি পুলিশ ফাঁড়ি, চারটি পুলিশ পিক আপ জ্বালিয়ে দিয়ে কোতোয়ালি থানায় আক্রমণ চালায়। শহরের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ জারি করা হয় এবং শহরে নামানো হয় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি)।

তৎকালীন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার দোষী পুলিশ সদস্যদের বরখাস্ত ও গ্রেফতার এবং তৎকালীন পুলিশ সুপার মোতালেব হোসেন, জেলা প্রশাসক আব্দুল জব্বারসহ কোতোয়ালি থানায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

পরবর্তীতে এই ঘটনায় ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরে বিশেষ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পুলিশের এএসআই ময়নুল হোসেন, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও অমৃতলালকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

ওই দিনের ঘটনায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে অন্যতম মনোরঞ্জন শীল গোপাল (বর্তমান দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য) বলেন, নারীর সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষায় সেদিন দিনাজপুরবাসী রাস্তায় নেমেছিল প্রতিবাদ জানাতে।

এছাড়াও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নারী নির্যাতন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেত্রীরা।

  • 44
    Shares