এক রাতেই কালভার্টের সামনে টিনের বাড়ি নির্মান’ দুই’শ একর ফসলি জমি পানির নিচে

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

0
9

দিনাজপুরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাসিত হওয়ার কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে একরাতেই টিনের বাড়ি তৈরী করায় চিরিরবন্দর উপজেলার প্রায় দুই’শ একর আবাদি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া ৫ শত পরিবার পানি বন্দি হয়ে চরম দূর্ভোগ জীবনযাপন করছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার স্থানীয় কৃষকরা ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে ২৬২ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছে। কালভার্টের মুখে পানি যাওয়ার রাস্তায় বাড়ি নির্মাণের ফলে অল্প বৃষ্টিতেই আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার কৃষক বছরে এক বার শুধু বোরো ধান চাষ করে। ফলে জমি থাকা সত্বেও অনেকে আমন ধান আবাদ করতে না পেরে কষ্টে জীবনযাপন করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের খামার পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের পূত্র রবিউল আলম সরকার ও একই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের পূত্র আজাহার আলী ও তার ছোট ভাই সোহেল রানা বাবু বৃষ্টির পানি নিষ্কাসিত হওয়ার একমাত্র কালভার্টের মুখটি মাটি ভরাট করে একরাতেই লোকজন লাগিয়ে টিনের বাড়ি তৈরী করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মান করেছে। এতে ওই এলাকার বাসুদেবপুর,জয়দেবপুর,শ্যামনগর গ্রামের প্রায় দুই’শ একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে” পানিবন্দি হয়েছে ১ হাজার মানুষ। এছাড়া ওই এলাকার অর্ধশতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী ও চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। অপরদিকে ওই এলাকায় চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ ১০থেকে ১৫টি রাস্তা বেশিরভাগ সময় পানি ও কাঁদা জমে থাকছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা মোবাশ্বের আলম বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে তারা ওই টিনের বাড়িটি তৈরী করে এর ফলে  আমার প্রায় ১২ বিঘা জমিতে বছরে একবারে বোরো ধান ফলাই। অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমাট থাকার কারনে আমন ধান লাগালেও তা বেশিরভাগ সময় ডুবে থাকে। এতে অনেকবার আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

বানিয়াপাড়া, প্যারামানিক পাড়া, মৌলবিপাড়া, জয়দেবপুর হিন্দুপাড়ার আব্দুল কাদের,আবু তাহের, মকছেদ আলী, রমজান আলীসহ অনেকে বলেন, বাসুদেবপুর শ্যামনগর ও জয়দেবপুর হয়ে দুই’শ একর জমির পানি ও ৫ শতাধিক বাড়ির পানি ওই কালভার্টের নিচ দিয়ে বের হয়ে যেত কিন্তু বর্তমানে কালভার্টটি বন্ধ করায় আমন ধান চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জমিগুলো অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকছে।

টিনের বাড়ির মালিক আজাহার আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, বাড়িটি আমার ছোট ভাই সোহেল রানা বাবু কিছুদিন আগেই তৈরী করেছে। তবে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা এখানে অনেক আগে থেকেই বন্ধ আছে। বর্ষা পানি বেশী হলে আমাদের কি করার আছে।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, অভিযোগের পেক্ষিতে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এলাকাবাসীর সাথে আলোচনা করে খুব দ্রুত এর সমাধান করা হবে।

  • 7
    Shares