নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলিকে সরাতে মরিয়া কামাল

0
7

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) নির্বাহী চেয়ারম্যান পুষ্প কামাল দহল প্রচণ্ড তার ও প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির মধ্যে চলমান বৈঠকে কোন ফলাফল না আসায় দলটির কর্মীদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বৈঠকে ওলি প্রধানমন্ত্রী পদের পাশাপাশি এনসিপির সহ-চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে অস্বীকার করেছেন। সাম্প্রতিক সময়গুলোতে মতপার্থক্য নিরসনে ক্ষমতাসীন দলটির শীর্ষ এই দুই নেতার মাঝে কমপক্ষে ১০টি বৈঠক হয়েছে।

nift

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা প্রচণ্ড অভিযোগ করেছেন, কেপি শর্মা ওলি এনসিপি-কে ওয়ান ম্যান আর্মিতে পরিণত করতে চান। ক্ষমতা চীরস্থায়ী করতেই তার এই প্রচেষ্টা। দলের নির্দেশ অমান্য করে নিজেকে নেপালের সর্বময় কর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি।

নেপালের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দলের দুই শীর্ষ নেতা মাধব নেপাল ও ঝালাননাথ খানাল এবং মুখপাত্র নারায়ণ কাজী শ্রেষ্ঠাকে নিয়ে সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়েছিলেন পুষ্পকুমার দহল ওরফে প্রচণ্ড। সেখানে ওলির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা অর্জন করা আমাদের মূল লক্ষ্য নয়। আমরা চাই নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি যেন সঠিক নীতি মেনে পরিচালিত হয়। তাই দলের মধ্যে পদ দখলের জন্য কোনো চেষ্টাই করি না। কিন্তু, এখন দলের মধ্যে যে খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওলি দলের বর্ষীয়ান নেতাদের ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছেন তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছি।’

নিজের গদি ধরে রাখার জন্যই ওলি অন্য রাজনৈতিক দল তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রচণ্ড। বলেন, ‘ওলির কথা মেনে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও দলের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যানের পদে রাখতে রাজি হয়েছি আমরা। কিন্তু, ওলি তাতেও সন্তুষ্ট হচ্ছেন না। নিজেকে সর্বশক্তিমান করে তোলার জন্য পার্টির মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন। দলের শীর্ষস্তর থেকে অনুমোদন না নিয়েই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। অন্য দল গঠনের জন্য কিছু লোকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও জমা দিয়েছেন। এর ফলে দলের ঐক্য নষ্ট হচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। দলের ভালর জন্য আমরা সবকিছু করার চেষ্টা করছি তারপরও দেশের কমিউনিস্টদের বলব সবরকম খারাপ পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকুন।’

২৮ শে জুলাই প্রধানমন্ত্রী ওলি নবমবারের জন্য দলের স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন স্থগিত করেছেন। ওলি মতপার্থক্য নিরসনে সেক্রেটারিয়েট মিটিং ডাকতে চাইলেও প্রচণ্ড তাতে সাড়া দেননি। বলেছেন, ২৮ জুলাই স্থায়ী কমিটির বৈঠক স্থগিত হওয়ায় সেক্রেটারিয়েট মিটিং ডাকা অনুচিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী ওলি চাইছেন সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে আন্তঃদলীয় বিরোধের মূল বিষয়গুলো সমাধান করতে। কারণ সেখানে তার ৯ সদস্যের কমিটিতে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।

  • 1
    Share