নীলফামারী স্বাস্থ্য বিভাগের সিএইচসিপি মহব্বত কারাগারে

রাব্বি ইসলাম আব্দুল্লাহ, জেলা   প্রতিনিধি

0
15
 নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার মেডিকেল মোড়ে অবস্থিত “স্বপ্ন সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন” সমবায় সমিতি লিঃ এর সদস্যদের মারপিট করে অর্থ আত্মসাৎ ও সমিতি কক্ষ ভাংচুরের মামলার প্রধান আসামী মহব্বত হোসেন মোঃবারী কে(৪০) সোমবার(১০ আগষ্ট/২০২০) কারাগারে পাঠিয়েছেন নীলফামারী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ডিমলা উপজেলার আমলী আদালতের) বিচারক মেহেদি হাসান। এ দিন উক্ত প্রধান আসামী সহ মামলার অপর ৬ আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত ওই মামলার বাকী ৫ জন আসামীকে জামিন দিয়ে প্রধান আসামী মহব্বত হোসেন মোঃ বারীকে জেলা কারাগাড়ে প্রেরনের আদেশ দেন। মহব্বত হোসেন মোঃবারী নীলফামারী স্বাস্থ্য বিভাগের ডিমলা উপজেলার গাছবাড়ী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার(সিএইচসিপি) ও উক্ত সমবায় সমিতির সহসভাপতি এবং প্রকল্প পরিচালক।
জামিন প্রাপ্ত অন্যান্য ৫ আসামীরা হলো, ডিমলা উপজেলার দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের প্রধান আসামীর ভাই সোহেল রানা(৩৫), প্রধান আসামীর স্ত্রী হামিদা আক্তার(৩০), দ্বিতীয় আসামীর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা(২৮) ও গয়াবাড়ী মতিরবাজার এলাকার মহুবার রহমান(৪৫)।
জানা যায়, ডিমলার দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামের আবুল কাশেম কালুর স্ত্রী মায়া আক্তার (৪৯) চলতি বছরের ১৮ মার্চ উক্ত ৬ জনকে আসামী করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত ডিমলা বরাবর একটি পিটিশন মামলা (নম্বর ৩৩/২০) দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরন করেন। ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাশেম সরকার আদালতের আদেশে উক্ত ঘটনার তদন্ত পূর্বক ঘটনার সত্যতা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলেন মামলার ১ নম্বর আসামী ষড়যন্ত্রমূলক সমিতি দখল করে পেশী শক্তির বলে সমিতির সভাপতি মাহামুদুল হাসান মামুনকে সমিতির কার্যালয় ভাংচুর ও মরিপিট করে বের করে দেয়। উক্ত সমিতিতে মামুনের দুই লাখ ৩হাজার ৪৪৭ টাকা আত্মসাৎ করেন।এ সময় মামুনের স্ত্রী আরজু হুসায়রা তনু ও তার মা মায়া আক্তারকেও আসামীরা মারপিট করে। ইউপি চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন পেয়ে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গত রবিবার (৯ আগষ্ট/২০২০) মামলার ৬ আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করলে আসামীরা সোমবার(১০ আগষ্ট) আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করে। আদালত ওই মামলার প্রধান আসামীকে কারাগাড়ে প্রেরন ও বাকী ৫ জন আসামীকে জামিন প্রদান করেন।
উক্ত মামলার বাদীনী ও স্বাক্ষীগন গণমাধ্যম কর্মীদের অভিযোগ করে জানান, প্রধান আসামী মহববতের বাবা আবুল কাশেম একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে প্রধান আসামী মহব্বত সন্ত্রাসী কায়দায় চলাফেরা করে। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। প্রধান আসামী মহব্বত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে স্বাস্থ্য বিভাগে সরকারী চাকুরী লাভ করে। বর্তমানে সে ডিমলা উপজেলার গাছবাড়ী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার(সিএইচসিপি) কর্মরত। অভিযোগ মতে সে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বলে যা খুশী তাই করতে পারেনা। এতে সে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মানসম্মান বিনস্ট করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, মহব্বত হোসেন মোঃবারী স্বাস্থ্য বিভাগের ডিমলা উপজেলার গাছবাড়ী কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। তিনি ১০ আগষ্ট একদিনের ছুটি নিয়েছেন। তার ১১ আগষ্ট জন্মাষ্টামীর সরকারী ছুটি। তাকে ১২ আগষ্ট কাজে যোগদান করতে হবে। কিন্তু একটি মামলায় তিনি ১০ আগষ্ট থেকে জেলা কারাগারে রয়েছে তা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অবগত নন।
  • 11
    Shares